এম এম রহমান, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, ইছামতি এসব নদী বেষ্টিত জনপদ মুন্সীগঞ্জ । ঢাকা থেকে এই লোকালয়ের দূরত্ব মাত্র ২৮ কিলোমিটার। কিন্তু তারপরও যাতায়াত ব্যবস্থাই অন্যতম সমস্যা মুন্সীগঞ্জ বাসীর। পানি পথে যাতায়াত সবচেয়ে সহজ কিন্তু এতো বছরেও গড়ে উঠেনি ভালো কোন টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা।
ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জের উপর দিয়ে চলে বরিশাল, চাঁদপুরসহ দক্ষিন বঙ্গের বেশীরভাগ লঞ্চ। কিন্তু অভাক করার বিষয় ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জ ঘাটে থামেনা কোন লঞ্চ। তাই মাঝ নদীতেই এভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা লঞ্চে ওঠানামা করে। দিনের কোন কোন সময়ে হাতেগোনা ঢাকা এবং চাঁদপুরগামী লঞ্চ মুন্সীগঞ্জ ঘাটে ভিড়ে কয়েকটি যাত্রীবাহি লঞ্চ।
এছাড়া সারাদিন মুন্সীগঞ্জ ঘাটের কাছাকাছি এসে মাঝ নদীতে ঢাকা এবং চাঁদপুরগামী লঞ্চগুলো যাত্রী ওঠানামা করার জন্য অপেক্ষায় থাকে। বেশীলভাগ সময়ে লঞ্চগুলো চলন্ত অবস্থায় যাত্রী ওঠানামা করে থাকেন। এতে করে যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঝ নদীতে এভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা এবং চাঁদপুরগামী লঞ্চে চড়ে যাত্রীরা। অন্যদিকে নদীতে ভরা বর্ষায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে নারায়গঞ্জ টু মুন্সীগঞ্জ নৌরুটে চলাচল করে ছোট ছোট প্রায় ৩০টি। ধলেশ্বরী নদী দখল করে সিমেন্ট কোম্পানির শত শত মালবাহী জাহাজ, কার্গো নোঙ্গর করে রেখেছে। ফলে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়েই চলাচল করছে লঞ্চসহ অন্যান্য নৌযান।
যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকা যাওয়ার জন্য তাদের জন্য নির্দিষ্ট কোন লঞ্চ নেই। মুন্সীগঞ্জ ঘাটে ভিড়ে না ঢাকাগামী কোন লঞ্চ। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ট্রলারের মাধ্যমে চাঁদপুর টু ঢাকাগামী লঞ্চে যাতায়াত করে মুন্সীগঞ্জের যাত্রীদের। অধিকাংশ যাত্রী দ্বিগুন ভাড়া দিয়ে নৌপথে ছোট লঞ্চ দিয়ে নারায়গঞ্জ হয়ে সড়ক পথে ঢাকা শহরে যাতায়াত করে প্রতিনিয়ত।
নৌপথে নারায়নগঞ্জ যেতেও পড়ে নানান ধরনের প্রতিবন্ধকতায় । নৌরুটে নানান প্রতিবন্ধকতা দূরিকরন এবং চাঁদপুর টু ঢাকাগামী লঞ্চ মুন্সীগঞ্জ ঘাটে ভিড়ানোর উদ্যোগ গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।
মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট ইজারাদারদের অভিযোগ, বার বার লিখিত আবেদন করেও কোন ফলাফল পায়নি তারা। ঢাকা টু চাঁদপুর রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলো মুন্সীগঞ্জ ঘাটে ভিড়ানোর কোন ব্যবস্থা নেয়নি নৌ পরিবহন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়।
স/ম

