মৌলভীবাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘিরে রাখা জঙ্গি আস্তানার দুটি বাাড়িই তিন মাস আগে প্রাণ-আরএফএলের ম্যানেজার পরিচয়ে ভাড়া নেন দুই ব্যক্তি। এর মধ্যে টিনশেড বাড়িটি ভাড়া নেন বেলাল আহমেদ নামে এক ব্যক্তি, আর বড়হাটের নির্মাণাধীন তিনতলা বাড়িটি তিন মাস আগে একই প্রতিষ্ঠানের মানেজার পরিচয়ে ভাড়া ভাড়া নেন মাহফুজ আহমেদ নামে আরেকব্যক্তি।
রহস্যজনক ঘটনা হলো, এর আগে সিলেটের শিববাড়িতে জঙ্গি আস্তানা `আতিয়া মহল` ভাড়া নেবার সময়ও একই পরিচয় দিয়েছিল জঙ্গিরা।
মৌলভীবাজারের এই দুই বাড়ির মালিক লন্ডন প্রবাসী সাইফুর রহমান। তার বাড়ি দেখ শোনা করতেন কেয়ারটেকার জুয়েল মিয়া (৩৫)। বুধবার রাতে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে তিনি জানান, প্রাণ-আরএফএলের ম্যানেজার পরিচয়ে মাসিক ৬ হাজার ৬০০ টাকায় ভাড়া নেন বেলাল আহমেদ। এ বাড়িতে বেলাল, তার স্ত্রী ও শ্যালক থাকতেন। তারা তিনজন খুব ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতেন এবং রাতে বাড়ি ফিরতেন।, বরহাটের নির্মাণাধীন তিনতলা বাড়িটি প্রাণ-আরএফএল’র ম্যানেজার পরিচয়েই মাহফুজ আহমেদ নামে আরেক ব্যক্তি ভাড়া নেনমাসিক ৭ হাজার ২০০ টাকায়। ওই বাসায় থাকতেন মাহফুজ, তার চার সন্তান, স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ীসহ ৮ জন।
সিলেটের শিব বাড়িতে আতিয়া মহলেও প্রাণ-আরএফএল কোম্পানির কর্মকর্তা পরিচয়ে জঙ্গিরা ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়ার পর মৌলভীবাজারের একই প্রতিষ্ঠানে নাম ব্যবহার তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতুহল্। গোয়েন্দারা এরই মধ্যে একই পরিচয় ব্যবহার করার পেছেন অন্য কোনো যোগসূত্রে তা খতিয়ে দেখছেন।
মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্তি পুলিশ সুপার রওশনুজ্জামান সিদ্দিকী জানিয়েছেন, তারা ধারণা করছেন জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা ওই বাড়ি দুটিতে মোট ১১ জন জঙ্গি অবস্থান করছে। অন্য জঙ্গিদের সম্পর্কে তথ্য পেতে তাদের জীবিত আটকের সর্বাত্মক চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
এদিকে পুলিশের একটি সূত্রে জানায়, মৌলভীবাজার জেলায় জঙ্গি আস্তানার খবর তিনদিন আগেই গোয়েন্দা পুলিশের কাছে পৌছে যায়। সিলেটের আতিয়া মহলে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চলাকালীন সময়েই গোয়েন্দা পুলিশ গোপন একটি সূত্র জেলা সদরের বড়হাট এলাকার জঙ্গি আস্তানার খবর নিশ্চিত করে। এ আস্তানায় আতিয়া মহলের অভিযান শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই তিনদিন সাদা পোশাকে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে সদস্যরা সাদা পোশাকে মৌলভীবাজার শহরের প্রধান সড়ক থেকে প্রায় ৫০০ গজ ভেতরে বড়হাট আবুশাহ (রঃ) দাখিল মাদ্রাসা নির্মাণধীন তিনতলা বাড়িটিকে নজরবন্দি রাখে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আতিয়া মহলে অভিযানের সফল সমাপ্তি ঘোষণার পর মৌলভীবাজার মৌলভী বাজারের ওই জঙ্গি আস্তানায় পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা অভিযান চালানোর পদক্ষেপ নেয়। দিনগত মধ্য রাতের পর ওই বাড়িটি ঘিরে ফেলার পর খবর আসে। সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের সরকার বাজারের কাছে ফতেপুর গ্রামে আরেকটি আস্তানাতেও রয়েছে বেশ কয়েকজন জঙ্গি। ওউ বাড়িটিও দ্রুততার সঙ্গে ঘেরাও করে লিশের বিশেষ ক্রাইম রেসপন্স টিমের (সিআরটি) সদস্যরা।
এই দুই জঙ্গি আস্তানার দুরত্ব প্রায় প্রায় ২০ কিলোমিটার। বুধবার (২৯ মার্চ) দুপুরের দিকে দু’টি জঙ্গি আস্তানায় বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। সন্ধায় উপজেলার ফতেপুরের নাসিরপুরের বাগানবাড়ির জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের সোয়াট (স্পেশাল উইপন্স অ্যান্ড ট্যাকটিস) টিমের সদস্যদের অভিযান শুরু করে। রাতে আলোকস্বল্পতার কারণে আপাতত তা স্থগিত করা হয়েছে। সকাল থেকে আস্তানাটিতে ফের অভিযান শুরু হবে।
এদিকে বড়হাটের জঙ্গি আস্তানা সন্ধ্যা ছয়টা থেকে ঘেরাও করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। নাসিরপুরের অভিযান শেষ করে এতে সোয়াটবাহিনী অভিযান চালবে বলে জানা গেছে।

