♦ জাহিদুল ইসলাম, কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি:
গ্রেফতার এড়াতে আতœহত্যার হুমকি দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার চাচার ওপর হামলাকারী মামলার প্রধান আসামী ইলিয়াস মুন্সী (৩৭) এর। বৃস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাঠালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে ভান্ডারিয়া থানা পুলিশের সহায়তায় ভান্ডারিয়ার দক্ষিন শিয়ালকাঠি গ্রামের ইলিয়াস মুন্সীর মামা প্রবাসী নাজির তালুকদারের বাসায় দীর্ঘ ৮ ঘন্টা অভিযানের পর তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
কাঠালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদ হোসেন জানান, গ্রেফতারের কৌশল হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাদা পোশাকে পুলিশ সাংবাদিক পরিচয়ে ইলিয়াস মুন্সীর সাথে কথা বলতে যায় ওই বাসায়। সু-চতুর ইলিয়াস মুন্সী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসার সমস্ত দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়। গ্রেফতার করার চেষ্টা করলে সিলিং ফ্যানের সাথে রশি দিয়ে আতœহত্যার হুমকি দেয়।
খবর পেয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল তালুকদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুহুল কুদ্দুসসহ জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাদের উপস্থিতিতে আতœহত্যার নাটক করেন ইলিয়াস মুন্সী। রাত ১১টার সময় কৌশলে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের সাবেক ফিল্ড সুপারভাইজার বৃদ্ধ আলমগীর হোসেন মুন্সি (৬৭) ও তার স্ত্রী সমাজ সেবা অফিসের বর্তমান মাঠকর্মী রানী আলম (৪৫) কে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই বাড়ীর ইলিয়াস মুন্সি তার পিতা, মাতা ও ভাই মিলে ঘরের মধ্যে ঢুকে কুপিয়ে গুরুর জখম করে। এতে আলমগীর মুন্সি মাথার মগজ বের হয়ে যায় এবং কয়েকবার বমি করে।
আহতদের প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্স (আমুয়া) ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় রাতেই আলমগীর মুন্সিকে বরিশাল শেরই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানকার ডাক্তার তার মাথায় অপারেশন করেন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করেন। সেখানে পুনরায় তার মাথায় অস্ত্রোপচার শেষে আইসিইউতে রাখা হয়। বর্তমানে তিনি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
এ ঘটনায় আহত রানী আলম বাদী হয়ে গত বৃস্পতিবার (৯মার্চ) ইলিয়াস মুন্স তার পিতা ইদ্রিস মুন্সী, মা পুস্প, বেগম ভাই এমরান মুন্সি একই বংশের চুন্নু মুন্সিসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩-৪ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর রাতেই মামলার আসামী ইদ্রিস মুন্সিকে তার বাড়ী পশ্চিম আউরা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলার প্রধান আসামী ইলিয়াস মুন্সিকে ধরতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ ।
এস আই আঃ সালাম আরো জানান, গ্রেফতারকৃত ইলিয়াস প্রথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে, একাধিক হত্যা, ডাকাতি, হত্যা চেষ্টা ও সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন স্থানে ৫০টি মামলা ছিল। ইতোমধ্যে ১০/১৫টি মামলা শেষ হয়েছে। বর্তমানে ৩০/৪০টির মত মামলা চলমান আছে। ইলিয়াস মুন্সী উপজেলার পশ্চিম আউরা গ্রামের মো. ইদ্রিস মুন্সীর পুত্র।

