ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দুইব্যাপী অনুষ্ঠানের শেষ দিনে আজ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে চিত্রাঙ্কন এবং রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরন ও কেক কাটা অনুষ্ঠানের সভাপতি ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন বাঙালী জাতির মুক্তির অংকুরগম হয়েছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের মধ্যে দিয়ে। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ার অজপাড়া গায় জন্ম গ্রহন না করলে বাঙালি জাতি তার দীর্ঘদিনের শোষন, বঞ্চনা হতে মুক্তি পেত না। তিনি পুরো জাতিকে এক করে স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রেরন করতে পেরেছিলেন। তার সময়ে অনেক নেতা ছিলেন যেমন হোসেন শহীদ সোরওয়ার্দী , শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীসহ অনেক বড় মাপের নেতা কিন্তুু তারা কেউই বাঙালি জাতিকে মুক্তির সুনির্দিষ্ট আলো দেখাতে পারিনি। পেরেছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘ ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রামের পথ ধরে সুদীর্ঘ নয়মাস গনযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে তিনি পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত করেছিল স্বপ্নের সোনার বাংলাকে। ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন পৃথিবীতে অনেক বড় বড় নেতা রয়েছে যেমন চীনে মাও সেতুং, জামার্নিতে বিসমার্ক, দক্ষিন আফ্রিকাই নেলসন ম্যান্ডেলা, ইন্দোনেশিয়াই মেঘবতী সুকর্ণপতি, মালোয়েশিয়ায় মাহাথির মোহাম্মদ, ভারতে মাহাত্মা গান্ধি ঠিক তেমনি আমাদের দেশে ইতিহাসের পাতায় স্বর্নাক্ষরে লেখা রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। তিনি নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশে ও চেতনায় গড়ে তোলবার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। যাতে করে বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনর বাংলায় পরিনত হয় অচিরেই। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন বাঙালি জাতির মুক্তি দিশারী হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর স্মৃতি আদর্শ বংশ পরমপরায় চলে যাবে। তিনি দেখিয়েছিলেন যে বাঙালি জাতি বীরের জাতি। তাদেরকে শত বাধা বিপত্তি ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। প্রো ভাইস চ্যান্সেলর বলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন মানবিক গুনাবলীতে অতুলনীয়। তিনি সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষ পছন্দ করতেন না সেজন্য তিনি সেসময় সাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী মুসলিম লীগ থেকে বেরিয়ে এসে আওয়ামীলীগ গঠন করেন। তার দেখানো পথ ধরে বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর তনয় জননেএী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আজ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিনত করেছে। তার বলিষ্ঠ, সাহসী ও দৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে এসেছে। ভিশণ ২০-২১ এবং রুপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ পৃথিবীর কাছে উন্নত দেশ হিসাবে পরিগনীত হবে। এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. সেলিম তোহা বলেন সেসময় একটি শিশুর কন্দন ধ্বনিতে সমস্ত টুঙ্গিপাড়া মুখরিত হয়েছিল। তাঁর কন্দন ধ্বনি ছিল ভিন্নধর্মী। তিনি বাঙালি জাতিকে জানান দিলেন হাজার বছর ধরে তোমরা যে শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল তা হতে মুক্ত করবার জন্য আমি পৃথিবীতে আসলাম। ছোট সেই শিশুটি ধীরে ধীরে হয়ে উঠল মুজিব, মুজিব ভাই, শেখ মুজিব এবং বঙ্গবন্ধু পরবর্তীতে জাতির জনক। তিনি বাঙালি জাতির মনের কষ্টকে উপলব্ধি করতে পারতেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ। দুই দিনব্যাপী কর্মসূচীর দ্বিতীয় দিনে আজ সকাল ৯.৩০ টায় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী এর নেতৃত্বে প্রশাসন ভবন চত্বর হতে বর্ণাঢ আনন্দ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, চেয়ারম্যান, প্রভোস্ট, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, বিভাগীয় প্রধানসহ সর্বস্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং ইবি শাখা ছাএলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলামসহ ছাএলীগের সকল স্তরের নেতা কর্মী ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। অলোচনা সভা শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরন করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী। এছাড়া টিএসসিসির বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে কেক কাটা হয় এবং বাংলাদেশ ছাএলীগ ইবি শাখার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ছাএলীগের টেন্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে কেক কাটা হয়। কেক কাটা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড হারুন-উর-রশিদ আসকারী , প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা এবং ইবি শাখা ছাএলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলামসহ ছাএলীগের সকল স্তরের নেতা কর্মীরা ও শিক্ষক সমিতি নেতৃবৃন্দ। এছাড়া বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে চিত্রাঙ্কন এবং রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরন ও কেক কাটা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান, সাধারন সম্পাদক প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান, প্রফেসর ড. রুহল কে এম সালেহ, প্রফেসর মিজানুর রহমান, প্রফেসর ড. গৌতম কুমার দাস, প্রফেসর ড. এ এইচ এম আক্তারুল ইসলাম, প্রফেসর ড. মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রফেসর ড. মোহাঃ মেহের আলী, সহযোগী অধ্যাপক শাহাদৎ হোসেন আজাদ, গ্রন্হাগারিক (ভারঃ) আতাউর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী (ভারঃ) মোঃ আব্দুস সালাম, ,হিসাব পরিচালক (ভারঃ) আকামুদ্দিন বিশ্বাস, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মিজানুর রহমান মজুমদার, সহায়ক কর্মচারী সমিতির সভাপতি উকিল উদ্দিন, সাধারন কর্মচারী সমিতির সভাপতি আতিয়ার রহমানসহ সর্বস্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্র -ছাত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমান মিলনায়তনে চিত্রাঙ্কন এবং রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরন ও কেক কাটার অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জনসংযোগ অফিসের সহকারী পরিচালক রাজিবুল ইসলাম। পরে বাদ জুমা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

