ঢাকাশনিবার , ১৮ মার্চ ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

যশোরে বিচার প্রার্থী দুই প্রেমিকার গল্প সখী ভালবাসা কারে কয়?

admin
মার্চ ১৮, ২০১৭ ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সাঈদ ইবনে হানিফ : 
প্রেম একটি স্বর্গীয় শব্দ। যার মধ্যে রয়েছে অনাবিল আনন্দ সুখ সম্ভোগ আর সম্প্রীতির বন্ধন ও হৃদয় স্পর্শকাতর শক্তি কিন্তু কখনো কখনো সেই প্রেম কারো কারো জীবনকে করে তোলে বিবি শিখাময়, যন্ত্রনাদায়ক যা থেকে মুক্ত হওয়ার কোন উপায় থাকে না ফলে তাদের কাছে এই প্রেম শব্দটা যেন হয়ে উঠে অভিসপ্ত। জীবন স্রোতের দোলা চলে যে প্রেম একদিন মিশে ছিলো সাগর জলে, প্রেমিকার অথবা প্রেমিকের প্রতারণার জালে আটকা পড়ে সেই সম্প্রীতির বন্ধন যখন চিরতরে আটকা পড়ে তখন মাথা ঠুকরে নিরবে কাঁদা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। সাধারণত আমাদের সমাজে সে সব যুবক যুবতি প্রেমিক অথবা প্রেমিকার দ্বারা প্রতারণার শিকার হয়ে প্রতি নিয়ত প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে লোক লজ্জ্বার ভয়ে তারা তা প্রকাশ করে না। অনেক সময় এসব ঘটনা নিয়ে শারিরিক নির্যাতন বা রাগ অভিমানের সূত্র ধরে জীবনাশাংখ্যা দেখা দিলেও সামাজিক দৃষ্টি কটুর ভয়ে অভিভাবকগন ও থাকে নিচ্চুপ। কিন্তু হয় যদি দরিদ্র পরিবার। নিন্দুকেরা যতদোষ চাপিয়ে দেয় তার উপর। বিচার চাইবে যবে তুমি হবে নির্যাতনের স্বীকার। দোষ যত করেছো তুমি এ সমাজ কলুষিত লাগি তোমার, হাঁফ ছেড়ে আজ বলিতেছো হায়! শখী ভালবাসা কারে কয়? কেন করিছিনু প্রেম এ ব্যাথা কইবো কার কাছে এ বিচার চাইবো কেমনে। প্রিয় পাঠক, এমন দুটি ঘটনা এখানে উল্লেখ করবো যা সত্যিকার্থে হৃদয় স্পর্শ এবং অনেকটা যন্ত্রনাদায়ক ও বটে। তার একটি হলো যশোরে বাঘারপাড়া উপজেলার আগড়া আমতলা গ্রামে। প্রেমিকার পিতা উপজেলা দোহাকুলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায় ৭/৮ বছর আগে সাংসারিক অভাব অনাটনের কারণে তার দ্বিতীয় কন্যা সীমা খাতুন (১৪) কে তার মামার বাড়ি আগড়া গ্রামে লেখা-পড়া করানোর উদ্দেশ্যে রেখে আসে। সেখানে দীর্ঘদিন থেকে লেখা-পড়ার সুবাদে প্রতিবেশী জোহর আলীর পুত্র ইকলাস-এর সাথে সীমার প্রেমজ সম্পর্কের মাধ্যমে গড়ে উঠে দৈহিক সম্পর্ক। তাঁদের দীর্ঘ সুখ সম্ভোগের এক পর্যায়ে ২০১২ সালের জুন মাসের দিকে সীমা যখন বুঝতে পারে সে অন্তঃস্বত্তা তখন সে প্রেমিক ইকলাসকে চাপ দিতে থাকে বিয়ের জন্য। কিন্তু ইকলাস নারাজ। বিয়ে তো সে করবেই না উল্টো সীমার গর্ভের সন্তান নষ্ট করার বিভিন্ন ফন্দি সে আটতে থাকে বলে জানা যায়। ঘটনা জানা জানি হওয়ার পর সীমার পরিবার বিয়ে করার জন্য চাঁপ দিতে থাকে ইকলাসের পরিবারকে। কিন্তু তারা বিয়ের আগে গর্ভবতি পুত্রবধূকে ঘরে তুলতে অস্বীকৃতি জানায়। ব্যার্থ হয়ে সীমার পিতা সমাজ প্রতিদের দারস্ত হয়। এবার শুরু হয় নিন্দুকের গল্প। কত রকম কত কথা সব ঘৃর্ণা ও নিন্দুকের পচ্য পিছনে ফেলে সমাজের কিছু লোক এগিয়ে আসে সীমার পক্ষে। কিন্তু দরিদ্র আর দুর্বল পরিবারের কারণে সমাধান দিতে অপারকতা প্রকাশ পায়। ফলে সীমার পিতা বাধ্য হয়ে বিগত ১৩/০৭/২০১২ইং সালে বাঘারপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) এর ৩০ ধারা মোতাবেক একলাস ও তার ভাই এবং বোন ডলি সহ ৩ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। যার নং ০৯, অভিযোগ পত্র নং ১৪১ অতঃপর আদালত মামলাটি দীর্ঘ পর্যালোচনা করে আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করে। এতদিনে সীমা একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। এবার প্রেমিকা থেকে সীমা হয়ে গেল একটি সন্তানের মা। সীমা ও তার পিতা রফিকুলের অভিযোগ দীর্ঘদিন পার হলেও আসামীদের গ্রেপ্তার বা বিষয়টির কোন সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে না। ফলে একদিকে যেমন তারা আসামীদের দ্বারা হুমকীর শিকার হয়েছেন অন্যদিকে তাঁরা দিন কাটিয়েছেন সামাজিক নানা দৃষ্টি কটূর মাধ্যমে। এদিকে এই ঘটনা জানার পর উপজেলার মানবাধিকার সংগঠণ (গণ অধিকার ফাউন্ডেশন) কর্তৃপক্ষ সীমা ও তার পরিবারকে যথা সম্ভব সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। ঘটনার সার-সংক্ষেপ এই যে, একদিন হয়ত মিলে যাবে সব কালের পরিবর্তনে মিশে যাবে সব স্মৃতি। সীমা ও হয়তো জীবন জীবিকার নির্বাহের তাগিদে খুজতে থাকবে, অথবা খুজে নিবে মাথা গুজার ঠাঁই। কিন্তু তার জীবনে ঘটে যাওয়া পূর্বের ঘটনা নিয়ে কথা হবে অনেক। যা মানষিক ভাবে যন্ত্রনা দিবে তাকে, তবুও নিন্দুকের সকল অভিযোগ মাথায় নিয়ে আমাদের সমাজের আনাচে কানাচে জীবন কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে শত শত সীমারা। ঐ সব ঘটনার জন্য দায়ী যে, আমাদের সমাজ ব্যবস্থা তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এমনি আরো এক ঘটনার স্বীকার যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাগরঘুনাথপুর গ্রামের সাদিকুর রহমানের কন্যা স্থানীয় উলাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী রুমানা খাতুন (১৪)। শার্শা উলাশি ইউনিয়নের খাজুরা গ্রামের টুনু মিয়ার পুত্র টেইলার ব্যবসায়ী মোজাহারের সাথে উলাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়া-লেখা করার সুবাদে রুমানার প্রেম প্রণয় শুরু হয়। এক পর্যায়ে ২০১০ সালের ২৫শে নভেম্বর মোজাহার রুমানাকে সাথে নিয়ে যশোর শহর তলীর বারান্দি পাড়ায় কাজী মোশারফ হোসেনের মাধ্যমে বিয়ে করেন। বিনিময়ে কাজী সাহেব তাদের কাছ থেকে ৪,০০০/- টাকা বকশীষ নেন। মূলত এর পর থেকে তাদের চলতে থাকে গোপন সংসার। এরই মাঝে রুমানা অন্তসত্তা হয়ে পড়লে প্রকাশ্যে স্ত্রীর মর্যাদা চেয়ে মোজাহারের কাছে শুশুর বাড়ি সংসার করার দাবী তোলে। এর পর থেকে মোজাহার নিজেকে ধোয়া তুলসীর পাতা দাবী করে বিয়ের কথা এক প্রকার অস্বীকার করে। উপায়ান্তর না পেয়ে রুমানা মোজাহারের বাড়িতে গিয়ে ২০১১ সালের ১০ই ফেব্র“য়ারী বিষ পানে আতœহত্যার চেষ্টা চালাই, কিন্তু এমন ঘটনায়ও মনতো গলেনি মোজাহারের পাষান পরিবারের উল্টো বেপরোয়া হয়ে মোজাহারকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে ২০১১ সালের ১৮ই ফেব্র“য়ারী শার্শা বাগআচড়া গ্রামের জনৈক ব্যক্তির কন্যার সাথে মোজাহারের বিয়ে ঠিক হয়। কিন্তু রুমানার সাথে প্রেমের ঘটনা শুনে বিয়ে ভেঙ্গে যায়। একই সালের ২৫ ফেব্র“য়ারী আবারও গোপনে শার্শার বাহাদুর পুর ইউনিয়নের জনৈক ব্যক্তির কন্যাকে বিয়ে করে মোজাহের। এদিকে শত চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে রুমানা আদালতের স্বরনাপন্ন হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ঝিকরগাছা থানাকে তদন্তের জন্য নির্দেষ দেন। যার দায়িত্ব পড়ে এস,আই হাবিবের উপর যিনি তদন্ত রির্পোট প্রেমিকা রুমানার বিপক্ষে দিয়ে ছিলেন। পরক্ষনে রুমানা ঐ রির্পোটের বিরুদ্ধে আদালতে না রাজি পিটিশন দায়ের করেন। এদিকে দিন মাস গড়িয়ে নির্দিষ্ট সময়ে রুমানা একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। অপর দিকে আদালত ও মামলাটি পুনঃ তদন্তের জন্য ঝিকরগাছা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন। দীর্ঘ তদন্তের পর ঐ ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে রির্পোটটি দাখিল করেন সমাজ সেবা কর্মকর্তা। রুমানা ও তার পরিবার দাবী করেন আদালতের তদন্ত রির্পোট মোজাহারের বিপক্ষে যাওয়ায় রুমানা ও তার সন্তান এর উপর বিভিন্ন প্রকার হুমকী আসছে। যা মটেও শুভকর নয়।

স/শা