এম এম টুলু,কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুরে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে ভূট্টা আবাদে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বুধবার দিনভর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপজেলার বিভিন্ন প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শনকালে আয়োজিত এক মাঠ দিবসের আলোচনা সভায় এ অভিমত ব্যক্ত করেন। দেশে দিন দিন ভূট্টার চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে না। সরকার প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে ভূট্টার আবাদ করায় চাষী লাভবান হচ্ছেন। উপজেলায় আগামী অর্থ বছরে ভূট্টার আবাদ বহুলাংশে বেড়ে যাবে বলে উপজেলা কৃষি অফিস মনে করছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় , কেশবপুরের চাষীরা দীর্ঘদিন ধরে ধান, গম, পাটসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করে আসছিলেন। কিন্তু এসব ফসল আবাদ করে খরচের টাকাও উঠতো না বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। এছাড়া গত বছর গমের আবাদ করে ক্ষেত ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ফলন বিপর্যয়ের কারণে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যার কারণে কৃষকরা গম চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এ অবস্থায় উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে কৃষকরা নিজ উদ্যোগে ও প্লট প্রদর্শনীর মাধ্যমে র্ভট্টা আবাদে ঝুঁকে পড়েন।
টিটাবাজিতপুর গ্রামের চাষী আব্দুল কাদের বলেন, ভূট্টা একটি লাভজনক ফসল। তিনি ৩/৪ বছর ধরে ভূট্টার আবাদ করে আসছেন।
সহকারি কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, প্লট প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য হলো ভূট্টার আবাদ সম্প্রসারণ, কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি, উন্নত জাতের সাথে পরিচয় ঘটানোসহ নতুন প্রযুক্তি চাষীদের মাধ্যমে মাঠে বাস্তবায়ন করা। টিটাবাজিতপুর মাঠে সুপার সাইন-২৭৬০ জাতের ভূট্টার আবাদ করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ নতুন ও উন্নত হাইব্রিড জাতের। এর জীবনকাল ১৪০ থেকে ১৪৫ দিন। রোগবালাই পোকার আক্রমন কম। সুষম মাত্রায় সার ও সেচ দিলে হেক্টরে ৮ থেকে ১১ মেট্রিক টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, কেশবপুরে ভূট্টার আবাদ নতুন কিছু না। এ উপজেলায় ১৪টি ভূট্টার প্রদর্শনী প্লট রয়েছে। দক্ষিণ পাশ্চিমাঞ্চলে গম ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। এর পরিবর্তে ভূট্টার আবাদ করতে হবে। সারা বছরই ভূট্টার আবাদ করা যায়। লাইন থেকে লাইন ৭৫ সেন্টিমিটার ও বীজ থেকে বীজ ২৫ সেন্টিমিটার রোপণ করতে হয়। সুষম মাত্রায় সার, সময় মত সেচ ও পরিচর্যা করলে শতকে ১ মনেরও বেশী ফলন পাওয়া যায়।
বুধবার বিকেলে উপজেলার টিটাবাজিতপুর বিদ্যালয় চত্বরে রাজস্ব বাজেটের আওতায় রবি মৌসুমে সুপার সাইন-২৭৬০ উন্নত হাইব্রিড জাতের ভূট্টা ফসলের ওপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। হাসানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রফেসর জুলমাত আলীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক কাজী হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত উপপরিচালক সুব্রত চক্রবর্ত্তী, সহকারি কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান। অন্যদের মধ্যে উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা নাসিরউদ্দীন, কৃষক জহুরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
স/ এষ্

