ঢাকামঙ্গলবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

মুন্সীগঞ্জে চলছে কোচিং বানিজ্য ।। জিম্মি ছাত্র-ছাত্রী

nayem ahmed
সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ ৩:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহী এ .ভি.জে.এম. সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকদের রমরমা কোচিং বানিজ্যের কাছে জিম্নি হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থী ও অভিবাবকরা।

পরিক্ষায় নাম্বার কমিয়ে দেয়া, ফেল করিয়ে দেয়াসহ নানা কৌশলে শিক্ষকরা ছাত্রীদেরকে জিম্নি করে দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছে কোচিং বানিজ্য।

কোচিং বন্ধে সরকার কঠোর আইন করলেও সেই আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দিনের পর দিন কোচিং বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা।

সুত্রে জানাগেছে, প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে শিক্ষকদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা প্রতিষ্ঠানটিতে যে যার মত করে ক্লাস বেছে নেয়। ছাত্রীদের কোচিং করানোর জন্য একাধিক শিক্ষক ক্লাস রুমেই নানা কৌশল অবলম্বন করে।

সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক দায়িত্ব নেন ইংরেজী পড়ানোর, বিজ্ঞানের শিক্ষক নেন গনিত পড়ানোর দায়িত্ব এবং জীববিজ্ঞানের শিক্ষকসহ অন্যারাও ইংরেজী এবং গনিত বিষয়টি ক্লাস করানোর দায়িত্ব নেন। ষষ্ট শ্রেনী থেকে অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত সব ক্লাসেই এমনটাই চলে দীর্ঘদিন ।

এর মূল উদ্দ্যে হলো কোচিং বা প্রাইভেট পড়িয়ে বাড়তি অর্থ আদায় করা। সরকার কোচিং বন্ধে নীতিমালা ও গেজেট প্রকাশ করেছে সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে কোন সরকারী ,এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কোচিং বানিজ্য জড়িত হলে এমপিও বাতিল, বেতন বন্ধ, বেতন এক ধাপ অবনতিসহ নানা শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে।

কথিত আছে এই বিদ্যালয়টির কোন প্রধান শিক্ষক যদি এই কোচিং বানিজ্যের প্রতিবাদ করে তখন এই কোচিং করানো শিক্ষক সিন্ডিকেটের সদস্যরা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নানা অপবাদ দিয়ে উপরের মহলে অভিযোগ দিয়ে বদলি করায়।

কোচিং করানো শিক্ষক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে কোচিং বানিজ্য টিকিয়ে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকককে জিম্নি করে।

ইতিমধ্যে কোচিংসহ তাদের নানা অপকর্মের প্রতিবাদ করার পূর্বের প্রধান শিক্ষক শিউলি আক্তারের বিরুদ্ধেও তারা অভিযোগ করে।

পরে তাকে বদলি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানে চাকুরিরত থাকায় শিক্ষকরা এখন রাম রাজত্ব কায়েম করছে।

স্বনামধন্যএই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে কোচিং বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ এবং জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এখনই কার্যকরী ব্যবস্থা না নিলে ধবংস হয়ে যাবে বিদ্যালয়টির শিক্ষা ব্যবস্থা।

চমক নিউজের সরেজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টির সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক সামসুল আলম স্কুলের ভবন ঘেষে একটি টিন সেট ঘর ভাড়া নিয়ে গনিত কোচিং করান।

সেখানে গিয়ে আরো জানা গেলো মো:আজিজুর রহমান নামের শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে বেইস আকারে কোচিং করায়। সরকারী মহিলা কলেজ গেটের পাশে গিয়ে দেখা যায়, আনোয়ার নামক একজন বাড়ীওয়ালার বাড়ীতে সাহাবুদ্দিন নামের এক শিক্ষক কোচিং করাচ্ছে।

সেখানে উপস্থিত ৮ম শ্রেনীর একাধিক ছাত্রীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোচিং সব শিক্ষকরাই করায়। কোচিং না করলে ফেল করাইয়া দিবে তাই করি।

এ সময় ওখানে থাকা ছাত্রীদের একাধিক স্বজন জানান, তৌফিকুল ইসলাম তালুকদার,সামসুল আলমসহ সবাই কোচিং করায়। এখানে ছাত্রী কম আপনারা পাশের বাড়ীতে গেলে বেশী ছাত্রী পাবেন। স্বজনদের কথার সুত্র ধরে পাশের বাড়ীতেই তৌফিকুল ইসলাম তালুকদার নামের শিক্ষকের কোচিং সেন্টার তার বাস ভবনেই।

সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে শিক্ষক এবং ছাত্ররা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। তবে কোচিং করানোর আলামত পাওয়া যায়। পরে কে. কে স্কুল সংলগ্ন একটি বাড়ীতে গিয়ে শিক্ষক আজিজুর রহমান ।

মাঠপাড়া এলাকায় মেহেরুন্নেসা মেরী, মধ্য কোর্টগাও আবদুল গফুর সরকার ও রানা নকুমার সরকার, মধ্য কোটগাঁও এলাকায় অনিল চন্দ্র বর্মন ,গনকপাড়া এলাকায় সোহানা বিনতে হাফিজ তার নিজ বাসায় কোচিং করায়। অপরদিকে মনোরঞ্জন সুত্রধর নামের শিক্ষক ব্যাচে না পড়ালেও শিক্ষার্থীদের বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে টিউশন করান।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এভি.জে.এম. উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোচিং বানিজ্য করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
কোচিং বানিজ্যের সাথে জড়িত শিক্ষকদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তাদের পাওয়া যায়নি। পরে তাদের ব্যবহৃত সেল ফোনে কল করলেও তারা ফোন রিসিভ করেনি।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ইউনুস ফারুকী বলেন, ২০১২ সালের কোচিং বানিজ্য নীতিমালা অনুয়ায়ী কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন ছাত্র ছাত্রীদের কোচিং পড়াতে পারবেনা।

কোন শিক্ষক কোচিং বানিজ্যে জড়িত হলে এমপিও বাতিল, বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ কোচিং বন্ধ নীতিমালা আইনে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি খাঁন মো: নাজমুস শোয়েব বলেন, কোন শিক্ষক যদি কোচিং বানিজ্যের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে বিধিমুলক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

স/এন