ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

বাঘারপাড়া শিক্ষা কর্মকর্তা নুর-মোহাম্মদ তেজারতের অডিও ফাঁস

nayem ahmed
সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৯ ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার, বাঘারপাড়াঃ যশোরের বাঘারপাড়ায় বহুল আলোচিত ঘুষখোর-দূর্নীতিবাজ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ তেজারতের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অডিও কথোপকথোন ফেসবুক সহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে।

ঘুষ বাণিজ্যের এই অডিও কথোপকথোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাস হওয়ায় শিক্ষা বিভাগ সহ এলাকার সাধারন মানুষের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

নতুন নিয়োগকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও ভুক্তি সহ বিএড ও উচ্চতর স্কেলে বেতন প্রাপ্তি সম্পর্কিত কার্যক্রমকে দুর্নীতিমুক্ত ও সহজ করার লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ব্যানবেইজের সফটওয়ারে প্রেরন করার নিয়ম থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সে মোতাবেক কাজ করে।

সেগুলো উপজেলা শিক্ষা অফিসার যাচাই-বাছাই করে সফটওয়ারের মাধ্যমে জেলায় প্রেরন করেন। এই মোক্ষম অস্ত্রকে কাজে লাগিয়ে বাঘারপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শিক্ষকদের জিম্মি করে কোটিপতি বনে গেছেন বলে ব্যাপক জনশ্রুতি রয়েছে।

সেপ্টেম্বর মাসের এমপিও পাওয়ার জন্য যেসব শিক্ষকদের কাগজপত্র সফটওয়ারে জমা পড়েছে তাদের প্রত্যেকের নিকট হতে মোটা টাকা উপঢৌকন নিয়েছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

বিভিন্ন শিক্ষকের নিকট থেকে ঘুষ বানিজ্যের অডিও কথোপ-কথোন ফেসবুক-ম্যাসেঞ্জার সহ বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে। ইতিমধ্যে অডিও রেকর্ডগুলো ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি সময়ে উপজেলার ইন্দ্রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার ঘুষের দাবি মেটাতে জমি বিক্রি করে ত্রিশ হাজার টাকা দিয়েছেন। ভুক্তভুগি ঐ শিক্ষকের কাছে আরো টাকা দাবি করলে তিনি বাঘারপাড়া উপজেলা নিবার্হী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন সুফল পাননি।

ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই হয় না এ কর্মকর্তার কাছে, বছরের পর বছর ধরে ঘুষ নিচ্ছেন শিক্ষকদের কাছ থেকে এই কর্মকর্তা। সম্প্রতি সময়ে ওনেকগুলো পত্রিকায় দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশ হলেও কোনো ভাবেই থেমে নেই তার এই অপকর্ম।

এ দিকে অভিযোগ রয়েছে শিক্ষকদের এমপিও, টাইম স্কেল, নিয়োগ প্রক্রিয়া-ঘুষ ছাড়া এখানে কোনো কাজই হয় না। ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ ও ঘুষের প্রস্তাব দিতে তিনি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। ফাইল আটকে রেখে ভুক্তভোগীদের ফোন করে কার্যালয়ে ডেকে ঘুষ দাবি করেন। নতুবা ফাইল আটকে থাকবে বলে ভয়-ভীতি দেখান। ঘুষের টাকা তিনি নিজেই সরাসরি গ্রহণ করেন।

বিভিন্ন অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, শিক্ষা কর্মকর্তা ১১ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে বাঘারপাড়ায় যোগদানের পর থেকে প্রতিনিয়ত ঘুষ আর অনিয়মের মাধ্যমে অফিসটিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে।

এমন কোনো কাজ নাই তিনি করেন নাই, অফিস ফাঁকি তার রুটিন মাফিক কাজ, মাসে ৩/৪ দিনের বেশি তিনি অফিস করেন না।

এনসিটিবির পুরাতন বই রাতের আধারে চুরি করে বিক্রয়, মা সমাবেশের টাকা আত্মসাত, এমনকি বিজ্ঞান মেলার টাকাও তিনি পকেটে পুরেছেন। ২০১৭ সালে একাধিক পত্রিকায় দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ হলে, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় একাধিক তদন্ত হলেও অজ্ঞাত কারনে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি বহাল তবিয়তেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে বাঘারপাড়া মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এমদাদ হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে পাওয়া সকল অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং ২০১৮ ও ২০১৯ সালের এনসিটিবির বই প্রতিটি বিদ্যালয়ে পৌছানোর খরচের মোট প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা উক্ত অফিসার লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ করেন।

ফেসবুকে অডিও ফাস সহ এসকল অভিযোগ প্রসঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নুর-মোহাম্মাদ তেজারতের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান যে, তার বিরুদ্ধে কিছু লোক লেগেছে। তারাই এসব কাজ করছে।

 

স/এন