যশোর ও নড়াইল এবং আন্ত গ্রামীন যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন
মোঃ আজম খাঁন,বাঘারপাড়া(যশোর) থেকে : ভাঙ্গুড়া-দোগাছির মোড় সড়কটির চরম বেহাল দশা বিরাজ করায় এগারোখান এলাকার সঙ্গে যশোর ও নড়াইল সহ আন্ত গ্রামীন যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।ফলে এলাকার উৎপাদিত কৃষিজ দ্রব্য তথা শাকসব্জি,ফল-মূল ও ধান-পাট পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যাপক বাধা সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা সঠিক মূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।ফলে গ্রামীন অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে।রাস্তাটির দুরত্ব মাত্র ৩.৫০০কিঃমিঃ। কাগজে কলমে অভিবাবকহীন এই রাস্তাটি বসুন্দিয়াÑভাঙ্গুড়ার সংযোগ সড়ক হিসাবে পরিচিত। যার দৈর্ঘ্য ৮.২০৪ কিঃমিঃ। ২০০৫ সালে ভাঙ্গুড়াÑদোগাছির মোড় রাস্তাটি নির্মাণের পর থেকে এ রাস্তার কোন মেরামত হয়নি। বাঘারপাড়ার অবহেলিত জনপদের একটি এলাকার নাম এগারোখান।শিক্ষার হারের দিক দিয়ে এগারোখান যশোর জেলার একটি অন্যতম স্থান হলেও স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত এলাকার যোগাযোগ, স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ ও নাগরিক সুবিধার তেমন একটা উন্নয়ন ঘটেনি। এ সড়কটি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ভাঙ্গুড়া হাট,চাড়াভিটা হাট ও তুলারামপুর হাট সহ যশোর ও নড়াইল এবং ঢাকার সঙ্গে চলাচল করে। দির্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে রাস্তাটি একেবারেই চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। শতভাগ শিক্ষিত এই এলাকার জনগনের গলার কাটা এখন এই ক্ষুদ্র রাস্তাটি।যে রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন সকাল বেলায় শত শত চাকুিরজীবি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যেয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। উচ্চ শিক্ষার জন্য এই ভাঙ্গা রাস্তা দিয়ে শত শত ছাত্রছাত্রী খুলনা, যশোর, নড়াইল, বাঘারপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয়। তাছাড়া এলাকার কৃষিপন্যসামগ্রী পার্শ¦বর্তী হাটবাজারে নেওয়ার জন্য ভয়ানক ঝুকির মধ্যে থাকে। এ বিষয়ে কথা হয় ভ্যানচালক ইমরানের সঙ্গে। তিনি বলেন, দিন যাচ্ছে রাস্তা আরও খারাপ হচ্ছে। আমাদের ট্রিপের সংখ্যাও কমে গেছে, ভ্যানের মেরামত ব্যায়ও কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। সাংবাদিক পরিচয় জানার পর আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে আছি ভাই। ভালো করে লিখে দেন, যাতে রাস্তাটি তাড়াতড়ি মেরামত হয়। রাস্তা প্রসঙ্গে বাঘারপাড়ার বোয়ালিয়া-বাসুয়াড়ী নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রভাষ ঘোষাল বলেন, দীর্ঘদিন ভাঙ্গা রাস্তায় মটরসাইকেল চালানোর ফলে আমার স্পাইনালকডে যন্ত্রনার সৃষ্টি হয়েছে। তাই অবিলম্বে রাস্তাটির সংস্কার প্রয়োজন। এগারোখানের কমলাপুর গ্রামের মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন ছাত্রী ভাঙ্গুড়া থেকে পায়ে হেঁটে এগারোখানের দিকে আসছে। তারা ভাঙ্গুড়া কলেজে পড়ে বলে জানায়। হেঁটে আসার কারণ জানতে চাইলে তারা জানায়, যানবাহনে আস্লে প্রচন্ড ঝাকুনি খেয়ে শরীর ব্যাথা হয় হয়। রাত্রে আর পড়তে পরিনা। তাই আমরা হেঁটেই চলাচল করি। রাস্তা খারাপের কারণে সময়মত ক্লাসেও উপস্থিত হতে পারিনা। প্রচুর সময়ের অপচয় হয়। অবিলম্বে রাস্তাটির সংস্কারের দাবি জানায় তারা। এ প্রসঙ্গে কথা হয় উপজেলা ইঞ্জিনিয়র আক্তারুজ্জামানের সঙ্গে তিনি জানান গত ১০/১১/২০১৬ তারিখে এমপি মহোদয়ের ডিও লেটার সহ আইআরডিবি(ইমপ্রুভমেন্ট রোরাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট)- এর আওতায় স্টেটমেন্ট পাঠানো হয়েছে। অচিরেই কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এলাকার সাধারণ মানুষ অচিরেই রাস্তাটির সংস্কার/মেরামত এর জন্য জোর দাবী জানিয়েছে।

