মেহেরপুর প্রতিনিধি: মুজিবনগর উপজেলার পরানপুর গ্রামের মফিজুল হকের মেয়ে শিরিনা খাতুনের সাথে মেহেরপুর সদর উপজেলার আমদহ ইউনিয়নের রাইপুর গ্রামের সেলিম রেজার ছেলে শফিকুল ইসলামের সাথে ১ বছর আগে সামাজিভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পরে তাদের ভালভাবেই সংসার চলছিল, ৬ মাস পার হতেই স্বশুর ও স্বাশুড়ী শিরিনাকে তার বাপের বাড়ি থেকে যৌতুক বাবদ ১ লাখ টাকা সহ ফার্নিচার ও টিভি ফ্রিজ আনতে চাপ দেয়।
শিরিনা তার পিতার আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় যৌতুকের কোন টাকা ও দাবীকৃত কোন ফার্নিচার দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্বামী শরিফুল ইসলাম সহ স্বশুর স্বাশুড়ী তাকে শারিরীক ও মানষিক নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে শিরিনা মাস দুইয়েক আগে অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তার পিতার বাড়িতে চলে আশে। শিরিনা আশার পর থেকে তার স্বশুর পক্ষের কোন লোকজন কোন ধরনের যোগাযোগ ও খোজখবর না নেওয়ায় ফেব্রুয়ারী মাসে মানব উন্নয়ন কেন্দ্র মউক এর সালিস ও আইন সহায়তা ইউনিটে স্বামী, স্বশুর ও স্বাশুড়ী নামে অভিযোগ দায়ের করে। সালিস ইউনিট এর পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ করা হয়।
গত ১৬ মার্চ উভয় পক্ষের উপস্থিতি ও মতামতের ভিত্তিতে সালিস ইউনিট কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে উভয় পক্ষকে পুনরায় ঘরসংসার করার জন্য আহবান জানায়। শরিফুল ইসলাম তার ভুল বুঝতে পেরে স্ত্রী শিরিনাকে নিয়ে সুস্থভাবে সংসার করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করায় সালিস ইউনিটের পক্ষে শিরিনাকে আবার তার সংসারে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করলে শিরিনা ঘরসংসারে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। প্রায় ভেঙ্গে যাওয়া সংসার আবারো জোড়া লাগায় উভয় পক্ষের মধ্যে আনন্দ উৎসব সৃষ্টি হয়। সালিশ পরিচালনা করেন সালিস ইউনিটের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সানজিদা কাজল ও নাসেদা আক্তার উর্মি।
স/রর

