মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার রামগোপালপুরে ফার্মিসীর ঔষধ বিক্রেতা মতিলাল এখন সর্ব রোগের ডাক্তার এর ভূমিকায়। তার ফার্মেসীতে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়সী সকল রোগীদের সর্ব রোগের চিকিৎসাসেবা দেয় হয়। মতিলাল দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার নামে রোগীদের সাথে প্রতারনা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা। রোগীদের মুখে রোগের বিবরন শুনেই রোগীর হাতে তুলে দেয় হাজার টাকার ঔষধ। এ যেন আলোর নিজে অন্ধকারের মত অবস্থা । সরকার যেখানে চিকিৎসাসেবা জনগনের দৌড়ঘোড়ে পৌছে দেয়ার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে সেখানে মতিলাল নামের এই ঔষধ বিক্রেতা ফামির্সীতে বসে ডাক্তারের ভুমিকায় রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছে। সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে কথিত এই ডাক্তারের অপ- চিকিৎসা। যেন দেখার কেউ নেই।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মিরকাদিমের রামগোপালপুর দুধপট্রি এলাকায় সাধনা মেডেকেল হল নামের একটি ফার্সেসীতে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। সেখানে ঐষধ বিক্রেতা মতিলাল প্রতিবেদকের উপস্থিতিতে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়সী প্রায় ১০ জন রোগীকে চিকিৎসাপত্র ও সরাসরি এন্টিাবায়োটিকসহ নানা ধরনের ঐষধ রোগীদের হাতে তুলে দেন। মতিলাল নিজের নামের আগে ডা: লিখা ভিজিটিং কার্ডও রোগীকে দিচ্ছে। তিনি শিশু,যুবক,বৃদ্ধসহ সকলকে তার নিজের মত চিকিৎসাসেবা দেয়। চিকিৎসায় ব্যবহার করছে হাই পাওয়ার ঔষধ এন্টিবায়টিক । যা একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পর্রামশ ব্যতিত দেয়ার কথা নয়।
স্থানীয়রা জানান,দীর্ঘ ৭/৮ বছর যাবৎ নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে এভাবে মানুষকে বোকা বানিয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছে ঔষধ মতিলাল । ঔষধ প্রশাসন এবং সিভিল সার্জন অফিসের নিয়মিত কোন তদারকি না থাকায় ফার্সেসীর ঐষধ বিক্রেতারা ডাক্তারের ভূমিকা পালন করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পূর্ন (এন্টিবায়াটিক) ঔষধ দিয়ে মানুষের ক্ষতি করে আসছে। শুধু তাই নয় জেলা শহর ও এর আশপাশ এলাকায় প্রায় অর্ধশতাধিক ফামেসী চলছে শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স দিয়েই । সেসকল ফামেসীগুলোতেও চলছে সর্ব রোগের চিকিৎসা।
ফার্মেসীতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী আ: লতিফ জানান, পরিবারের একাধিক অসুস্থ্য রোগী নিয়ে সরকারী হাসপাতালে গিয়েছি অনেকবার। কিন্তু কাংক্ষিত সেবা পাইনি। সেবা না পাওয়ার কারন জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা ভালো এটা আমি জানি। কিন্তু সেখানে গেলে ডাক্তাররা রোগের কথা ভালো করে না শুনেই রক্ত পরিক্ষা, ইসিজিসহ ১৫শত থেকে ২ হাজার টাকার পরিক্ষা করাতে দেয়। পরিক্ষাগুলোও ডাক্তারদের নির্ধারিত ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারে করাতে হয়। পরিক্ষা করানোর পর রিপোর্ট নিয়ে গেলে সেগুলো কোন রকম দেখে বলে যে ঔষধ দিয়েছি সেগুলোই খাবেন। পরে দেখি ফার্মেসীর দোকানদার ঠিক একই ঔষধ দিয়েছে। ফার্মেসীর দোকানদার কোন ডাক্তার না তবুও আমরা তাদের কাছেই আসি তার একটাই কারন টাকা দেই ঔষধ নেই। কোন ভিজিট আর পরিক্ষা নিরিক্ষার নামে বাড়তি টাকা খরচ ও ঝামেলা নেই। সময় আর বাড়তি খরচ বাঁচাতে আমরা এসব ঔষধের দোকানে চিকিৎসা নেই। প্রতিবেদক আরো কয়েকজন রোগীর সাথে আলাপকালে তারাও বলেন, আমরা নিম্ন পেশার মানুষ ডাক্তারের ভিজিট আর পরিক্ষা নিরিক্ষা করানোর মত কোন সামর্থ নেই। আমরা এসব দোকানে এসে রোগের কথা বললেই তারা ঔষধ দেন।
স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, সরকার সাধারন জনগনের দৌড়ঘোড়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দেয়ার লক্ষে নিরলসভাবে কাজ করছেন। কিছু অসাধু, মুনাফালোভী ডাক্তারদের কারনে রোগীরা বেসরকারী ক্লিনিক বা ফার্মেসীর ভুয়া ডাক্তারদের কাছে ছুটে যাচ্ছে। অন্যদিকে জেলায় কয়টি ফার্মেসীর বৈধ আছে, কয়টি ফার্মেসীর বৈধতা নেই। কোন কোন ফার্মেসীতে ঔষধ বিক্রেতারা রোগী দেখে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে এই বিষয়গুলো নজরদারিতে না থাকায় দিন দিন ফার্মেসী ব্যবসার আড়ালে বাড়ছেই অপচিকিৎসা। স্বাস্থ্যসেবায় নৈরাজ্য ঠেকাতে জেলা সিভিল সার্জন অফিস ও জেলা ঔষধ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কার্যকরী ভুমিকা পালন করতে হবে।
চিকিৎসা দেয়ার বৈধতা নেই স্বীকার করে কতিথ ডাক্তার মতিলল বলেন, রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক দেয়া হয়। আমি ফার্মেসী ব্যবসা করি । আমি ডাক্তার নই। ভিজিটিং কার্ডে ভুলে ডাক্তার লিখেছি। রোগীরা এসে রোগের বর্নণা দিয়ে ঔষধ চায় না দিয়ে কি করবো?
এবিষয়ে জানতে চাইলে মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে মুঠোফোনটি অন্য একব্যাক্তির কাছে তুলে দেন তিনি।
স/রর

