মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জে মুদি দোকানের ট্রেড লাইসেন্স দিয়েই চলছে ফার্মেসী প্রতিষ্ঠান। মুদি দোকানি পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যে ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। একই ট্রেড লাইসেন্স দিয়েই মুন্সীগঞ্জ জেলায় চলছে অর্ধ শতাধিক ফার্মেসীতে চিকিৎসাসেবা। এদিকে বিভিন্ন নামে গড়ে ওঠা এসব ফার্মেসীতে কথিত হাতুরে ডাক্তরারা রোগীর মুখে রোগের বর্ননা শুনে এন্টিবায়োটিকসহ সব ধরনের ঔষধ বিক্রি করছেন। দিচ্ছে দেদারছে চিকিৎসাসেবা। প্রতিষ্ঠানগুলোতে কথিত ডাক্তারদের নেই কোন ড্রাগ লাইসেন্স, কেমিষ্ট সার্টিফিকেট, পল্লী চিকিৎসা সনদ,নেই কোন সরকারী অনুমোদন। শুধুমাত্র ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে কথিত এই হাতুরে ডাক্তাররা রোগীদের সব ধরনের চিকিৎসাসেবা দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে শহরের অলিগলিতে, গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে গড়ে ওঠা ফার্মেসীগুলোতে চলছে চিকিৎসাসেবা। ঔষধ প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকায় দিন দিন ফার্মেসীগুলোতে অপচিকিৎসা বৃদ্ধি পাচ্ছে । এতে করে সরকারী প্রতিষ্ঠােেন চিকিৎসাসেবা না দিয়ে সহজ সরল মানুষগুলো এসব ভুয়া ডাক্তারদের কাছে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছে।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে গিয়ে দেখা মেলে ফার্মেসীগুলোতে রোগীদের সাথে প্রতারনার চিত্র। মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরেই রয়েছে একাধিক ভুয়া ফার্মেসী। তেমনিই মুন্সীগঞ্জ শহরের হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকায় দেখা মেলে কমপক্ষে ১০টি ফার্মেসীর। শহরের হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকার জালাল কমিশনার রুটে এরশাদুল আলম জুয়েল তার ফার্সেসীতে একজন মহিলাকে এন্টিবায়োটিক ঔষধ দিচ্ছে। পরে জানাগেলো রোগী শাহীনুরের গলায় টনসিল হয়েছে। সরাসরি রোগীকে ঔষধ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কথিত ডাক্তার জুয়েল এর কোন জবাব দিতে পারেনি। পরে তার চিকিৎসার বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে জুয়েল জানান, আমি ফার্মাসিক্যাল কোম্পানিতে ১৮ বছর চাকরি করেছি। আমার কোন ড্রাগ লাইসেন্স, ফার্সেসী সনদ নেই। এমনিতেই প্রাকটিস করি। অকপটে স্বীকার করলেন ঐ এলাকার কোন ফার্মেসীরই বৈধতা নেই ।
অমিত ফার্মেসীর চিকিৎসক কথিত হাতুরে ডাক্তার প্রনব দত্ত। তার দোকানেরও নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। তিনি জানান, আমি ফার্সাসিষ্ট পরিক্ষা দিয়েছি । ড্রাগ লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স কোনটাই করিনি।
ঈশান মেডিকেল হল নামের ফার্সেসীতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে মো. জাকির হোসাইন নামের একজন কথিত চিকিৎসক। ফার্মেসীতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি অভিজ্ঞতা থেকে চিকিৎসা দেই । লাইসেন্স করার জন্য আবেদন করিনাই । শুধু ট্রেড লাইসেন্স আছে। আমি কয়েকদিনের মধ্যে লাইসেন্স করে নিবো।
এসব বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা ঔষধ তত্বাবধায়ক কর্মকর্তা মোঃ সামসুদ্দিন বলেন, ফার্মেসীর জন্য ঔষধ প্রশাসন থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসীর বিষয়ে আমাদের মনিটরিং অব্যাহত আছে। বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এবিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । এর পরও কেউ অবৈধ ফার্মেসী চালালে তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
স/রহ

