মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কারার নেপথ্যে একটি কুচক্রী মহল ইন্দন দিচ্ছে মনে করছেন সুশীল সামজের প্রতিনিধিরা । সোমবার সকালে মুন্সীগঞ্জের লঞ্চঘাট এলাকা থেকে গজারিয়ার জমি রক্ষা কমিটির উদ্দ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি জেলা শহরে সুপারমার্কেট, কাচারি হয়ে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশ নেয় গজারিয়ার উপজেলার ষোলআনী, দৌলতপুর, মল্লিকেরচর, বাঘাইকান্দি, কালিপুরা, জাপটা এলাকার ৫ শতাধিক গ্রামবাসী। বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মহিউদ্দিনের কাছে বিদুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ না করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন করেন । পরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিষয়টি দেখবে বলে আশ্বস্ত করলে বিক্ষোভ কারীরা চলে যায়।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়াতে বেশ কয়েকটি কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার । তার মধ্যে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ষোলআনী মৌজায় ৩১৪ একর জমির উপর ৩৫০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ লক্ষে জমি অধিগ্রহন করেন। প্রকল্পটির জন্য ৫০৫ কোটি টাকা বরাদ্ধ করেছে সরকারের অর্থনীতি পরিষদের নির্বাহী কমিটি ( একনেক)। বেশীরভাগ জমির মালিকরা অধিগ্রহনের টাকাও বুঝে নিয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটিতে বালু ভরাট করার জন্য টেন্ডার আহব্বান করা হয়েছে। কৃষকদের দাবি মেটাতে সরকার ১০০ একর জমি ছেড়ে দেয়। বর্তমানে ২০০ একর জমির উপর কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাদ দিয়ে গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রুপান্তরিত করে চলছে প্রকল্পটির কার্যক্রম। প্রকল্পটির শুরু থেকেই একটি কুচক্রী মহল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরিবেশের ক্ষতি এমন গুজব ছড়িয়ে কৃষকদের ভূল ব্যাখা দেন। টেন্ডাররবাজি,খাসজমি দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে বাধা প্রদান করার লক্ষে এই বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকল্প এলাকার একাধিক স্থানীয় বাসিন্ধারা জানান, গজারিয়া একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল । এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নির্মাণ হলে বদলে যাবে দৃশ্যপট । মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা আড়িয়ল বিলে সরকার চেয়েছিলো একটি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর তৈরী করতে কিন্তু কুচক্রী মহাল গ্রামবাসীদের ভুল বুঝিয়ে বিমানবন্দর হতে দেয়নি। আজ মুন্সীগঞ্জ বাসী বুঝতে পেরেছে বিমান বন্দরটি হলে মুন্সীগঞ্জ জেলাবাসী কতটা সুফল পেতো। বর্তমানে গজারিয়া উপজেলায় গ্যাস ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে । প্রকল্পের কাজে বালু ভরাটের ইজারা না পেয়ে একটি কুচক্রী মহল কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে সরকারের উন্নয়ন কাজে বাঁধা দিচ্ছে । প্রকল্পটির আশপাশ এলাকায় কোনবাড়ী ঘর নেই । কৃষকরা তিন ফসলি জমির অযুহাতে আন্দোলন করছে এখানকার কোন জমিতেই কখনও তিন ধরনের ফসল হয়নি। তবে আমরা মনে করি এই প্রকল্পটি পরিবেশ বান্ধব ।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ জানান, প্রকল্পটির জন্য অধিগ্রহনের টাকাও বুঝে নিয়েছে কৃষকরা । যারা জমি অধিগ্রহনের টাকা নিতে আসেনি তারা আসলে তাদের টাকা পাবে। পরিবেশের ক্ষতির দিকটি বিবেচনা করে গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রুপান্তরিত করা হয়েছে তবুও তারা অযৌক্তিক আন্দোলন করে সরকারের উন্নয়ন কাজে বাঁধা প্রদান করছেন।
স/রহ

