ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আওয়ামী লীগের পৌর সভাপতির প্রতিষ্ঠিত আলোর পথ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে মাদকাসক্ত এক রোগী কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে । গতকাল মঙ্গলবার সন্ধায় রেজাউল করিম (২৮) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।পরিবারের দাবি পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে রেজাউলকে। এই যুবকের বাড়ি সালথা উপজেলা সদরে, তার পিতার নাম মো.আবুল কালাম। জানা যায়, গতকাল বিকালে মৃত অবস্থায় আলোর পথ নিরাময় কেন্দ্র থেকে নিহত যুবককে বোয়ালমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আনা হলে এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ মোরশেদ আলম তাকে মৃত্যু বলে ঘোষণা দেন। বোয়ালমারী পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মো.আব্দুল আলীম মোল্যার ছেলে মো.জাহিদ মোল্যা বোয়ালমারী মাদক নিরাময় কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা মালিক। নিহতের পরিবার সুত্রে জানা যায়, দুই দিন আগে রেজাউলকে আলোর পথ নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয় ।গতকাল সন্ধ্যায় কেন্দ্র থেকে জানানো হয় রিজাউল আত্মহত্যা করেছে।।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ মোরশেদ আলম স্বাভাবিক মৃত্যুর কোন আলামত না দেখে স্থানীয় থানা পুলিশ কে খবর দেন।পরে সালথা থেকে পরিবারের সদস্যরা এলে মাদকাসক্ত যুবকের মৃত্যু দেহ ময়না তদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যায় ।এসময়ে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। এ যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে নাম পরিচয় জানাতে অনিচ্ছুক এমন একাধিক লোক অভিযোগ করেন। বুধবার নিরাময় কেন্দ্রটিতে গিয়ে পরিচালনাকারিদের কাউকে পাওয়া যায়নি। নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি চার মাদকাসক্ত রোগী রেখে মালিক জাহিদসহ অন্য সদস্যরা গতকাল রাতেই পালিয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান- মাদকাসক্ত চিকিৎসক ছাড়াই এ প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে দুই বছর যাবৎ। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় ভয়ে অনেকেই জেনে শুনে নিরবতা পালন করেছে ।
স্থানীয়রা জানান, জাহিদ মোল্লা এ মাদক নিরাময় কেন্দ্রটি পরিচালনা করান, এলাকার নেশাখোর আলোচিত পাগল ইনামুলকে দিয়ে যার নেই কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা । এমনকি মাদক নিরাময়ের উপর নেই কোন প্রশিক্ষণ ।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান রোগীকে পিটিয়ে আহত করে কেন্দ্রের কর্তব্যরত কয়েকজন। রেজাউলকে পিটিয়েই মেরে ফেলা হয়েছে বলেই মনে করেন তারা। এ যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ করলেও আব্দুল আলীম মোল্লা সরকার দলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত এবং এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খুলছেনা।
এব্যাপারে নিহত রেজাউলের চাচাতো ভাই সালথা উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি শওকত হোসেন মুকুল জানান, রেজাউল অতিরিক্ত মাত্রায় পানের সাথে জর্দা সেবন করতো। সেজন্য বিভিন্ন লোকের পরামর্শ অনুযায়ী রেজাউলকে আলোর পথ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। রেজাউলের মৃত্যু কোন স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। তাকে শারিরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।
বোয়ালমারী থানায় যোগাযোগ করা হলে থানা সুত্রে জানাযায়, প্রাথমিক পর্যায়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা হবে।ময়না তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা।বোয়ালমারী থানা ইনচার্জ মিজানুর রহমান আজ মাদক ও কমিউনিটি পুলিশ সভায় ব্যস্ত থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স/এষ্

