২৮ ইট ভাটার সবগুলোই অবৈধ
মাহাবুব ইসলাম উজ্জ্বল, মাগুরা প্রতিনিধি ॥ মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ২৮টি ইট ভাটার সবগুলোই অবৈধ। অধিকাংশ ইট ভাটাগুলো গড়ে উঠেছে ফসলের মাঠে। মৌসুমের শুরু থেকেই এসব ভাটা গুলোতে অবাধে চলছে কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব। ফলে একদিকে যেমন উজাড় হচ্ছে বৃক্ষরাজি। অন্যদিকে প্রকৃতি ও পরিবেশের উপর পড়ছে বিরুপ প্রভাব।
সূত্র জানায়, প্রতি বছর নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুন মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত থাকে ইট পোড়ানো মৌসুম। শ্রেনিভেদে প্রতিটি ভাটায় মৌসুমে ৩০ লাখ থেকে ৮০ লাখ পর্যন্ত ইট পোড়ানো হয়।
ভাটা মালিকদের হিসাব অনুযায়ী, ১ লাখ ইট পোড়াতে প্রায় ২ হাজার মন কাঠের প্রয়োজন হয়। ওই হিসাবে ৩০ লাখ ইট পোড়ানোর ক্ষেত্রে ৬০ হাজার মন কাঠ এবং ৮০ লাখ ইট পোড়ানোর ক্ষেত্রে প্রায় ১৬০ হাজার মন কাঠ পোড়াতে হয়। সে ক্ষেত্রে উপজেলার ২৮টি ইট ভাটায় প্রতি মৌসুমে ১৩ লাখ ৮০ হাজার মন থেকে ৩০ লাখ হাজার মণের বেশি কাঠ দরকার পড়ে। হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া বাকি সবগুলো ভাটাতেই কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব চলছে। বৃক্ষ সম্পদ উজাড় করা হচ্ছে যা মানুষ প্রাণি প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য মারাত্বক হুমকি।
মহম্মদপুর উপজেলার ২৮টি অবৈধ ইট ভাটার মধ্যে বাবুখালী ইউনিয়নে ৪টি, বিনোদপুর ইউনিয়নে ১০টি, দীঘা ইউনিয়নে ২টি, বালিদিয়া ইউনিয়নে ৩টি, রাজাপুর ইউনিয়নে ৩টি, মহম্মদপুর সদর ইউনিয়নে ৫টি এবং নহাটা ইউনিয়নে ১টি ইটভাটা রয়েছে।
মাগুরা- মহম্মদপুর গুরুত্বপূর্ণ সড়কের তল্লাবাড়ীয়া এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কলেজের সাথে লাগোয়া একটি ইটভাটাও রয়েছে এ উপজেলায়। এতে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে ওই বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুরা। বেশ কয়েকটি ড্রাম (ব্যারেল) চিমনির ভাটাও রয়েছে। অথচ এসব ভাটা বা মালিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসন স্থায়ী কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার কারনে ভাটা বন্ধের পরিবর্তে প্রতি বছরই নতুন নতুন ইটভাটা গড়ে উঠছে।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন সময় অবৈধ ইট ভাটায় অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে জরিমান আদায় করা হয়েছে এবং এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে গতমাসে প্রায় ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
স/এষ্

