ইউনিয়ন আছে-ওয়ার্ড নেই-
বরাদ্ধ আছে -এগুলো যায় কোথায়?
এ.কে আজাদ(লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি): লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ০২ নং সাহেবেরহাট ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ০২ নং সাহেবেরহাট ইউনিয়নটি নদীভাঙ্গন কবলিত এলাকা। এখানকার মানুষগুলো হত-দরিদ্র ও সাধারন জেলে প্রায়। মেঘনার কোল ঘেষা এই ইউনিয়নটি ভাঙতে ভাঙতে এক তৃতীয়াংশই নদীর গর্বে। ০৯ টি ওয়ার্ডের মধ্যে এখন সম্ভবত ০৪ টি ওয়ার্ড বিদ্যমান।
০৫ টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জীবন বাচানোর তাগিদে-জীবিকা নির্বাহের খোজে অত্র উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বসবাসের পাশাপাসি প্বার্শবর্তী নোয়াখালী সহ দ্বীপ জেলা ভোলায়ও কিছুসংখ্যক বসবাস করছে। ইউনিয়নটিতে যে কজনই বসবাস করছেন,তার সিংহভাগ লোকের অভিযোগ এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনেকগুলো তার মধ্যে গুরুতর যে বিষয়গুলো সেগুলো হচ্ছে-ভিজিডি কার্ড,জেলে কার্ড,বয়স্ক ভাতা,বিধবা ভাতা ও জন্ম নিবন্ধনে উৎকোচের পাশাপাসি শালিশ বানিজ্য। এসকল বিষয়ে অনুসন্ধানকালে জানা গেছে,দুর্নীতিগ্রস্হ এই চেয়ারম্যানের পালিত বেশ কয়েকজন দালাল নিযুক্ত আছে যারা সাধারন মানুষগুলোকে জিম্মি করে মাথাপিছু বসিয়েছে চাঁদার হার। জেলে কার্ড নিবন্ধনের সময় প্রত্যেক জেলেদের কাছ থেকে মাথাপিছু ১৫০০-৩০০০ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্বে।
এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের যে কোন সেবা নিতে হলে লাগে শুধুই টাকা। সরকারের দেওয়া যে কোন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে গেলেই উৎকোচের বিনিময় ছাড়া সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানান একাধিক ব্যাক্তিবর্গ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যাক্তিবর্গ জানান,আবুল খায়ের চেয়ারম্যান শালিশী বানিজ্যতে বেশ পটু। নীরিহ মানুষগুলো কোনভাবে মামলা-হামলার স্বীকার হয়ে শালিশী বৈঠকের আয়োজন করলেই চেয়ারম্যান ব্যাতিত সম্ভব হয়না বিধায়,তাদের এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে প্রকৃত অপরাধকে আড়াল করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তা সমাধান দিয়ে থাকেন। অপরাধ যত বড়ই হউকনা কেন,টাকা দিলে অসম্ভবকে সম্ভব করাই তার কাজ। ইতোমধ্যে আলোচিত বেশ কয়েকটি ধর্ষনের মতো জঘন্যতম অপরাধকে আড়াল করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর সমাধান দিয়েছে এই চেয়ারম্যান। ভুক্তভোগীরা বিচার না পেয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেই খুব একটা লাভ হতোনা,কারন চেয়ারম্যান সকল টেবিলকে ম্যানেস করে রাখেন। বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগের ন্যায় বিচার না পেয়ে উর্ধতন কতৃপক্ষের আশুহস্তক্ষেপে সমাধান নিয়েছেন বলে জানান,অত্র ইউনিয়নবাসী।
এখানকার জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে?ইউনিয়ন নেই,বরাদ্ধতো ঠিকঠাক মতোই পাচ্ছেন,তাহলে এগুলো যায় কোথায়?এরপর আবার উৎকোচবিহীন সরকারের দেওয়া বরাদ্ধ কেহই পাচ্ছেনা ঠিকঠাক মতো। সাহেবেরহাট এই ইউনিয়নের টাকায় চেয়ারম্যানের ব্যাংকে কয়েক লক্ষ টাকা,একটা আলীশান বাড়ী ও বেশ কয়েক যায়গায় খরিদকৃত সম্পত্তি রয়েছে বলে জানান-এলাকার সচেতন মহলরা। অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেছে,কমলনগর থানা থেকে মাত্র ১০০ গজ দুরে উপকুল কলেজ সংলগ্ন তার একটা ভবন রয়েছে। চেয়ারম্যান নিজেই সেখানে বসবাস করে। ব্যাপক অনুসন্ধানে জানা গেছে,আবুল খায়ের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগমুহুর্তে একটি প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষক ছিলো। যেভাবেই হউক চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার রাতা-রাতি তিনি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে কোটেপতি বনে গেছে। অনুসন্ধান চলছে । লোমহর্ষক আরো দুর্নীতি নিয়ে আসছে ধারাবাহিক প্রতিবেদন।
স/এষ্

