‘কে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন এটা একটা কূটতর্ক। তবে কূটতর্ক হোক আর যাই হোক সবাইকে এটা মেনে নিতে হবে জাতির পিতাই স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন, অন্য কেউ নয়।’
রোববার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সংবাদপত্র পর্যালোচনা ‘আজকের সংবাদপত্র’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেন দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার।
সমকালের সম্পাদক বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণা হয়েছিল ৭ মার্চ। বঙ্গবন্ধুর সেই আহ্বান, সেই দীপ্ত ঘোষণা ওটাই ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা। ওটাই স্বাধীনতার ঘোষণা, এর বাইরে কেউ এসে স্বাধীনতার ঘোষণা করেননি।’
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অভিযান অপারেশন সার্চ লাইট শুরুর পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর ইপিআরের ওয়্যারলেস দিয়ে সে ঘোষণা প্রচার হয়। আর পরের দুই দিন চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এটার প্রচার চলে।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত বিভিন্ন দৈনিক প্রত্রিকায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে গ্রেপ্তারের পূর্বেই শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের লেখা ‘এরা অব শেখ মুজিব` (শেখ মুজিবুরের শাসনামল) গ্রন্থেও বলা হয়, শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেছেন।
১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত লে. কর্নেল জিয়াউর রহমানের লেখা জাতির জনক শিরোনামে প্রবন্ধের জিয়াউর রহমান ওই ২৫ মার্চের বিস্তারিত বিবরণ দেন। কিন্তু কোথাও নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করেননি। তিনি বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক বলে আখ্যায়িত করেন।
১৯৭৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি হিসেবে জিয়াউর রহমানের দেয়া ভাষণেও তিনি ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ সম্পর্কে বলেছিলেন ‘কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে আপনাদের উদ্দেশে কথা বলার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল।’ কিন্তু তিনি ওই ভাষণেও নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করেননি।
স/এষ্

