সপ্তাহজুড়ে বেশি দামেই পাওয়া যাচ্ছে পেঁয়াজ। শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ায় রাজধানীর বাজারগুলোতে স্বস্তি এসেছে। দাম কম থাকায় ক্রেতারা পছন্দ মতো সবজি কিনতে পারছেন। সবজির পাশাপাশি দাম কমেছে কাঁচামরিচের। চালের দাম এখনো ক্রয় ক্ষমতার বাইরেই।
শুক্রবার মিরপুর, বাড্ডা, মহাখালী ও কারওয়ানবাজারের আশপাশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শীতের সব সবজি এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। কোনো কিছুরই কমতি নেই। ফলে ৫ টাকার মধ্যেই মিলছে শাক। অনেক সবজিই পাওয়া যাচ্ছে ২০-৩০ টাকার মধ্যে।
পেঁয়াজের দামের বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছরের শেষ দিকে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে দাঁড়ায় কেজিপ্রতি ১৫০ টাকায়। আমদানি করা পেঁয়াজও শতক হাঁকায়। ডিসেম্বরের শেষার্ধ থেকে কমতে থাকে পেঁয়াজের দাম। আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। একই ছিল অবস্থা নতুন দেশি পেঁয়াজের।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতের অন্যতম প্রধান সবজি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা পিস। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বাঁধাকপি। শালগম বিক্রি হচ্ছে ১৫-২৫ টাকায়। বেগুনের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ২০-৩০ টাকায়। মুলা প্রতিকেজি ১৫-২০ টাকা। ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে পাকা টমেটো।
পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও অধিকাংশ ছোট ছোট বাজারগুলোতে পুরাতন দেশি পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন দেশি পেঁয়াজ ও আমদানি করা পেঁয়াজের ঘাটতি নেই বাজারে। আমদানি করা পেঁয়াজ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়। নতুন দেশ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়। পুরাতন দেশি পেঁয়াজের দাম ১১০-১২০ টাকা।
সবজির এমন দামে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে। মিরপুর বাজারে সবজি কিনতে আসা মাকসুদ আলম বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে সবজির দাম বেশ কম। আগে এক কেজি শিম কিনতে যে টাকা খরচ হতো এখন সেই দাম দিয়ে ৩-৪ রকমের সবজি কেনা যায়।
কাওরানবাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা নাজ খানম জানান, শীতকালে সব সবজির দামই কম থাকে। তারই প্রভাব এখন বাজারে দেখা যাচ্ছে। অধিকাংশ সবজির দামেই এক মাসের ব্যবধানে বেশ কমেছে। তবে শিম, ফুলকপি ও টমেটোর দাম আরো কম হওয়া উচিত। তারপরও এখন বাজারে সবজির দাম যা, তা কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক।
পেঁয়াজের আকাশচুম্বী দামের কারণে ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই অনেক বাজারেই দেশি পেঁয়াজের সংকট দেখা দেয়। সে অবস্থা এখনো বিদ্যমান।
খুচরা ব্যবসায়ী আসিফ আলী বলেন, বাজারে পুরাতন পেঁয়াজের সরবরাহ কম। তাই দাম কিছুটা বাড়তি। নতুন ও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কমেছে। তা আগের মতো নয়। সামনে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়বে, এতে দামও কমবে বলে আশা করছি।
এদিকে সবজির পাশাপাশি কিছুটা স্বস্তি রয়েছে কাঁচামরিচে। রাজধানীর এই বাজারগুলোতে কাঁচামরিচ আগের সপ্তাহের মতোই ৭০-৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে নতুন আসা পেঁয়াজের কলি বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহেও এই দামে বিক্রি হয় শীতের সবজিটি। কাঁচা পেঁপে ২০-২৫, শিম কেজিপ্রতি ৪০-৫০, লাউ ৩০-৫০, নতুন আলু ২০-২৫ ও পুরাতন আলু ১০-১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এই সপ্তাহে চালও বাড়তি দাম দিয়েই কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। মোটা চাল ৪৫ টাকা ও মিনিকেট চাল কেজিপ্রতি বিক্রি ৬২ টাকায়।
গরুর মাংস ৪৮০-৫২০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। এছাড়া ব্রয়লার মুরগি ১৪০ ও লেয়ার লাল মুরগি বিক্রি হয় ১৬০ টাকা দরে।
স/এষ্

