নওগাঁ প্রতিনিধি :
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বেগুন জোয়ার দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওই স্কুলের এক ছাত্রীকে শ্লীতাহানীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর ওই ছাত্রীর বাবা একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এছাড়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অনুলিপি প্রেরণ করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয় চলাকালিন সময়ে ১০ম শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক আবু সাদাত শামীম আহম্মেদ মিঠু তার অফিসে ডেকে বিভিন্ন আলাপ আলোচনা করেন। এক পর্যায়ে বিয়ের প্রস্তাব সহ কুপ্রস্তাব দেন তিনি। স্কুল থেকে ফিরে ওই ছাত্রী বিষয়টি তার বাবাকে অবহিত করে এবং আর স্কুলে যাবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মৌখিক ভাবে জানান। প্রধান শিক্ষক আর কোন ধরণের খারাপ আচরণ করবেনা মর্মে ওই ছাত্রী আবারও স্কুলে যাওয়া শুরু করে।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি স্কুল থেকে স্বপ্নপুরী পিকনিকে যাওয়া হয়। সেখানে ওই ছাত্রীর বাবাও ছিলেন। পিকনিক থেকে আসার পর ওই ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন বলে প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন স্থানে বলে বেড়ান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক ভাবে প্রভাব খাটিয়ে স্কুলে অনিয়মসহ যা ইচ্ছে তাই করে চলছেন ওই শিক্ষক। এলাকার প্রভাবশালী হওয়ার স্থানীয়রা কিছু বলার সাহস পাননা। নারী কেলেঙ্কারি চতুর ওই শিক্ষক বিভিন্ন মহলকে টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দিয়ে পার পেয়ে যান। বর্তমানে অভিভাবকরা মেয়েদের ওই স্কুলে পাঠাতেও সংকোচ বোধ করছেন। না জানি কোন মেয়েকে কখন কি করে বসেন। এতে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যহৃত হচ্ছে। ওই শিক্ষকের কারণে অনেক অভিভাবক মেয়েদের অন্য স্কুলে পড়াশুনা করাতে বাধ্য করছেন।
ইভটিজিংয়ের অপরাধ করা হলে তৎক্ষনাত ভ্রাম্যমান আদালতে বিচার করা হয়। অথচ ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীদের উতক্ত করার অভিযোগ থাকলেও কোন সুবিচার হচ্ছেনা। প্রধান শিক্ষককের উপযুক্ত শাস্তির দাবী জানান অভিভাবকসহ এলাকাবাসী।
দশম শ্রেণীর ছাত্র আসাদ, মানিক, তরিকুল, সাজুসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ছাত্রী বলেন, বিভিন্ন শ্রেণীর সুন্দরী মেয়েদের সাথে প্রধান শিক্ষক সম্পর্ক গড়ে তুলেন। তারপর গল্পের ছলে গায়ে হাত দেয়াসহ যৌন নিপীড়ন করেন। মেয়েরা শিক্ষককে ভয়ে কিছু বলারও সাহস পায়না। এসব বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকবার তাকে উত্তোমাধ্যমও দেয়া হয়।
ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, এমন মিথ্যা অপবাদে আমার মেয়ে যেকোন সময় আত্মহত্যা করতে পারে। তাকে নিয়ে আমরা পরিবারের সবাই দুশ্চিন্তায় রয়েছি। মেয়ের আত্মসম্মান রক্ষাসহ স্কুলের আর কোন মেয়ের এমন ঘটনার স্বীকার না হয় এজন্য ওই শিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তি চাই।
সকল অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আবু সাদাত শামীম আহম্মেদ মিঠু বলেন, পিকনিকে বিভিন্ন অভিভাবকরাও গিয়েছিলেন এবং সফল ভাবেই তা সম্পন্ন হয়েছে। আমার মান মর্যাদা ক্ষুন্ন এবং হেয় করার জন্য উদ্যেশ্য প্রণোদিত ভাবে একটি মহল এটি রটিয়েছেন।
স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আ.স.ম শফি মাহমুদ বলেন, অভিযোগ একটি হয়েছে। সেটির তদন্ত করছি। সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বদলগাছী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াশিউর রহমান অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিষয়টি দেখব এবং ম্যানেজিং কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান।
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুসাইন শওকত বলেন, এব্যাপারে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে প্রায় দুই বছর আগে নারী কেলেঙ্কারী ও বেশ কিছু অনিয়মের কারণে অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রী সম্মিলিত ভাবে আন্দোলন করে ওই শিক্ষককে স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়। এক বছর স্কুলের বাহিরে থাকার পর তার কিছু মদদপৃষ্টদের সহযোগীতায় আবারও স্কুলে প্রবেশ করে।
স/শা

