ঢাকাশুক্রবার , ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

নেদারল্যান্ডের সহায়তায় গড়ে উঠেছে ক্রয় বিক্রয় কেন্দ্র ‘সফল’

admin
ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৭ ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাঘারপাড়া(যশোর) থেকে :

শতভাগ কীটনাশক মুক্ত সবজি চাষের অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছে বাঘারপাড়ার একটি অঞ্চলের কৃষক। এ অঞ্চলের কৃষকরা ৪/৫ বছর যাবত এ অঙ্গীকার নিয়ে সবজি চাষ করে সাফল্য পেয়েছে।তাদেও সাফল্য দেখে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে বেসরকারী এনজিও জাগরনী চক্র।এবছর থেকে এ অঞ্চলের আরো অনেক কৃষক এ প্রত্যয়ের সঙ্গে সুর মিলিয়ে সবজি চাষে আর কীটনাশক ব্যবহার করবেননা বলে প্রত্যয় ঘোষনা করেছে।সংগঠিত এ এলাকার কৃষকদের এখন সবজি বিক্রি করতে হাটে বাজারে যাওয়া লাগেনা। নেদারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান সলিডারিডেড এর আর্থিক সহায়তায় এ এলাকায় গড়ে উঠেছে সবজি ক্রয় বিক্রয় কেন্দ্র ‘সফল’।
জামদিয়া ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামের ৬৬ বছর বয়সের কৃষক ইউসুফ আলী বিশ্বাস। তিনি ১৩ বছর ধরে সবজি চাষ করছেন। সফল এ চাষী সবজি চাষেই আনন্দ পান। তিনি বলেন, সবজি বিক্রি করতে হাটের আড়তদারের সহায়তা নিতে হত। আড়তদার ছাড়া সবজি বিক্রির কোন পথ ছিল না। আড়তদার কত দামে সবজি বিক্রি করলো তা বোঝারও উপায় নেই। দাম যা দিত তা নিয়েই বাড়ি ফিরতে হত। সবজি বিক্রির দিন শ্রমের অপচয় হত।যানবাহনের ঝামেলাও রয়েছে। এখন আর এ সব কোন ঝামেলা নেই। নিজ এলাকায় সবজি ক্রয় বিক্রয় কেন্দ্র ‘সফল’ এ সবজি নিয়ে আসি। সরাসরি পাইকারি ব্যবসায়ির নিকট সবজি বিক্রয় করি। ‘সফল’ এর কার্যক্রম চলছে তিন বছর ধরে। এ এলাকার অধিকাংশ সবজিই ঢাকার আগোরা মার্কেটে বিক্রি হয়।
করিমপুর গ্রামের আরেক কৃষক হায়দার আলী বলেন, আর্থিক সহযোগিতায় ও জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের তত্তা¡বধানে সবজি ক্রয় বিক্রয় কেন্দ্র ‘সফল’ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এখানে এ এলাকার কৃষক তাদের উৎপাদিত লাউ, কফি, শশা, ইত্যাদি সবজি নিয়ে আসে। পাইকারি ব্যবসায়িরা সঠিক দামে এখান থেকে সবজি ক্রয় করে। এতে সাশ্রয় হয় আড়তদারের কমিশন ও যানবাহন ভাড়া। ‘সফল’ এ শুধু করিমপুর গ্রামের কৃষকরাই সবজি নিয়ে আসেন না। পাশের গ্রাম খলশী ও জামদিয়ার কৃষকরাও এখানে সবজি নিয়ে আসেন। এ সব সবজি বহন করতে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন দুটি ইঞ্জিন চালিত ভ্যান দিয়েছে। বীজ ও অন্যান্য কাজের জন্যও আরো একটি ভ্যান দিয়েছে। এ ছাড়াও জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের একজন কর্মী নিয়োজিত আছেন। যিনি সার্বক্ষণিক কৃষকের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন। নিয়মিত যাতায়াত করেন সবজির ক্ষেতে। প্রযুক্তি সহায়তার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন রকম পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এসবের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা হয়েছে কৃষি উপকরণ ও তথ্য সেবা কেন্দ্র। এ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য মঈনউদ্দিন নামের একজনকে ৭০ হাজার টাকার মালামাল দিয়েছে সহায়তাকারি প্রতিষ্ঠান। এ ভাবেই দীর্ঘ চার বছর ধরে চলছে ‘সফল’ এর কার্যক্রম।
এ এলাকার কৃষক মোশারেফ খাঁন, কাইজার আলী, শামসুর রহমান, সাত্তার সরদার জানিয়েছেন, তারা রাসায়নিক সারের বদলে ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহার করছেন। কীট নাশকের বদলে ফেরোমান ট্রাপ পদ্ধতি কাজে লাগাচ্ছেন। অনেকেই কীটনাশক ব্যবহার ছেড়ে দিয়েছেন। যারা যৎ সামান্য ব্যবহার করছেন তারা এ বছর থেকে কীটনাশক ছেড়ে দিবেন।
কৃষকদের কীটনাশক মুক্ত সবজি চাষে সাফল্য পাওয়ায় ইতমিধ্যে নেদারল্যান্ডের দ্বাতা সংস্থার প্রতিনিধি ও নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত অফিসের কর্মকর্তারা সবজিক্ষেত পরিদর্শন করেছেন।এছাড়া বিটিভি এর কৃষি বিষয়ক প্রতিবেদক দেওয়ান শিরাজ কীটনাশক মুক্ত সবজি চাষে সাফল্য বিষয়ক একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন এবং তা প্রচার ও করেছেন।

স/শা