ভোজন রসিকরদের উপচে পড়া ভিড়
খাইরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি: এখনো প্রকৃতিতে শীত ঝেঁকে না বসলেও শীতের আমেজ লেগেছে ঝালকাঠি সদর উপজেলাসহ গ্রামগঞ্জে। কুয়াশা ভোর, শিশির, হিম বাতাস জানান দিয়েছে শীতের আগমনী। এরমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে রাস্তার মোড়ে মোড়ে শীত পিঠার আয়োজন।
শীত মানেই পিঠার আয়োজন। এসময় গ্রামঞ্চলে শুরু হয়ে যায় নতুন চাল আর রসের পিঠার উৎসব। পাগল করা ঘ্রাণে মৌ মৌ করে চারপাশ। শীতের সব পিঠার মধ্যে ছোট বড় সবার কাছে প্রিয় ভাপা পিঠা। শীতকালের সকালে কিংবা বিকেলে নতুন খেজুরের গুড় দিয়ে গরম গরম ভাপা পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। তাই শীত আসলেই শহরের রাস্তার মোড়ে মোড়ে জমে ওঠে ভাপা পিঠা খাওয়ার আয়োজন। সঙ্গে নানা ভর্তার সঙ্গে চিতই পিঠা খাওয়ার আয়োজনও চলে একই সময়ে। এই এক পরিচিত দৃশ্য শহুরে জীবনে।
শীত আগমনী বার্তায় এমন পরিচিত দৃশ্যের দেখা মিলতে শুরু করেছে ঝালকাঠি পৌর এলাকাসহ আসপাশের গ্রামঞ্চলের অলিগলি, রাস্তার মোড়ে মোড়ে এখন পিঠা বানানো আর খাওয়ার ধুম। সন্ধ্যায় হিম শীতে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাপা পিঠা কিংবা চিতই পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা ভোজন রসিকরদের কাছে।
শহরের বাসস্ট্যান্ডে ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান খুলে বসেছেন মৌসুমী পিঠা বিক্রেতা নুরজাহান বেগম। এলাকার সকলের কাছে নুরজাহান খালা নামেই পরিচিত তিনি। রাস্তার ধার ঘেঁষে মাটির উনুনে হাঁড়ি চাপিয়ে একের পর এক বানিয়ে চলেছেন ভাপা পিঠা। বাড়ি থেকে তৈরি করে আনা পিঠার খামির, তার সঙ্গে নারিকেল কোড়া, আর গুড় দিয়ে তৈরি করছেন সুস্বাদু পিঠা। ছোট আর বড় এই দু’সাইজে বানাচ্ছেন ভাপা পিঠা। ছোট পিঠার দাম ৫ টাকা আর বড় পিঠা ১০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। আর তাকে ঘিরে বিভিন্ন বয়সী ক্রেতারা। শহরের অফিস ফেরত অনেকে কিনে খাচ্ছেন, আবার কেউ ৫ থেকে ১০ টা অর্ডার দিয়ে বানিয়ে নিচ্ছেন পরিবারের জন্য।
নুরজাহান খালা জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই বসছেন গত দু’সপ্তাহ ধরে। ভালোই বিক্রি হয়। কেউ কেউ অর্ডার দিয়ে যান পিঠা বানানোর জন্য। আবার অনেকে গরম গরম পিঠা কিনে খান তৎক্ষণাৎ।
একই চিত্র শহরের বড় বাজার, কালীবাড়ি রোড, থানার মোড়, বায়তুল মোকাররম চৌমাথা, ফায়ারসার্ভিস মোড়, পূর্ব চাঁদকাঠি চৌমাথা, কলেজ মোড়, ব্র্যাক মোড়, গাবখান ব্রিজের টোলঘরসহ অর্ধশতাধিক এলাকার রাস্তার পাশে বিক্রি হচ্ছে শীতের পিঠা। শীতের বাহারি পিঠাপুলির পসরা সাজিয়ে বসেছেন মৌসুমী অনেক দোকানি। বিকেল ৪টার পর থেকে পিঠা বিক্রি শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে। শুধু ভাপা পিঠা নয়, চিতই পিঠা বানানোর আয়োজনও শুরু হয়েছে শীত আসার সাথে সাথে। কেউ কিনে খাচ্ছেন, কেউ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
শীত আসলেই মৌসুমী পিঠা ব্যবসায়ীদের এমন পিঠা বানানোর আয়োজন হরহামেশাই চোখে পড়ে। একদিকে ভোজন রসিকদের ভুরিভোজ আর অন্যদিকে কিছু মানুষের জীবিকার সন্ধান।
স/এষ্

