কলারোয়ায় হিন্দু স্বর্ণের দোকান মালিক লক্ষনের হাতে লাঞ্চিত ইমাম হাফেজ খাইরুল ইসলাম
ফিরোজ জোয়ার্দ্দার,সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় হিন্দু স্বর্ণের দোকানে স্ত্রীর গহনা তৈরীর খোঁজ নিতে এসে দোকানীর পায়ে থাকা জুতার বাড়ির আঘাতে লাঞ্চিত হলেন ঢাকা রূপগঞ্চ মসজিদের ইমাম হাফেজ খাইরুল ইসলাম।
তিনি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ওমরপুর গ্রামের মৃত মুসলিম সানার ছেলে এবং ঢাকা রূপগঞ্চ পূর্বাঞ্চল উপশহর ইসলামী ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও জামে মসজিদের ইমাম। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে পৌরসদর কাছারী মসজিদের সামনে শতরূপা জুয়েলার্সে ঘটে।
এই ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে তীব্র প্রতিবাদ করেন স্থানীয় মুসুল্লীসহ দোকানীরা। প্রতিবাদের ঝড় তোলেন হিন্দু দোকানী মালিকের উপর। অন্যায় হয়েছে বলে সবার সামনে স্বীকার করে মাপ চেয়ে পার পেয়ে যান হিন্দু স্বর্ণের দোকান মালিক লক্ষন অধিকারী।
লাঞ্চিত ইমাম খাইরুল ইসলাম বলেন, গত তিন মাস আগে শতরূপা জুয়েলার্সে এসে তার স্ত্রী স্বর্ণের গহনা তৈরী করতে দিয়েছে মালিক লক্ষনের কাছে। গহনা তৈরীর জন্য ২৮হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলে স্ত্রী অগ্রিম ১১হাজার টাকা দিয়ে দেয়। সাথে তার স্ত্রীর নাম ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার লিখে দেন দোকানীকে যোগাযোগ করার জন্য।
শর্তসাপেক্ষ লক্ষনকে বলেন’ ডিসেম্বরে হালখাতার আগে স্ত্রী গহনা তৈরী করে ডেলিভারী দিয়ে বাকি টাকা নেয়ার জন্য। কিন্তু দোকানী সময়মত গহনা তৈরী করতে না পারায় তাল বাহানা শুরু করে দেয়।
এদিকে স্বর্ণের গহনা সময়মত তৈরী করে না দিতে পারায় দোকানীর প্রতি ক্ষোপ তার স্ত্রীর। সেই জন্য স্ত্রীর কথা মতো স্বর্ণের দোকানে খোঁজ নিতেন ইমাম খাইরুল।
এছাড়া ইমাম খাইরুল আরোও বলেন, উপজেলার বাটরা গ্রামে তার শ্বশুর বাড়ি। সেই বাড়িতে যেন স্ত্রীর গহনা তৈরীর কথা বা হালখাতার দাওয়াত না দেয়া হয় সেজন্য দোকান মালিককে আহবান করেন স্ত্রী। যদি হালখাতার দাওয়াত দেয়া হয় তাহলে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের কাছে তাদের সন্মান নষ্ট হবে বলে জানান।
কিন্তু কে শোনে কার কথা। ঠিক দোকান মালিক লক্ষন ভূল করে হালখাতার দাওয়াত দেয় ইমাম খাইরুলের শ্বশুর বাড়িতে। তাতে পড়তে হয় যত ঝামেলা।
বিষয়টি জানতে পেরে ইমাম খাইরুল মান- সন্মানের ভয়ে দোকানী লক্ষনের কাছে যোগাযোগ করা হলে লক্ষন দোকানে এসে কথা বলতে বলেন।
সেই মোতাবেক গত মঙ্গলবার তার মামা আজগর আলী ঢাকাতে স্টোক করে মারা যাওয়ায় লাশ গ্রামের বাড়িতে এনে দাফন শেষে পরদিন বিকালে শ্বশুর বাড়ি যেয়ে সবার সঙ্গে দেখা করে রাতে ঢাকায় কর্ম স্থানে হাজিরা দেয়ার জন্য রওনা হন ইমাম।
ইমাম শতরূপা জুয়েলার্স স্বর্ণের দোকান মালিক লক্ষনের কাছে এসে স্ত্রীর গহনার তৈরীর কথা জানতে চাইলে এখনও তৈরী হয়নি বলে জানান লক্ষন। লক্ষন সময়মত গহনা তৈরী করতে না পেরে ইমামকে বলেন সময় দিতে হবে। সময় না দিলে আপনি অন্যে কোনো দোকান থেকে তৈরী করে নেন। ইমাম তার দোকান থেকে স্ত্রীর গহনা তৈরী করবেন না বললে লক্ষন ইমামকে বাকি টাকা দিতে হবে বলে হিসাবের খাতা ধরিয়ে দেয়। ইমাম হিসাবের খাতা দেখে আর টাকা দেবে না স্ত্রীর গহনা তৈরীও করবে না বলে হিসাবের খাতাটা সামনে গ্লাসের উপর জোরে রাখলে মাটিতে পরে যায়। খাতা মাটিতে পড়ে গেলে স্বর্ণের দোকানী লক্ষন দোকানের মধ্যে থাকা ইমামকে এলোপাতাড়ী কিল, ঘুসি, মারতে থাকেন।
এক পর্য্যায়ে লক্ষন তার পায়ে থাকা জুতা দিয়ে ইমামের শরীলে আঘাত করে হাফেজ খাইরুল ইসলামকে লাঞ্চিত করেন।
এদিকে উপজেলা ইমাম সমিতির সভপতি আবু জাফরের সাথে হাফেজ খাইরুল ইসলামকে হিন্দু স্বর্ণের দোকান মালিক লক্ষন জুতা দিয়ে মারার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তবে এটা খুব নেক্কার জনক ঘটনা। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আমরা ইমাম সমিতির নেতারা শুক্রবার সকালে ঘটনাটি তদন্ত কর জুম্মার নামাজের খুতবার সময় এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাবো। তারপর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ধর্ম অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তা না হলে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করবো।
এদিকে উত্তেজিত জনতার সামনে হিন্দু স্বর্ণের দোকান মালিক লক্ষন ও ইমাম খাইরুল ইসলাম দু’জনই জুতা দিয়ে মারার কথা স্বীকার করেন এবং লক্ষনের ভূল হয়ে গেছে বলে মাপ চেয়ে নেয় ইমামের কাছে। এরপর হাতে হাত দিয়ে তাদেরকে মিলিয়ে দেয়া হয়।
অথচ উত্তেজিত জনতা বলেন, জুতা মেরে গরু দান। লক্ষন যে অন্যায় করেছে তার শাস্তি হওয়া উচিত। আমরা স্বর্ণের দোকান মালিক লক্ষনের এমন ঘৃন্য কাজের বিচার চাই তা না হলে নিজেরাই ব্যবস্থা করবো।
এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে হিন্দু স্বর্ণের দোকান মালিক লক্ষন অধিকারীর বোন মুসলিম বলে জানা যায়। তবে অনুসন্ধান চলছে ২য় সংখ্যায় চোখ রাখুন কে এই স্বর্ণ ব্যবসায়ী লক্ষন।
বায়ে স্বর্ণের দোকানের মধ্যে মালিক লক্ষন অধিকারী ও ডানে হাফেজ ইমাম খাইরুল ইসলাম টুপি মাথায়। স্বর্ণের দোকানে লাঞ্চিত ঘটনার পর।
স/মা

