বদলগাছীতে বালু ব্যবসায়ীদের কবলে হুমকির মুখে
ফসলি জমি
খালিদ হোসেন মিলু বদলগাছী(নওগাঁ)সংবাদদাতাঃ
নওগাঁর বদলগাছীতে অবৈধ ভাবে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন করছে ব্যবসায়ীরা হুমকির মুখে পড়েছে বিদুৎতের খুটি ও ফসলি জমি। ইতিপূর্বে প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে একাধীকবার তা বন্ধ করে দিয়ে জরিমানা করলেও বন্ধ হয়নি বালু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম। সরকারী নিয়ম তোয়াক্কা না করে ইজারা নেওয়ার ক্ষমতা দেখিয়ে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ইচ্ছে মত যেখান সেখান হতে ড্রেজিং ও ট্রাক্টর দিয়ে বালু উত্তোলন করে চলেছে। উপজেলার দুইটি নব নির্মিত ব্রীজ, কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মানাধীন হাট সহ শত শত বিঘা ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা প্রশাসনের সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট যমুনা নদীর উপর সড়ক ও জনপদ বিভাগ গত কয়েকমাস আগে নওগাঁ হতে বদলগাছী হয়ে ঐতিহাসিক পাহাড়পুর ও জয়পুরহাটের সাথে সহজ যোগাযোগের জন্য ব্রীজ নির্মান করে। পাশেই রয়েছে নব নির্মানাধীন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, উপজেলার স্বনামধন্য লাবণ্য প্রভা পাইলট ও কমিউনিটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। আর নদীর পাড়েই রয়েছে কোটি টাকার মাটি ভরাট করে নির্মানাধীন হাট। অথচ বালু ব্যবসায়ীরা কোন কিছু তোয়াক্কা না করে ভড়াটকৃত হাটের নিচ হতেই কয়েকটি ড্রেজার মেশিন সহ শতশত ট্রাক্টর নামিয়ে অবাধে উত্তোলন করছে বালু। এতে দুপাশের শতশত বিঘা ফসলি জমিসহ নব নির্মিত ব্রীজ ,হাট ও গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া উপজেলার দাউদপুর গ্রামের নদী রক্ষা বাঁধের নিচ থেকে ড্রেজারদিয়ে বালু উত্তোলনের কারনে নদীর উত্তর পাশে বাঁধের গোড়ার দিকে ফাটল দেখা দিয়েছে। কিন্তু বালু ব্যবসায়ীরা সেখানেও কোন কিছুকেই গুরুত্ব না দিয়ে ট্রাক্টর দিয়ে বালু উত্তোলন করে চলেছে। এছাড়াও ড্রেজিং এর সাহায্যে উত্তোলিত বালু ফসলি জমির নিচেই গর্ত করে সেখানে ভরাট করছে ও জমির পাশ দিয়ে মাটি কেটে রাস্তা বাহির করে ট্রাক্টরে করে অবাধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গত বছর এই অপরাধে দুই বার ভ্রামম্যান আদালতের মাধ্যমে কিছু টাকা করে জরিমানা করে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিলেও বন্ধ হয়নি এখানকার বালু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম। এ বিষয়ে এলাকাবাসী একাধীকবার নিষেধ করলেও কোন কর্নপাত করছেনা বালু ব্যবসায়ীরা।
বদলগাছী সদরের নাসির উদ্দীন বলেন, সহীদুল ইসলাম.বাবু সহ দাউদপুর গ্রামের আয়েন উদ্দীন, বেলাল হোসেন সহ এলাকার সচেতন মহল মনে করেন যেভাবে এখানে বালু উত্তোলন হচ্ছে তাতে কয়েক বছরের মধ্যে নির্মানাধীন হাটটি নদীতে তলিয়ে যাবে এবং নব নির্মিত ব্রীজ ও মুক্তিযোদ্ধ কমপ্লেক্স সহ বেশ কিছু বসত বাড়ী স্থাপনা ঝুঁকিতে রয়েছে সে গুলো আগামী ২/৩ বছরের মধ্যেই নদী গর্ভে তলিয়ে যাবে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের উচিৎ এর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
এছাড়া বদলগাছী সদরে ছেলাকালী মন্দির নদীর উত্তর পার্শে পল্লী বিদ্যুতের ১১ হাজার ভোল্টের তার ঝুলানো খুঁটির গোড়া পর্যন্ত ধস নেমেছে যে কোন মূহুর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এবিষয়ে বদলগাছী পল্লী বিদ্যুৎতের এরিয়া অফিসের এজিএম মোঃ আব্দুল মতিন বলেন আমি নতুন যোগদান করেছি আমি জরুরী ভাবে লোক পাঠিয়ে দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব। অপর দিকে বালু ব্যবসায়ীরা হুমকি স্বরূপ বলছে আমরা সরকার হতে লিজ নিয়ে বালু তুলছি আমাদের যেখানে সুবিধে সেখান হতে বালু উত্তোলন করব তাতে তোমরা বাধা দেবার কেউ নয়।
এবিষয়ে বদলগাছী উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম আলী বেগ এর সংগে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করাহলে তিনি ফোন রিসিব করেননি। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছে এলাকাবাসী।#
স/মা

