ঝালকাঠি মুক্তদিবসে ডিসির নেতৃত্বে শোভাযাত্রা
খাইরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠিতে হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও সবাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার সকালে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে সমাবেশে মিলিত হয়।
জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধারা ৮ ডিসেম্বর ঝালকাঠি মুক্তদিবসের স্মৃতি চারণ করেন।
উল্লেখ্য: ৭ ডিসেম্বর রাতে শহরে এক পাকি দোষর রাজাকার কার্ফু ঘোষণা করে। ‘৮ ডিসেম্বর ভোরে রাস্তায় যাকে দেখা যাবে তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে’ বলে। কিন্তু ভোর হওয়ার আগেই ঝালকাঠিতে থাকা পাকবাহিনী নৌ যোগে শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়।
সে সময়কার তরুণ মুক্তিযোদ্ধা বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত ঝালকাঠি সরকারি মহিলা শিক্ষক আনোয়ার হোসেন পান্না জানান, কুখ্যাত বারেক রাজাকার ৩৬ সদস্যের রাজাকার বাহিনী নিয়ে শহরের কাঠপট্টি এলাকায় তার নেতৃত্বে তরুণ মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়দের কাছে আত্মসমর্পন করে। পাকবাহিনী শহর ছেড়ে যাওয়ার পর রাজাকারা পালাতে শুরু করেছিল। এসময় তরুণ মুক্তিযোদ্ধারা জয় বাংলার স্লোগান দিয়ে রাজাকারদের ঘিরে ফেললে রাজাকারা নিজেদের রাইফেল ফেলে আত্মসমর্পণ করে। পরে রাজাকারদের শহরের পশ্চিম ঝালকাঠি নিয়ে গেলে স্থানীয় জনতার গণধোলাইয়ে কুখ্যাত রাজাকার বারেক নিহত হয়।
এদিকে ৮ ডিসেম্বর সকাল থেকেই ঝালকাঠি শহরের চারপাশে অপেক্ষমান মুক্তিযোদ্ধারা দলে দলে ঢুকতে শুরু করেন। সন্ধ্যায় ঝালকাঠি থানা অবরুদ্ধ করে মুক্তিযোদ্ধারা। তৎকালীন পুলিশের সিআই শাহ আলম আনুষ্ঠানিক ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে অস্ত্র সমর্পন করেন।
ঝালকাঠির তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সেলিম শাহনাজের কাছে ঝালকাঠি থানা পুলিশ অস্ত্রসহ অত্মসমর্পনের করলে চুরান্ত ভাবে মুক্ত হয় এ জেলা।
সবাবেশে জেলার মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ এতে উপস্থিত ছিলেন।
স/মা

