আজ বাঘারপাড়া সত্রু মুক্ত হয়
আজম খাঁন,বাঘারপাড়া(যশোর) থেকে ঃ
৭১ এর ৮ ডিসেম্বর বাঘারপাড়া সত্রু মুক্ত হয়।আজ বাঘারপাড়া উপজেলাবাসীর খুশি ও আনন্দের দিন । ১৯৭১ সালের এদিনে রাজাকারদের বিতাড়িত করে বাঘারপাড়াকে শুত্রুমুক্ত করে এখানকার দামাল ছেলেরা । এই দিন স্থানীয় পাইলট স্কুল মাঠে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে সহযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে বিজয়ের লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করেন তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল আজিজ বিশ্বাস। এসময়”জয় বাংলা”স্লোগানে মুখরিত হয় বাঘারপাড়ার পাইলট স্কুলের সবুজ চত্তর। শুরু হয় বিজয় উল্লাস।
এ উল্লাসে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি যোগ দেন অসংখ্য সাধারন মানুষ । এ প্রসঙ্গে তৎকালীন কমান্ডার আব্দুল আজিজ বিশ্বাস বলেন ,৭ ডিসেম্বর উপজেলার ধলগ্রাম পাকসেনা ও রাজাকারদের সাথে আমাদের ( মুক্তিযোদ্ধাদের ) সম্মুখযুদ্ধ হয় । এ যুদ্ধে আমরা বিজয় লাভ করি । পাকসেনা ও রাজাকারদের হটিয়ে প্রথমে আমরা ধলগ্রাম এলাকা শত্রুমুক্ত করি । এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থাকা পাকিস্থানী দোসররা পালিয়ে য়ায় । আর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ফিরে আসে স্বস্তি । স্বাধীন বাঘারপাড়াবাসী আপেক্ষা করতে থাকে নতুন ভোরের । অবশেষে আসে সেই মহেন্দ্রক্ষন ৮ ডিসেম্বর । এ দিন ভোর থেকে ঢোল বাদ্য নিয়ে বাঘারপাড়া পাইলট স্কুলমাঠে হাজার হাজার নারী পুরুষ ।
ঢোল বাদ্যআর জয় বাংলার ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে বাঘারপাড়া স্কুলের সবুজ চত্তর । ঘড়িতে ১০টা বাজার সাথে সাথে তৎকালীন কমান্ডার আব্দুল আজিজ বিশ্বাস সহযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে জাতীয় সংগীতের তালে তালে এই স্কুল মাঠে বিজয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর এখানে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পন করতে থাকে পাকসেনা ও রাজাকাররা । বাঘারপাড়া থানার তৎকালীন ওসি আব্দুল হাকিমের কাছে জমাপড়ে ২৮৫ টি অস্ত্র । এদিকে আজ ৮ ডিসেম্বর মুক্ত দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন গ্রহন করেছে নানা কর্মসূচি । উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহনাজ বেগম বলেন ,এ উপলক্ষে র্যালি , আলোচনা সভা বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে।
স/মা

