গৌরীপুরে যুবলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ইউএনও’র
বাসভবন সহ ৪ স্থানে ককটেল পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ
১৪৪ ধারা জারি ॥ স্থানীয় এমপি’র কুশপুত্তলিকা দাহ
গৌরীপুর ময়মনসিংহ থেকে শেখ বিপ্লব
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবন সহ পৃথকস্থানে ৪টি পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সংর্ঘষ এড়াতে দুপুরে সম্মেলন স্থানসহ তার আশাপাশে ১৪৪ ধারা জারী করেছে প্রশাসন। ফলে পুর্ব নির্ধারিত উপজেলা যুবলীগের সম্মেলনটি বানচান হয়ে যায়। এর প্রতিবাদের বিকালে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সানাউল হকের নেতৃত্বে স্থানীয় এমপি’র বিরোদ্ধে শহরে জুতা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে উপজেলা আওয়ামীলীগ অফিসের পার্শে কালিখলায় এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহম্মেদের কুশপুত্তলিকা দাহ করে।
পুলিশ ও নেতা কর্মী সূত্রে জানা যায়, ১৩ বছর পর গৌরীপুর উপজেলা যুবলীগের সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। যুবলীগ নেতা কর্মীরা উৎসব মুখোর পরিবেশে, গণতান্ত্রীক প্রকৃয়ায় যোগ্য নেতা নির্বাচনের জন্য ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবারের দিকে তাকিয়ে ছিল। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন এরি মাঝে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে দূর্বৃত্তরা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শহরের বঙ্গবন্ধু চত্বরে আয়োজিত সম্মেলন মঞ্চটি আগুন লাগিয়ে আংশিক পুড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি ভোরে শহরের কালিপুর মোড়, বালুয়াপাড়া মোড়, পাটবাজার মোড়ে পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। রাতে মঞ্চটি পুড়ে দেয়ার পর সকালে আবারও মঞ্চটি মেরামত করা হয় বলে আয়োজকরা জানান। গৌরীপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ দেলোয়ার আহমেদ জানান, শহরের বঙ্গবন্ধু চত্বরে আয়োজিত সম্মেলন মঞ্চটি বৃহস্পতিবার ভোর রাতে কে বা কারা আগুন লাগিয়ে আংশিক পুড়িয়ে দেয়। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থানে ৪টি ককটেল বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটায়। সকাল সোয়া ১০টায় দিকে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবনে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে আতংক সৃষ্টি করে দুর্বৃত্তরা। তিনি আরো জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যাপ্ত র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ইউএনও’র গৃহকর্মী সাতুতী গ্রামের নুর ইসলামের স্ত্রী জোহরা খাতুন জানান, সকাল সোয়া ১০টার দিকে বাসার পেছনের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পান।
এরপর আগুন ধরে যায়। ইউএনও মর্জিনা আক্তার জানান, এসময় তিনি অফিসে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে বাসায় গিয়ে ঘটনাস্থলে বোমার বিস্ফোরণের কাচ ও বোমার আলামত দেখতে পান। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে বোমার আলামত উদ্ধার করেছে। এর কিছুক্ষণ পরেই আইন শৃখংলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা আক্তার সম্মেলন স্থলসহ আশপাশ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন। সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা আক্তার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, ‘অদ্য ৩০/১১/২০১৭ ইং গৌরীপুর উপজেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন শহীদ হারুণ পার্ক সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন ধার্য আছে। উক্ত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পক্ষ বিপক্ষের লেঅক জন বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হওয়ায় বিরোধ প্রকাশ্য রূপ ধারণ করেছে’। ‘ইতোমধ্যে, পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংঘর্ষ ও ছোট ছোট বোমা নিক্ষেপের সংবাদ পাওয়া গিয়েছে। বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে নিম্নস্বাক্ষরকারীর নিকট অফিসার ইনচার্জ, গৌরীপুর থানা প্রতিবেদন দাখিল করায় জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করনে বঙ্গবন্ধু চত্বর, শহীদ হারুন পার্ক ও আশেপাশে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকল্পে আমি মর্জিনা আক্তার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, গৌরীপুর, ময়মনসিংহ অদ্য ৩০/১১/২০১৭ তারিখ বেলা ১২.০০ টা হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ফৌজধারী কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি ও বলবৎ করলাম।’ তাৎকক্ষণিক ১৪৪ ধারা জারির এ আদেশের খবর পেয়ে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ,র্যাব,ডিবি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সানাউল হক জানান,এমপি স্থানীয় এমপি নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ একটি পক্ষে অবস্থান নিয়ে সম্মেলন বানচাল করার জন্য পূর্বপরিকল্পিত ভাবে এসব করেছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন জুয়েল বলেন, উত্তেজনা কর পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় উক্ত সম্মেলনটি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে বলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বিধু ভূষণ দাসকে জানিয়েছেন জেলা যুবলীগের আহবায়ক এডভোকেট আজাহারুল ইসলাম।
স/মা

