বাঘারপাড়ার দোগাছি-বাকড়ী রাস্তা খানা-খন্দুপে ভরপুর
জনদুর্ভোগ চরমে
মোঃ আজম খাঁন,বাঘারপাড়া(যশোর) থেকে ঃ
বাঘারপাড়ার জনগুরুত্বপুর্ন দোগাছি-বাকড়ী রাস্তাটি খানা-খন্দপে ভরপুর। চলাচলের জন্য সম্পুর্নভাবে অনুপোযোগী হওয়ায় চরম দুর্ভোগে বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের এগারোখানবাসী। এলাকার শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকুরিজীবি ও ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের কাছে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে রাস্তাটুকু। সেখানে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় নানা রকম দুর্ঘটনা। পরিত্রাণ পেতে বিভিন্ন দপ্তরেও যাচ্ছেন তারা। কিন্তু কোন পারবর্তনই দৃশ্যমান হচ্ছে না।
শতভাগ শিক্ষিত ১১খানের এ জনপদের ভোগান্তি জন্মলগ্ন থেকে। এলাকায় দুইটি বালিকা ও তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহ সাতটি প্রথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। এ ছাড়াও তিনটা বজার আছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী সহ অসংখ্যা যানবাহন এ পথ দিয়ে চলাচল করে। বর্ষা মৌসুমে অনেক শিক্ষার্থী পড়ে কাদামাটি মাখিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। অনুরুপ চাকুরিজীবিদের বেলায়ও ঘটার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকড়ী গ্রামের প্রভাষ ঘোষাল ও তার স্ত্রী চাকরি করেন বোয়ালিয়া-বাসুয়াড়ী নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যলয়ে ও দশপাখিয়া সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ে। তারা দুজনে বলেন সেদিন মটরসইকেল যোগে স্কুলে যাচ্ছিলাম। কিন্তু এই ভাঙ্গা জায়গায় পড়ে গিয়ে আমাদের উভয়েরই স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। বাকড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী রিংকি ভৌমিক ও দৃষ্টি লস্কর অনুযোগের সুরে বলে, অমরা সেদিন বাইসাইকেলে করে স্কুলে যাচ্ছিলাম,ভাঙ্গা রাস্তায় পড়ে গিয়ে আমরা আহত হই ও আমাদের সাইকেল ভেঙ্গে যায়। এর পর কয়েক দিন আর স্কুলে যেতে পারিনি। বাকড়ী গ্রমের শিক্ষক উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, আগের কাদাই ভলো ছিলো।
কারন এখন পড়ে গেলে ইটের আঘাতে অনেকে আহত হচ্ছে। ইউপি বা ইঞ্জিনিয়ার অফিস আমাদের এ রাস্তাটি কি দেখে না ? এ ছাড়াও কৃষি নির্ভর এখানকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে ও হাটে বিক্রী করতে পড়ছে ভয়াংকর ঝুকিতে। গরুর গাড়ি, ভ্যান, বাইসাইকেল, মটরসাইকেল ও বিভিন্ন কোম্পানির ডেলিভারি ভ্যান আটকে যায় এ কাদায়। দোগাছি গ্রামের ব্যংকার দুলাল বিশ্বাস বলেন, ২০০৭ সালে পাকা ও সোলিং রাস্তা হওয়ায় কাদার বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাই। কিন্তু নি¤œ মানের উপকরণ ব্যবহারের কারণে মাত্র দুই বছরের মাথায় সব রাস্তাই ভেঙ্গে-চুরে চুরমার হয়ে যায়। সংস্কারের অভাবে সকল রাস্তা এখন চলাচলের সম্পুর্ণ অনুপযোগি।বিশেষ কওে ১৫ মিটার রাস্তার ধ্বংসস্তুপ ও খুজে পাওয়া কঠিন।এখানেই সব চেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্র জানা যায়, এ ভাঙ্গাচোরা রাস্তাটি বাক্ড়ী টু বাসুয়াড়ী রাস্তার অন্তভর্’ক্ত। কাঁচা পাকা মিলে যার দুরত্ব ১০.৫০০ কিঃমিঃ। এর মধ্যে মাত্র ৫০০ মিটার রাস্তা চলাচলের সম্পুর্ণ অনুপযোগী। যা দোগাছির মোড় থেকে বাক্ড়ীর খেলার মাঠ (গো-চর ) পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, আমি রাস্তাটি দেখেছি। কিন্তু ফান্ডের কারণে তাড়াতাড়ি কিছু করা যাচ্ছে না। উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের সাথে আলোচনা করে চলমান ফান্ড থেকে কিছু করা যায় কি-না দেখছি।
এলাকাবাসী যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট অতি দ্রুত এ রাস্তাটির সংস্কার /পুনঃনির্মান দাবী করেছে।
স/মা

