ঝালকাঠির নলছিটিতে শিক্ষকদের সহযোগিতায় নকল
মোঃ রাজিব তালুকদার:
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বি.জি ইউনিয়ন একাডেমিতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় শিক্ষকদের সহযোগিতায় নকল চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষকেরা সমঝোতা করে পরীক্ষা শুরুর আগে মুঠোফোনে নৈর্ব্যক্তিক ও রচনামূলক প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে তা বাইরে নিয়ে যান। পরে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকেরা সঠিক উত্তর লিখে তা পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সংশ্লিষ্ট বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়। স্থানীয় অভিভাবকরা বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীদের অবগত করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় ওই কেন্দ্রে শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি নকল সরবরাহকারী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। প্রথম দিন থেকেই দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের একাংশের সহযোগিতায় পরীক্ষর্থীরা প্রকাশ্যে নকল করলেও অপরাংশ থাকছেন দর্শকের ভূমিকায়। পরীক্ষায় নকল করার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক ও অফিস সহকারী প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে তুলেছেন।
বি.জি ইউনিয়ন একাডেমির গণিত বিভাগের শিক্ষক মো. আজমল হোসেন ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মো. মমিনুল ইসলামসহ ৪/৫ জন শিক্ষক পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা তোলায় জড়িত রয়েছেন। ওই শিক্ষকদের সরাসরি সহযোগিতায় পরীক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে নকল করছেন। সরেজমিনে বি.জি ইউনিয়ন একাডেমি পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষকরাই বাহির থেকে নকলের কপি সংগ্রহ করে পরীক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। পরীক্ষার্থীরা শিক্ষকের সামনে প্রকাশ্যে বেঞ্চের ওপর নকল রেখে পরীক্ষা দিচ্ছেন।
এ সময় পরীক্ষাকক্ষের পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা দুজন শিক্ষককে নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরীক্ষা কেন্দ্রের একজন কক্ষ পরিদর্শক বলেন, ‘পরীক্ষা কমিটির সঙ্গে থাকা শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা দায়িত্ব পালন করছি।’ একই শর্তে এক অভিভাবক জানান, পরীক্ষায় এক শ্রেণির শিক্ষকদের সহযোগিতায় নকল চলছে। কয়েকজন শিক্ষক (যারা প্রাইভেট পড়ায়) সমঝোতা করে সঠিক উত্তর লিখে তা পরীক্ষার হলে তাদের কাছে প্রাইভেট পড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে সরবরাহ করছেন। এ ব্যাপারে শিক্ষক মো. মমিনুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে টাকার বিনিময়ে নকল করার সুবিধা দেওয়ার কথা অস্বীকার করে অপর শিক্ষক মো. আজমল হোসেন বলেন, এসব অভিযোগ সঠিক নয়। পরীক্ষায় নকলের কোনো সুযোগ নেই।
স/মা

