ঢাকাশনিবার , ২৮ অক্টোবর ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

চট্টগ্রাম সিসিএম অফিসের বিখ্যাত সুমন পরিচয়ে হুমকি

admin
অক্টোবর ২৮, ২০১৭ ৮:০০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম সিসিএম অফিসের বিখ্যাত সুমন
পরিচয়ে হুমকি, থানায় জিডি

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা 

চট্টগ্রাম সিআরবি’র সিটিএম (পূর্ব) অফিসের পিয়ন অলি উল্লাহ ওরফে সুমন ব্যাপক জাল-জালিয়াতি, অবাধে নিয়োগ বাণিজ্য, চাঁদাবাজিও ইয়াবা ব্যবসা করে এখন কোটিপতি হয়েছেন। অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত লেখা পড়া করলেও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে পদোন্নতি নিয়ে সে এখন সিসিএম অফিসের এসিআই পদে দাপটের সাথে পদোন্নতি নিয়েছেন। অবশেষে গত ১৫অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে ফেনী যাবার পথে ৭৮৫নং ট্রেনে বিনা টিকেটের ১৯জন যাত্রিকে ভাড়াসহ জরিমানা আদায় করেন কর্তব্যরত জুনিয়র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আব্দুল কাদের ও ধীলন চৌধুরি। এদের মধ্যে বিনা টিকেটের ৮জন যাত্রিকে প্রথম শ্রেণীর কেবিনে পেয়ে এদের কাছ থেকে ভাড়াসহ জরিমানা আদায় করা হয়। কিন্তু ভাড়া আদায়ের কিছুক্ষণ পর সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে মোবাইল ফোনে নিজেকে ‘‘সিসিএম অফিসের বিখ্যাত সুমন পরিচয় দিয়ে ০১৬৭২৪১৩০৯২ ও ০১৭১১৯৬৩৯১১ থেকে ভাড়া আদায়কারিদের ০১৭১২২৮৪৪০২ নং মোবাইলে ফোন করে অকথ্য ও অশালিন ভাষায় গালি-গালাজ ও হুমকি প্রদর্শন করে। পরদিন ১৬অক্টোবর সকাল ৯টা ৫৮মিনিট থেকে ১০টা ১৪মিনিট পর্যন্ত কয়েকবার ফোন করে পূনরায় একই ব্যক্তি তাদেরকে হুমকি প্রদর্শন করেছে। এতে ১৭অক্টোবর চট্টগ্রাম জিআরপি থানায় জিডি (নং ৬৮৮, তাং ১৭.১০.২০১৭ইং) নথিভুক্ত করা হয়। ওইদিন কথিত ‘সিসিএম অফিসের বিখ্যাত সুমন এর শাস্তি চেয়ে ডিসিও চট্টগ্রাম বরাবর জুনিয়র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (সি) বাংলাদেশ রেলওয়ে, চট্টগ্রাম এর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এর অনুলিপি আইনানূগ কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে জিএম (পূর্ব), সিসিএম (পূর্ব) ও ডিআরএম চট্টগ্রাম বরাবর প্রেরণ করা হয়।

জানা গেছে, হুমকিদাতা ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার মিশ্রীপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের পুত্র অলি উল্লাহ ওরফে সুমন স্থানীয় নান্দাইল রোড উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০০সালের অষ্টম শ্রেণী করে। ২০০৫ সালের জানুয়ারী মাসে চট্টগ্রামের সিটিএম অফিসে পিয়ন পদে চাকুরি নেয়। ৫বছর চাকুরির পর ২০০৩সালের তার নিজ গ্রামে অবস্থিত মিশ্রিপুর রাহমানিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পাসের (রোল নং ১২১৫৮৯, রেজিঃ নং ৬৭২৫০৫) একটি সনদ নথিতে সংরক্ষণের জন্য ২০০৯সালের ডিসেম্বরে আবেদন করে। কিন্তু ২০০৫সালে চাকুরি গ্রহণের সময় দাখিল পাসের সনদ গোপন রাখা বিষয়টি রহস্যজনক। তবে অষ্টম শ্রেণীর সনদে তার মাতার নাম আনোয়ারা বেগম হলেও দাখিল পাসের সনদে আনোয়া খাতুন লেখার বিষয়টি রহস্যজনক। এছাড়া তার ফেইসবুক প্রোপাইলে স্কুলের নাম কিশোরগঞ্জের শহীদ স্মৃতি হাইস্কুল ও কলেজের নাম গুরু দয়াল সরকারি কলেজ লেখা রয়েছে। ২০১০সালের ১৯অক্টোবর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পিয়ন থেকে অফিস সহকারি পদে পদোন্নতি নিয়ে সিসিএম অফিসের যোগদান করে। ২০১৭সালের জুন মাসে এসিআই পদে পদোন্নতির জন্য ৪জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে সুমনকে নকলে ধরে পরিক্ষাটি বাতিল করেন সিসিএম অফিসের এক কর্মকর্তা। একমাস পর রহস্যজনক কারণে ৪জনের মধ্যে সুমনকে পরিক্ষায় প্রথম স্থানে উত্তীর্ণ দেখিয়ে ১আগষ্ট একই অফিসে এসিআই পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। দলীয় নাম ভাঙ্গিয়ে ও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এ পদোন্নতি নেয়। সুমন নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করে শুধু খাতায় স্বাক্ষর দিয়েই অফিস থেকে বেরিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর প্রতিবাদ করলে কর্মকর্তাদের সাথে অশ্লিল ভাষায় গালি-গালাজ, বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাদেরকে হত্যার হুমকিসহ বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে।

অভিযোগ রয়েছে, সুমনের বড় ভাই আবুল বশার চট্টগ্রাম সিআরবি’র জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত বিআরইএল এর সদর দপ্তর (পূর্ব) এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার পরিবারের সবাই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। সে জামায়াত শিবিরের পরিবারে জন্ম হলেও সুবিধা আদায়ের জন্যে চট্টগ্রাম সিআরবি শ্রমিকলীগে যোগদান করে। সরকার দলের সাইন বোর্ডের আড়ালে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, ইয়াবা ও মাদক ব্যবসাসহ অবৈধ উপায়ে বিপুল অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছে। এছাড়া সুমন চট্টগ্রাম দি রেলওয়ে মেন্স স্টোরস্ লিমিটেডের পরিচালক হওয়ার সুবাদে রেলওয়ের কর্মচারিদের কাছে শেয়ার বিক্রি করে হাতিয়ে নেয় কয়েক লক্ষ টাকা। এখনও শেয়ার হোল্ডারদের হাতে শেয়ার বিক্রির কাগজপত্র দেয়া হয়নি। এছাড়া বিভিন্ন জেলার সহজ সরল যুবকদের রেলওয়েতে চাকুরি দেয়ার নামে সে হাতিয়ে নেয় লক্ষ লক্ষ টাকা। ২০০৪সালের পূর্বে তার বড় ভাই রাজশাহী রেলওয়েতে চাকুরির সুবাদে সুমন সেখানেই বসবাস করে। এসময় রাজশাহী রেল স্টেশনে পান-সিগারেট বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেছে। কিন্তু সুমন রাজশাহীতে বড় হলেও ময়মনসিংহের স্কুল-মাদরাসার সাটিফিকেটে সে কিভাবে চাকুরি ও পদোন্নতি নিয়েছে তা- রহস্যজনক। ##

স/মা