তাহিরপুর সীমান্ত চোরাচালানীদের স্বর্গরাজ্য
:৩টন কয়লা,ইয়াবা ও মদসহ ১জন গ্রেফতার
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বালিয়াঘাট,টেকেরঘাট,চাঁনপুর ও লাউড়গড় সীমান্ত চোরাচালানীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। গতকাল ২৪.১০.১৭ই মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে আজ ২৫.১০.১৭ইং বুধবার ভোর ৫টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে লাকমাছড়া ও ড্রাম্পের বাজার থেকে ৩মেঃটন চোরাই কয়লা জব্দ করেছে বিজিবি। আটককৃত কয়লার মূল্য ৩০হাজার টাকা। অন্যদিকে লাউড়গড় বিজিবি ক্যাম্পের যাদুকাটা নদীতে বিজিবির নামে চাঁদা উত্তোলনের সময় চাঁদার টাকা ও ইয়াবা,মদসহ রফিক মিয়া (৩২) নামের এক বিজিবি সোর্সকে আটক করা হয়েছে।
বিজিবি ও এলাকাবাসী জানায়,উপজেলার উত্তরশ্রীপুর ইউনিয়নের দুধেরআউটা গ্রামের চাঁদাবাজি মামলা নং-জিআর ১৬৩/০৭ইং এর জেলখাটা আসামী চিহ্নিত চোরাচালানী ও ইয়াবা ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান জিয়া,তার সহযোগী লাকমা গ্রামের আব্দুল হাকিম ভান্ডারী,ইদ্রিস আলী,লালঘাট গ্রামের চাঁদাবাজি,হুন্ডি,মদ পাচাঁর ও বিজিবির ওপর হামলার মামলাসহ একাধিক মামলার জেলখাটা আসামী কালাম মিয়ার নেতৃত্বে লাকমা গ্রামের চিহ্নিত চোরাচালানী রতন মহলদার,মানিক মহলদার,কামরুল মিয়া,তিতু মিয়া,রফিকুল ইসলাম,শরিফ মিয়া ও আইয়ুব আলী গং বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক রহিম ও নায়েক আজিজ এর সহযোগীতায় প্রতিদিনের মতো গতকাল ২৪.১০.১৭ইং মঙ্গলবার রাত ১২টায় লাকমাছড়ার কবরস্থান,রেন্টিগাছ ও ঈদগা মাঠে পাশে অবস্থিত ৫টি চোরাই গুহা দিয়ে ভারত থেকে ৮০-৮৫কেজি ওজনের ২৯৪বস্তা (২১ মেঃটন) কয়লা পাচাঁর করে ট্রলি ও ঠেলাগাড়ি দিয়ে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের সামনে অবস্থিত ড্রাম্পের বাজারে যাওয়ার সময় রাস্তায় ও পাটলাই নদীতে টেকেরঘাট বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার হাজী রাশেদ খান পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩ মেঃটন (৪২বস্তা) কয়লা আটক করে। এসময় চোরাচালানীরা ড্রাম্পের বাজারের পাশে অবস্থিত পাটলাই নদীতে ১টি ইঞ্জিনের নৌকা দিয়ে ১৪ মেঃটন (১৪০বস্তা) কয়লা নিয়ে পালিয়ে যায়।
কিন্তু বালিয়াঘাট ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা বিজিবি সদস্যরা এব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। পাচাঁরকৃত ১ বস্তা চোরাই কয়লা থেকে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের নামে ৭০টাকা,থানা-পুলিশের নামে ৫০টাকা,টেকেরঘাট কোম্পানী কমান্ডারের নামে ২০টাকা,এফএস শহিদের নামে ১০টাকা,স্থানীয় সাংবাদিকদের নামে ৫০টাকাসহ মোট ২২০টাকা চাঁদা উত্তোলন করে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের সোর্স পরিচয় দিয়ে চোরাচালানী কালাম মিয়া,ইদ্রিস আলী,জিয়াউর রহমান জিয়া ও টেকেরঘাট ক্যাম্পের সোর্স পরিচয় দিয়ে আব্দুল হাকিম ভান্ডারী। এরআগে গত ২৪.১০.১৭ইং মঙ্গলবার ভোর ৫টা পর্যন্ত ৩লক্ষ ৩০হাজার টাকা মূল্যের ৪৬২বস্তা (৩৩ মেঃটন) কয়লা পাচাঁর করে চোরাচালানী রতন মহলদার ও কালাম মিয়া গং।
অন্যদিকে লাউড়গড় বিজিবি ক্যাম্পে যাদুকাটা নদী দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে অবাধে কয়লা,মদ,গাঁজা,হেরুইন,ইয়াবা ও গরু পাচাঁর করা হচ্ছে। প্রতিদিনের মতে গতকাল ২৪.১০.১৭ইং মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় ১২০৩ পিলার সংলগ্ন যাদুকাটা নদী দিয়ে লাউড়গড় গ্রামের চোরাচালানী বশির মিয়া ১৯৪ বস্তা,কাজিম উদ্দিন ৩২ বস্তা,ডালারপাড় গ্রামের চোরাচালানী তাহের মিয়া ২৪ বস্তা,উমরগনি ২২ বস্তা,বারেকটিলা গ্রামের চোরাচালানী বকুল মিয়া ৪২ বস্তা,হাসেন আলী ২১ বস্তা,শফিক মিয়া ১২ বস্তাসহ মোট ৫০০বস্তা কয়লা বিজিবি সদস্যরা নিজেরা দাড়িয়ে থেকে ভারত থেকে পাচাঁর করে। এসময় বিজিবি নামে ১ বস্তা কয়লা থেকে ৭০টাকা করে ৫০০বস্তা কয়লা থেকে মোট ৩৫হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলন করে ক্যাম্পের সোর্স পরিচয়ধারী রফিক মিয়া। এই খবর পেয়ে লাউড়গড় বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার মতিউর রহমান যাদুকাটা নদীতে অভিযান চালিয়ে চাঁদার টাকাসহ রফিক মিয়াকে গ্রেফতার করে। পরে বিজিবির নামে চাঁদা উঠানোর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিজিবি সোর্স রফিক মিয়াকে ১০পিছ ইয়াবা ও ২৫ বোতল মদ দিয়ে আটক দেখিয়ে থানায় সোপর্দ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ ২৫.১০.১৭ইং বুধবার সকাল ১১টায় আটককৃত রফিক মিয়াকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে চাঁনপুর বিজিবি ক্যাম্পের নয়াছড়া,রাজাই ও বারেকটিলা দিয়ে চোরাচালানী আবুল কাসেম,লাল মিয়া,কালাম মিয়া,সম্্রাট মিয়া,জম্মত আলী,আবু বক্কর ও রফিকুল মিয়া প্রতিদিন ভারত থেকে চুনাপাথর,কয়লা ও গরু পাচাঁর করলে এব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। পাচাঁরকৃত ১টি গরু থেকে চাঁনপুর বিজিবি ক্যাম্পের নামে ১৫০০টাকা,পুলিশের নামে ৫০০টাকা,উত্তর বড়দল চেয়ারম্যান আবুল কাসেমের নামে ৩০০টাকা,সম্্রাট মেম্বার ও ১ মহিলা মেম্বারের নামে ২০০টাকা,স্থানীয় ৪ সাংবাদিকের নামে ৪০০টাকা চাঁদা নিচ্ছে বিজিবির সোর্স পরিচয়ধারী বারেকটিলা গ্রামের রফিকুল মিয়া,আবু বক্কর ও পুলিশের সোর্স পরিচয়ধারী জামবাগ-কামড়াবন্দ গ্রামের মস্তো মিয়া গং। আর পাচাঁরকৃত ১ট্রলি চুনাপাথর থেকে ৫০০টাকা,মরাপাথর থেকে ১৫০টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।
এব্যাপারে লাউড়গড় বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার মতিউর রহমান বলেন,রফিক মিয়ার নামে মাদকের মামলা আছে,তাকে ইয়াবা ও মদসহ গ্রেফতার করে মামলা দিয়ে থানায় সোপর্দ করেছি। বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার কেরামত বলেন,লাকমা সীমান্ত দিয়ে কয়লা পাচাঁরের বিষয়টি আমার জানা নেই,এব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখব।
সুনামগঞ্জ ২৮ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক নাসির উদ্দিন বলেন,সীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে এবং থাকবে।
স/মা

