মো. সাদের হোসেন বুলু নবাবগঞ্জ থেকে
দোহার-নবাবগঞ্জ ভায়া ঢাকা সড়কে যমুনা পরিবহনে নৈরাজ্য
পথে পথে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ক্ষুদ্ধ মালিক শ্রমিকরা
দোহারের মৈনট ঘাট থেকে নবাবগঞ্জ হয়ে গুলিস্থান গোলাপ শাহ (রঃ) মাযার এলাকায় চলাচলরত যমুনা ডিলাক্স পরিবহন প্রাইভেট লিঃ নামের বাসসার্ভিস সেক্টরে নৈরাজ্য চলছে বেপরোয়াভাবে। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্য চাঁদাবাজী করছে একটি সিন্ডিকেট। তারা মালিক সমিতির নামে প্রতিদিন গাড়ী প্রতি প্রায় ১৭শত টাকা চাঁদার খাতে হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ মালিকরা ক্ষুদ্ধ ও হতাশা প্রকাশ করেছে। তারা এসব কথিত সমিতি ও শ্রমিক নেতাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। পথে পথে চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পেতে সম্প্রতি যমুনা বাসের বেশ কিছু মালিক নবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে দেখা করে এ অভিযোগ করেন।
যমুনা বাস মালিকদের অভিযোগ, দোহার নবাবগঞ্জ তথা ঢাকার দক্ষিণ অঞ্চলের সড়ক পথে যমুনা ডিলাক্স পরিবহনের স্বঘোষিত সিন্ডিকেট প্রধান চন্দন বাবু শ্রমিক মালিক সমিতির নামে চাঁদাবাজী করছেন। বাস মালিকরা আরো বলেন, বাস প্রতি ১৩শ টাকা দৈনিক জমা না দিলে রাস্তায় বাস চালতে দেওয়া হয় না।
কেরানীগঞ্জের একজন মালিক জানান, আমরা লাখ লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি কিনে দিনে ১ হাজার টাকা পাই না। অথচ চন্দনকে দিতে হয় ১৩শ টাকা। এছাড়া ৪শত টাকা নানা খাতে ব্যয় হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দোহারে এক বাস চালক বলেন, চন্দন কিছুদিন আগেও বাসের হেলপার ও ড্রাইভার ছিলো । বর্তমানে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন সে। তার নিজের ২টি বাস আছে এই সড়কে। অতিরিক্ত টাকা চাঁদা দিতে হয় বলে দোহার ও নবাবগঞ্জের যমুনা পরিবহনের কিছু মালিক গাড়ি বিক্রি করে এখন অন্য ব্যবসা করছে। কেউ আবার প্রবাসে চলে গেছে। নবাবগঞ্জের বাহ্রা গ্রামের এক বাস চালক বলেন, আমাদের মতো সাধারণ শ্রমিকরা সারাদিন কষ্ট করে গাড়ি চালিয়ে ২থেকে ৩ শ টাকা পাই। যা দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে কোন রকমে বেঁেচ আছি। আমরা টাকা না পেলেও তাদেরকে নির্ধারিত চাঁদা দিতে হবে। চন্দন মন্ডলের সাথে এসব চাঁদাবাজিতে জড়িত রয়েছে ঢাকার কবির হোসেন ও দোহারের মোশারফ হোসেন।
ঢাকা সড়কের দোহাই দিয়ে তারা প্রতিদিন এ চাঁদা আদায় করছে। চাঁদার একটি সিংহভাগই সড়ক পরিবহনের নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহকে দিতে হয় বলে চন্দন ও কবির মালিকদের বলে থাকেন। তা না হলে তাদের বাস রাস্তায় চলতে পারবে না বলে হুমকি ধামকি দেয়া হয়।
এ বিষয়ে খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, আমরা কোনো সার্ভিস থেকে এক টাকাও নেই না। শ্রমিক সমিতির নির্ধারিত ৭০টাকার বাইরে কোন টাকা আমার জানা মতে নেয়া হয় না। তবে কেউ যদি সড়কের নাম ভাঙ্গিয়ে বাস মালিকরে কাছ থেকে কোনো টাকা আদায় করে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না।
নবাবগঞ্জের যন্ত্রাইলের গ্রামের বাসিন্দা মাছুদ বলেন, জমি সংক্রান্ত মামলায় প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪বার ঢাকায় যেতে হয়। ৬০/৬৫ টাকা ভাড়া নেয় যমুনা বাস কর্তৃপক্ষ। রাস্তায় টিকরপুর, মৈনট ঘাট, ও গুলিস্থানে চাঁদা আদায়কারীদের কারনে সময় মতো আদালতে পৌছাতে পারি না। কথিত পরিবহন মাস্তানদের কারনে যাত্রীদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। বিশেষ করে যমুনা পরিবহনে এই অবস্থা চলছে বহুদিন ধরে। যা দেখার কেউ নেই।
স্থানীয় বাস মালিক ও শ্রমিকদের দাবী, চন্দনের নেতেৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র নবাবগঞ্জ দোহারের পরিবহন সেক্টরে চরম বিশৃঙ্খলা বাধিয়ে রেখেছে যা দ্রুত অবসান প্রয়োজন। এ সার্ভিসের আওতায় প্রতিমাসে প্রায় ১৫/২০লাখ টকা চাাঁদা আদায় হয় বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত চন্দন বাবুকে ১৩শ টাকা চাঁদা আদায় সম্পর্কে মুঠো ফোনে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, মৈনট ঘাটে বালু ফেলে বাস স্টান্ড তৈরী করতে ১১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে আমার। ক্ষমতাশীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীদের প্রতিদিন টাকা দিতে হয়। এছাড়া ঢাকার গুলিস্থানে শ্রমিক ইউনিয়ন. মালিক সমিতির নেতারা বাস প্রতি দৈনিক ৪শ টাকা করে নেয়। সুপারভাইজার আছে তাদেরকে বেতন দিতে হয়।
ঢাকার দোহার সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মাহবুবুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করলে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। দোহার থানার ওসিকে বিষয়টি দেখার জন্য আমি বলবো।
স/মা

