লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর থানায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলক মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় ডিআইজি চট্রগ্রাম রেঞ্জ বরাবর নালিশি অভিযোগ দায়ের করায় ওসি কমলনগর বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। জানা যায়, তিনি দায় সারাতে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। ডিআইজি মহোদয়ের নির্দেশে সুষ্ঠ তদন্তের ভিত্তিতে ফাইনাল চার্জশিট থেকে নাম বাদ দেওয়ার কথা থাকলে ও ওসি কমলনগরের বেশ কিছু দুস্কৃতিকারী জামাত-বিএনপি পন্থী লোকদের দিয়ে মিথ্যা স্বাক্ষী দিয়ে বানোয়াট ও গল্প কাহিনী সাজিয়ে এ মামলায় জড়িয়ে রাখতে চাচ্ছে এবং নতুনভাবে হয়রানী করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এসব বিষয় সাংবাদিক এ.কে.আজাদ জানান, তিনি একজন সচ্ছ সাংবাদিক হয়ে সরকারের বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের স্বপক্ষে সংবাদ লেখনির পাশাপাসি, অপরাধীর মুখোশ উন্মোচনের প্রচেষ্টায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন দীর্ঘদিন থেকে। দেশ, মাটি ও মানুষের কথা লেখা তার নেশা ও পেশা। তিনি আরো জানান,দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতার প্রমানাদিসহ ডিআইজি বরাবর নালিশী অভিযোগ প্রেরণ করেন। কমলনগর থানার ওসিকে নিয়ে ও বেশ ক’টি প্রতিবেদন রয়েছে তার। অথচ পেশি শক্তির কাছে মাথা নত করে আর্থিক সুবিধা নিয়ে মামলায় জড়িয়েছে এই ওসি। তীব্র নিন্দার সহিত তিনি বলতে চান,এই সমাজে এমন অপরাধী আছে যারা দাপটের সহিত ঐ থানা বেষ্টনীতে বুক ফুলিয়ে ঘুড়েবেড়ায় এবং একের পর এক অপরাধ প্রবনতা চালিয়ে যায়। অথচ সাংবাদিক এর মিথ্যা এই মামলা নিয়ে চলছে ওসির নানান কারসাজি। প্রসঙ্গত : গত ১০ই জুন উক্ত থানাধীন চরবসু এলাকায় সফিক হাওলাদার ও খোকন পাটওয়ারীর সঙ্গে পূর্ব শুত্রুতার জেরে লাঠি সোঠা নিয়ে মারামারি চলতে থাকলে তথ্য সংগ্রহের জন্য দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ ও চমক নিউজ (অনলাইন) পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে ছুটে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগ মুহূর্তে তার ব্যক্তিগত মোবাইল থেকে ওসি কমলনগরের মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে এসআই ডালিম কুমার মজুমদার ও তার সঙ্গিয় ফোর্সদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে তথ্য সংগ্রহ শেষে এক সাথেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ওই সময় দৈনিক খবর পত্রিকার কমলনগর প্রতিনিধি এম শাহ্রিয়ার কামাল ও উপস্থিত ছিল।
পরবর্তীতে সে জানতে পারে, মোঃ সফিক হাওলাদার খোকন পাটোয়ারী গংদের বিরুদ্ধে যে মামলাটি দায়ের করেছে, সে মামলার ৩৬ ও ৩৭ নং আসামী এই দুই সাংবাদিক। বিষয়টি নিয়ে বার বার ওসির সঙ্গে আলাপ করলে সে জানায়, যে কোন লোকের বিরুদ্ধে অভিযোগ হইতেই পারে, চার্জশিটে আপনাদের নাম না গেলেই হলো। অথচ সে একের পর এক বিভিন্ন তালবাহানায় মিথ্যা বানোয়াট ও গল্প কাহিনী সাজানো এই মামলাটিকে ভিন্ন ভাবে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মিথ্যা এ মামলার ঘটনায় সাংবাদিক শাহ্রিয়ার কামাল জানান, পুলিশ যেমন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয় তেমনি সাংবাদিককে ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হয়। পুলিশ ও সাংবাদিক একে অপরের পরিপূরক। সাংবাদিকদের লেখনিতে অনেক অপরাধীর মুখোশ উন্মোচিত হয় বলেই অপরাধীদের ধরপাকর করতে পুলিশের সহজ হয়।
কমলনগর থানা ওসি’র এহেন হীন মনমানসিকতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি আরও বলেন সম্পূর্ণরূপে নাটকীয় ভাবে মামলায় জড়িয়ে সে সাংবাদিকদের চরম মানহানি ঘটিয়েছে। এ সব বিষয়ে সাংবাদিক এ. কে. আজাদ আরও বলেন, থানাতে যে কোন লোক অভিযোগ দিতেই পারে ওসি হিসেবে মামলাটি রেকর্র্ড করার পূর্বে যাচাই করার কি কোন প্রয়োজন ছিল না। তাছাড়া আমি সহ দু’জনই নিয়মিত পেশাদার সাংবাদিক। পেশাকে কলঙ্কিত করে নামের সাথে ভূয়া সাংবাদিক উল্লেখ করে ঐ ওসি মামলা রেকর্ড করেছেন এবং এই মামলার সর্বশেষ আসামী আমরা। পরিকল্পিতভাবেই ওসি সহকারে এই মামলাটি রেকর্ড করেছেন বলে আমাদের কাছে প্রতিয়মান হয়েছে। মিথ্যা এই মামলা থেকে পরিত্রাণ পেতে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এই দুই সাংবাদিক।
স/মা

