ঢাকাসোমবার , ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

না.গঞ্জে গ্রেফতার ৩ জেএমবির টার্গেট ছিল একুশে ফেব্রুয়ারি

admin
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৭ ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা থেকে র‌্যাবের গ্রেফতার করা নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির তিন সদস্যের টার্গেট একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল বলে র‌্যাবের ধারণা। তাদের কাছ থেকে জিহাদি বই ও বিষ্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার ভোর ৪টা থেকে পৌনে ৬টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার কাঁচপুর ও মোগড়াপাড়া এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেফতারের পর দুপুর ২টায় র‌্যাব-১১ সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে এসব জানানো হয়।

র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান জানান, গ্রেফতারকৃতরা হলো- ময়মনসিংহ জেলার মুক্তগাছা থানার মো. মোস্তফা (২৫), একই জেলার ফুলবাড়ীয়া থানার আবু রায়হান ওরফে হিমেল (২৪) ও ঢাকার ধামরাইয়ের মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে শাহীন (২১)। তাদের কাছ থেকে সাতটি জিহাদি বই, ৪৬টি লিফলেট, পাঁচটি চাকু ও চাপাতি, পাঁচটি ককটেল, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, দুটি স্কচটেপ উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনই জেএমবিতে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তারা এও জানিয়েছে, জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা প্রাক্তন আমির মৃত্যুদণ্ড সাজা কার্যকর হওয়া শায়েখ আব্দুর রহমানের অনুসারী তারা। তিনজন নিজ নিজ এলাকা ও এলাকার বাইরেও সাংগঠনিক বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে সংগঠনের কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিল। একুশে ফেব্রুয়ারি তাদের নাশকতার উদ্দেশ্য ছিল বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আবু রায়হান ওরফে হিমেল বর্তমানে আড়াইহাজারে সরকারি সফর আলী কলেজে সমাজকর্ম বিষয়ে অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যায়নরত। ২০১৪ সালের শেষের দিকে সে জনৈক তৌহিদের মাধ্যমে জেএমবিতে যোগদান করে। তৌহিদের মাধ্যমে জেএমবির অপর সদস্য সাকিবের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সাকিবের মাধ্যমে জেএমবির সদস্য আকাশ, রোকন ও আমিনদের পরিচয় হয়। ২০১৫ সালের শেষের দিকে সে চট্টগ্রামে অস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। ২০১৬ সালের মার্চ মাস থেকে সে টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতো।

অপরজন মো. মোস্তফা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখার পর মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। তবে সংসারে অভাব অনটনের কারণে পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৩ সালের শেষের দিকে সে নব্য মুসলিম হাসমত নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে ধর্মীয় বিষয়ে দীক্ষিত হয়। তখন থেকে নিয়মিত এলাকায় বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে যোগদান এবং জিহাদে উদ্বুদ্ধ হয় সে। এরপর ২০১৪ সালের শেষের দিকে তার নিজ গ্রামের সাকিবের মাধ্যমে জেএমবিতে যোগ দেয়। ২০১৫ সালের প্রথম দিকে সাকিবের মাধ্যমে গাজীপুর শালবাড়ী ও শালনা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় তারা মোট ৬ জনে ২৫ দিনের জিহাদি প্রশিক্ষণ নেয়। সাকিবের মাধ্যমে সে মোবাইলে ধর্মীয় উগ্রবাদিতার ভিডিও ও লেকচার পেত। ২০১৫ সালের শেষের দিকে সে চট্টগ্রামে অস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এবং ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে হিজরতের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

গ্রেফতারকৃত মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে শাহীন ধামরাইয়েল শরফবাগ ইসলামিয়া কামেল মাদ্রাসা থেকে নবম শ্রেণি পাস করে। ২০১৫ সালের প্রথম দিকে কাঠমিস্ত্রি হিসেবে ঘাটাইলে একটি কাঠের দোকানে কাজ শুরু করে সে। ২০১৫ সালে মোস্তফা ও সাকিবের মাধ্যমে সংগঠনে যোগদান করে এবং সংগঠনের সিদ্ধান্তে সে গ্রেফতারকৃত মোস্তফার শ্যালিকাকে বিয়ে করে। পরে সে বাটা জুতার কোম্পানিতে কিছুদিন কাজ করে। অস্ত্র প্রশিক্ষণের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে সে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জঙ্গিবিরোধী অভিযানের কারণে সে নভেম্বর মাসে বাড়ি থেকে পালায়।

স/শা