মোঃমোছাদ্দেক বিল্লাহ(বিষেশ প্রতিনিধি)
শারদীয় দুর্গোত্সবের চতুর্থদিনে আজ মহানবমী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে । পূজা শুরম্ন হয়েছে সকাল সাড়ে ৬টায়।
সন্ধ্যায় মন্দিরে মন্দিরে থাকছে আরতি প্রতিযোগিতা। আজ মন্ডপে মন্ডপে প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে আরতি প্রতিযোগিতা। রাতকে উজ্জ্বল করে ভক্তরা মেতে উঠেছে নানা ঢঙে আরতি নিবেদনে। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার মহা অষ্টমী তিথিতে কুমারী পূজা দেখতে মন্দিরে মন্দিরে ভক্ত-দর্শনার্থীদের ঢল নামে।
প্রতিবারের মতো এ বছরও শারদীয় দুর্গোত্সবের অস্টমীতে দেশের সব রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমারী পূজা। ভোর থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জড়ো হতে থাকেন রামকৃষ্ণ মিশনসহ বিভিন্ন মণ্ডপে। অষ্টমী পূজা শুরু হয় সকাল সাড়ে ৬টায়। সকাল ১১টায় কুমারী দেবীকে আসনে বসানো হয়।
এ বছর কুমারীর শাস্ত্রীয় নাম ‘মালিনী’। হাজারো ভক্ত দেবী দুর্গা ও কুমারী মাকে জয়ধ্বনি, উলুধ্বনি দিয়ে বরণ করে নেন।
সকালে কুমারী রূপকথাকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। মাথা ও গলায় ফুলের মালা, অলংকার ও প্রসাধনে নিপুণ সাজে সাজিয়ে তোলা হয় তাকে। এরপরই কুমারী মাকে মন্ত্র পাঠ করে গঙ্গাজল ছিঁটিয়ে শরীর মন শুদ্ধ করে মাতৃজ্ঞান রূপে পূজা করা হয়। ১৬টি উপকরণ দিয়ে কুমারী পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অগ্নি, জল, বস্ত্র, পুষ্প ও বাতাস-এ পাঁচটি উপকরণ দিয়ে কুমারীকে পূজা করা হয়। কুমারীকে সিংহাসনে বসানোর আগে তার আগমন বার্তা নিয়ে ভক্তিমূলক গান পরিবেশন করা হয়। তখন পুরো এলাকার পুণ্যার্থীরা অধীর আগ্রহে কুমারী দেবীর অপেক্ষায় প্রহর গুণতে থাকেন। তাকে সিংহাসনে বসানোর সময় অসংখ্য পুণ্যার্থী সমস্বরে ‘দুর্গা মায় কি জয়’, ‘কুমারী মায় কি জয়’ বলে ধ্বনি দিতে থাকেন। কুমারী পূজা সম্পন্ন হলে ভক্তরা মাকে প্রণাম করেন। কুমারী পূজা শেষে ভক্তরা দেবী দুর্গার পায়ে অঞ্জলী নিবেদন করেন। অঞ্জলী শেষে শতাধিক ভক্ত দর্শনার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয় মহাপ্রসাদ।
সনাতন শাস্ত্রে উল্লেখ আছে, এক থেকে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত অজাতপুষ্পবালাকে কুমারী বলা হয়। বয়স অনুযায়ী তার নাম এরূপ এক বছর বয়সে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কালিকা, পাঁচে সুভগা, ছয়ে উমা, সাতে মালিনী, আটে কুব্জিকা, নয়ে অপরাজিতা, দশে কালসন্ধর্ভা, এগারোয় রুদ্রাণী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চেৌদ্দয় পীঠনায়িকা, পনেরোয় ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোল বছরে অম্বিকা বলা হয়ে থাকে। কুমারী পূজা ছাড়া দুর্গাপূজায় পরিপূর্ণ ফল লাভ হয় না বলে সনাতন শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।
কুমারী পূজা সম্পর্কে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেব বলেছেন, শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর বেশি প্রকাশ। কুমারী পূজার মাধ্যমে নারী জাতি হয়ে উঠবে পুত পবিত্র ও মাতৃভাবাপন্ন। প্রত্যেকে শ্রদ্ধাশীল হবে নারী জাতির প্রতি।
অষ্টমী পুজা ছাড়াও রাতে অনুষ্ঠিত হয় সন্ধিপুজা। অষ্টমীর শেষ নবমীর শুরম্নর সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হয় সন্ধিপুজা। যেসব মণ্ডপে কুমারী পূজা হয় সেখানে একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিনটি পূজো। দিনের বেলা অষ্টমী বিহিতপুজা আর কুমারী পূজা পরে সন্ধিপূজা। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় আরতী।
দুপুরের পর থেকে মণ্ডপগুলোতে ঢল নামে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের। এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রশাসন পরিদর্শন করেছেন মন্দির গুলো। ঝালকাঠির কাঠালিয়া,রাজাপুর,নলছিটি, মন্দিরগুলো ঘিরে ছিলো পুলিশ, র্যাবসহ নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা।
স/মা

