আজম আলী খান, বাঘারপাড়া
গতকাল আচমকা ঘূর্ণীঝড়ের কবলে পড়ে বাঘারপাড়ার বেশ কয়েকটি গ্রাম। এ দিন বিকাল ৪টার দিকে এলাকার পাকের আলী, শ্রীরামপুর, দোহাকুলা ও আগড়ার উপর দিয়ে বয়ে যায় ভয়ঙ্কর ঘূর্ণী ঝড়। মাত্র পনের বিশ সেকেন্ডের ঘুর্ণিঝড়ে কয়েকটি এলাকায় লন্ডভন্ড হয়েগেছে। ঝড়ে এলাকার ঘর বাড়িসহ গাছপালা মাটির সাথে মিশেগেছে। গাছের ডাল পড়ে একজন আহত হয়েছেন। ঝড়ের তান্ডবে বড় বড় মেহগিনি, আম, শিশু, নারিকেল, বাবলা,কলা বাগান প্রভৃতি গাছ শিকড়সহ উপড়ে যায়। ঝড়ে ঘরের টিন এক দুই কিলোমিটার দুরে নিয়ে ফেলেছে। মানুষ এসময় ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে কান্নাকাটি শুরু করে।
পাকেরআলী গ্রামের সরদার পাড়ার প্রত্যক্ষদর্শী কামরুজ্জামান লিটন বলেন, ‘বিকাল ৪টার দিকে বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টি থামার পরপরই বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আচমকা বাতাস ওঠে। আমি ঘরের বারান্দায় উঠতে না উঠতেই ঝড়ে আমার ঘরের চাল উড়িয়ে নিয়ে যায়। আশেপাশে তাকিয়ে দেখি সমস্ত গাছপালা মাটিতে পড়ে গেছে। এরপর চারিদিকে শুধু চিল্লাপাল্লা আর কান্নকাটির শব্দ শুনতে পাই। আমার মহল্লার ইমরান সরদার, তোফাজ্জেল খাঁ, আজিজার খাঁ, সেকেন্দার খাঁ, শরিফুল খাঁ, ইনামুল সরদার, সোহেল সরদারসহ শতাধিক বাড়ি ঘরের সবকিছুই উড়িয়ে নিয়েগেছে। আমার বাড়ির পাশের নূরমোহাম্মদ মোড়লের স্ত্রী হাসিনা খাতুন (৪০) দৌড়ানোর সময় তার মাথায় গাছের ডাল পড়ে। এতে সে আহত হয়। হাসিনা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে’।
শ্রীরামপুর গ্রামের প্রনয় সরকার বলেন, ঝড় পাকেরআলী গ্রাম থেকে শুরু করে আমার নিজ গ্রামের উপর দিয়ে দোহাকুলার মান্দিয়ার বিলের মধ্যে দিয়ে চলে যেতে দেখা যায়। এ সময় ধোয়ায় গোটা এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। দোহাকুলা গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী রাকিব হোসেন বলেন, ‘ আমি মাঠে কাকরোলের জমিতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ দেখতে পাই ধোয়ায় গ্রামের পূর্ব এলাকা আচ্ছন্ন হয়েগেছে। কিছুক্ষন পরে সেই এলাকায় যেয়ে দেখি তরিকুল , ওয়াজেদ, নজরুল ইসলাম, আকছার আলী, রেজাউল ইসলাম, আব্দুস সালামের বাড়িসহ আরো বেশ কয়েকটি বাড়ির চাল উড়ে গেছে। এ এলাকার বড় বড় গাছের মাঝ থেকে ভেংগে গেছে। আগড়া গ্রামের জামাল উদ্দীন মাষ্টার জানান, জরিফ মাষ্টার সহ অনেকের ঘর বাড়ি সহ গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ।
স/মা

