বিশেষ প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা কলারোয়ায় কেড়াগাছি সীমান্তে চোরাচালানী স্বর্ণ নিয়ন্ত্ররণে মূল হোতা সাবেক ইউপি সদস্য মুনছুর আলী। তিনি দীর্র্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অবৈধ পথে স্বর্ণ সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে থাকেন। তার নেতৃত্বে সীমান্ত এলাকায় গড়ে উঠেছে স্বর্ণ পাচার সিন্ডিকেট। তাছাড়া এলাকায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে চোরাচালনা ঘাট নিয়ন্ত্ররণ এনে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ-লক্ষ টাকা। সেই টাকা হাত ঘুরে সরকারি কর্মকর্তাদের পকেটে পৌছায়ে দেওয়া হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায় মুনছুর মেম্বার অতিতে কেড়াগাছি ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করতেন। সংগঠন বিরোধী কার্যক্রম করায় তাকে সংগঠন থেকে পদ হারায়। দীর্র্ঘদিন আর সংগঠনের কোন কাজে পাওয়া যায়নি তাকে। গত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উপ-নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান করে বিরোধী প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে সক্রিয় ভাবে দেখা যায়।
এছাড়া এলাকায় নাশকতার মামলার আসামি জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে প্রকাশ্যে নির্বাচনের মাঠে দলীয় প্রার্র্থীর বিপক্ষে কাজ করেন। তাছাড়া নাশকতার মামলার আসামি জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের টাকার বিনিময়ে শেল্টার দিয়ে এলাকায় চলা ফেরা করার সুযোগ করে দেন এই মুনছুর মেম্বার। আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের নামে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভান্তি করে নিরিহ মানুষকে আটকায়ে টাকা বা জেল খাটানো অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এমনকি নির্বিকার রয়েছে আইন প্রশাসনও। দিনের পর দিন অন্যায় অনৈতিক কাজ করে চলেছে মুুনছুর মেম্বার। অথচ নীরব থেকেও তাকে শাসন নয় বরং উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। যার ফলশ্রুতিতে স্বর্ণ চোরাচালানী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্ররণ বা স্বর্র্ন পাচার করে মুনছুর মেম্বার বনে গেছেন অবৈধবভাবে শুন্য থেকে কোটিপতি। মাতৃভাষার প্রতি মুনছুর মেম্বার অশ্রদ্ধা। ঠিক বাংলা পড়তে বা লিখতে পারেন না অথচ সেই মানুষটি স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় গড়েছেন সম্পাদের পাহাড়।
সীমান্ত প্রতিনিধি ও স্থানীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান উপজেলার কেড়াগাছি সীমান্ত এলাকায় বেড়ে ওঠা মুনছুর মেম্বার। তার পিতা মৃত শহর আলী গাজীর তেমন অর্থ-বিত্ত ছিলনা। ভিটে বাড়ি ছাড়া কিছুই ছিল না তাদের। ছোটবেলায় থেকে মারাত্বক অর্থলোভী ছিলেন মুনছুর মেম্বার। স্বপ্ন দেখতেন সম্পাদশালী হওয়ায়। অল্পদিনে তার সেই স্বপ্ন বাস্তবে রুপ নেয় আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে হঠাৎ বনে যান শুন্য থেকে কোটিপতি। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার যখন ক্ষমতা গ্রহন করেন ঠিক তখন তাকে আর পিছু ফিরতে হয়নি। নাশকতার মামলার আসামিদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে এলাকায় শেল্টার দিয়ে চলার সুযোগ করে দেওয়া ছিল তার প্রধান কাজ।
আবার জামায়াত-বিএনপিকে আওয়ামীলীগ বানিয়ে নিয়ন্ত্ররণ করতো অবৈধ চোরাচালান ঘাট। ছাত্র জীবন থেকে মুনছুর মেম্বার গোপনে জামায়াতের রাজনীতিতে যুুক্ত ছিলেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে তার কর্র্মপরিধি। এখন তিনি একজন স্বর্ণ পাচারকারীর হোতা। অবৈধ ঘাট নিয়ন্ত্ররণ করে তিনি পেট চালাতেন। ধিরে ধিরে হয়ে যান মাদক ও স্বর্র্ণ পাচারের মূল হোতা। এদিকে তার সীমান্ত এলাকা দিয়ে আসছে মাদক, যাচ্ছে স্বর্ণ, চোরাকারবারীদের কাছে অসহায় বিজিবি। উপজেলার কেঁড়াগাছীসহ সীমান্ত এলাকাগুলো পূজা উৎসবকে সামনে রেখে চোরাকারবারীদের কাজের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে বিজিবি। নামে মাত্র কিছু মালামাল উদ্ধার হলেও বড় বড় চালান পাচার হচ্ছে তাদের সামনে দিয়ে। তারা দেখেও দেখেনা। কেড়াগাছি সীমান্তে বিজিবির নাগের ডগার উপর দিয়ে পাচার হচ্ছে স্বর্র্ণ। ওপার থেকে আসছে ভারতীয় ফেনসিডিল, ইয়াবা ট্যাবলেট, বিভিন্ন ব্যান্ডের মদসহ সকল প্রকার মাদকদ্রব্য।
এসব মালামাল চোরাচালানীরা নসিমনে, ইজিবাইকে, মটরসাইকেল করে চারাবাড়ি, কুটিবাড়ি, গাড়াখালী ও কেঁড়াগাছী, কাকডাঙ্গা, বটতলা দিয়ে ঝাউডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, কলারোয়া, বাগআঁচড়া, যশোর, খুলনা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাচার করছে। দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে স্কুল গামী ছাত্র-ছাত্রীরা। ভারত থেকে আসা কিছু মাদকের চালান ধরা পড়লেও বড়-বড় চালান বেড়িয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন বিজিবি’র পৃথক আিভযানে মালামাল উদ্ধার হলেও কাউকে আটক করতে পারেনা। সম্প্রতি কেড়াগাছি সীমান্ত এলাকায় স্বর্ন পাচার চোরাচালানীরা ব্যাপক ততপর দেখা মেলছে। আবার অনেক মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকায় মাথাচরা দিয়ে উঠেছে। সীমান্ত সুত্র জানা জায়। বাংলাদেশ থেকে ভারতে, এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আসা যাওয়ার জন্য অলিখিত চুক্তিতে বিজিবি ও প্রশাসনের নির্দেশে টাকা উঠানো হচ্ছে। এই টাকাগুলো বিজিবি, পুলিশ, ডিএসবি, ডিবি, সিআইডি, সাংবাদিক, রাজনৈতিক দল ও ইউপি সদস্যদের নাম করে উঠানো হয়।
যাদের নাম করে উঠানো হয় তাদের মধ্যে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের নামে অর্থ নিদেজের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে যায়। আবার ভাগাভাগির কারণে নিজেরাই সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। আর এইগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে সাবেক ইউপি সদস্য কেড়াগাছি গ্রামের মৃত শহর আলীর ছেলে মুনসুর আলী। তার সহপাঠি হিসেবে সীমান্ত চোরাচালানী ঘাট নিয়ন্ত্ররণ করেন জনাবের পুত্র আজহারুল। এরা কেহ মানব পাচার, হুন্ডি, কাপড়ের গাইড স্বর্ণ রূপা পাচারের অর্থ আদায় করে থাকে। ভারত থেকে গরু আসা বন্দ হয়ে যাওয়ায় সীমান্তের তরুনরা পাচার কাজে ঝুঁকে পড়েছে। অনেকেই বেকার হয়ে পড়েছে। যখন বাংলাদেশ ও ভারতের থেকে পণ্য আসা যাওয়া করে তখন বিজিবি সদস্যরা ক্যাম্পে, চেকপোস্টের বিশ্রাম কক্ষে বিশ্রাম করতে দেখা যায়। আবার অনেকে দূরে সরে যায়। এদিকে সরকারের দেওয়া বরাদ্দকৃত অর্থ তারা মাস শেষে ভাগ করে নেয়।
বিজিবিদের টহল দেওয়ার জন্য সীমান্তে মটর সাইকেল, টহলগাড়ি ও স্পিড বোর্ট দেওয়া হলেও তারা মাস শেষ হওয়ার আগেই পেট্রোল ও ডিজেল গোপনে বিক্রি করে দেওয়ার কথা শুনা জায়। সীমান্তরক্ষীরা সীমান্ত রক্ষা না করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় টহল দিয়ে নিজেদের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করেন। সরকারি কোষাগার শূণ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে জনগণের মাথায় ট্যাক্সের বোঝা দিন দিন বেড়ে চলছে। এই লোকদেখানো টহল বন্ধ করে দিয়ে কলারোয়া সীমান্তের ২৪টি পয়েন্টে টহল জোরদার করলে চোরাচালান জিরো পর্যায়ে নেমে আসবে বলে সচেতন জনগণ মনে করছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় বিজিবি’র পক্ষ থেকে কারফিও জারি করা হয়েছে। কারফিওতে বলা হয়েছে কোন দোকান রাত ৯টার পরে সীমান্ত এলাকায় খুলা থাকবেনা। ৯টার পরে দোকান পাট বন্দ হয়ে যাওয়ায় মুুনছুর মেম্বার তার মাদক ও স্বর্ণ পাচার করা সহজ হয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন। এতোকিছু ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরেও তার বিরুদ্ধে কেন সুষ্ঠু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। এদিকে এলাকার সচেতন মহল প্রশাসনের কাছে জোর দাবি করে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কতটুকু জড়িত তা যাচাই বাছাই করে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি করেন। আর পড়তে চোখ রাখুুন ২য় সংখ্যায়।
স/মা

