সাঈদ ইবনে হানিফঃ
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, বিয়ের দশ বছর পর কোন সন্তান না হওয়ায় আটকুরো অভিযোগে নিজ দেবরকে বিয়ে করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল গৃহ বধূ মায়া রাণী (২৮)। অবশেষে সেই মায়া রাণীর মায়ার আড়ালে জড়িয়ে গত ২৭ আগষ্ট দুপুরে বিষ পানে আত্মহত্যা করল ছোট ভাই ও মায়া রাণীর দ্বিতীয় স্বামী দেবর সুব্রত অধিকারী (২৫)। ঘটনা যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের ঘোষ নগর গ্রামের। এলাকাবাসী ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায় উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামের সুভাস অধিকারীর দুই পুত্র শ্যামল অধিকারী (৩০) ও সুব্রত অধিকারী (২৫)। প্রায় ১২ বছর আগে যশোর সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের দেব অধিকারীর কন্যা মায়া রাণী (২৮) এর সাথে বিয়ে হয় সুভাস অধিকারীর বড় পুত্র শ্যামল অধিকারীর সাথে। বিয়ের দশ বছর সংসার করার পরও কোন সন্তান না হওয়ায় স্বামীকে আটকুরো অভিযোগ দিয়ে গোপনে দেবরের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে।
এক পর্যায়ে ২০১৫ সালের দিকে গৃহ বধূ মায়া রাণী দেবর সুব্রতকে নিয়ে স্বামীর ঘর ছেড়ে পালিয়ে বিয়ে করে। বিয়ের পর তারা যশোর নীল গঞ্জ এলাকায় বসবাস করতে থাকে। যে ঘটনায় স্বামী শ্যামল অধিকারী সেই সময় একটি সাধারণ ডায়েরী ও করে ছিল। এদিকে স্ত্রী দীর্ঘদিনে ফিরে না আশায় শ্যামল অধিকারী দ্বিতীয় বিয়ে করে মনিরামপুর উপজেলার খরিশা ডাঙ্গা গ্রামের আনন্দ বিশ্বাসের কন্যা কেয়া রাণী (১৮) কে। বিয়ের বছর না যেতেই ২০১৬ সালের ১৯ শে জানুয়ারী পারিবারিক গোলযোগে কেয়া রাণী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। যদিও সে সময় কেয়া রাণীর পরিবার তার স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে হত্যা কাণ্ডের অভিযোগ করেছিল। এ ঘটনার পর থেকেই প্রথম স্ত্রী মায়া রাণী তার প্রথম স্বামী শ্যামল অধিকারীর ঘরে ফিরে আসতে নানা টালবাহানা শুরু করে। শুরু হয় দ্বিতীয় স্বামী দেবর সুব্রত অধিকারীর সাথে মনোমালিন্য। এক পর্যায়ে মায়া রাণী ভাড়ার বাসা থেকে চলে যায় পিতার বাড়িতে আরা সুব্রত ফিরে যায় তার পৃত্রালয়ে। এরই মাঝে মায়া রাণী তার দুই স্বামী ও শশুর শাশুড়ি কে জড়িয়ে একটি মামলা দায়ের করে। যে মামলাটি লিগাল এইড যশোর আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করছিল বলে জানিয়েছে নিহতের মা। স্থানীয় প্রতিবেশিদের সাথে কথা বলে জানা যায় বৌদি বধূ হারানোর শোক। পারিবারিক অশান্তি আর মামলা মিমাংসার শর্ত এই ত্রিমুখির সংকটে পড়েই সুব্রত গত ২৭ আগষ্ট দুপুরে বিষ পান করলে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসা রত অবস্থায় সুব্রত মারা যায়। এই ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক গুণজন চলছে।
স/মা

