ফিরোজ জোয়ার্দ্দার:
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগের সহ-সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের কৃষি-বিষয়ক সম্পাদক এবং সম্ভাব্য তালা-কলারোয়া আসনের আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সরদার মুজিব বলেছেন, বঙ্গবন্ধু যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন তখন থেকেই বাঙালি ও এদেশের প্রতি অকুন্ঠ ভালোবাসা প্রকাশ করেছিলো। যার ফলে বঙ্গবন্ধুকে বার বার কারাবরণ করতে হয়েছে। পাকিস্তানের ২৩ বছরের শাসনামলে তিনি সাড়ে ১২ বছর কারা নির্যাতন ভোগ করেছিলেন। দুই দুই বার ফাঁসির মঞ্চের আসামি হয়েও বাংলার মানুষের জীবনের জয়গান গেয়েছিলেন। তিনি কোনোদিন পাকিস্তানের শাসনামলে পাকিস্তানি হতে যান নাই। তাই সর্বশক্তি, সর্ব মেধা এবং সর্বাতœক সাংগঠনিক ক্ষমতা নিয়োজিত করেছিলো আওয়ামীলীগের মাধ্যমে এ বাংলার মানুষকে সংঘবদ্ধ, সচেতন ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনার উন্মেষ ঘটাতে। জাতীয়তাবাদের চেতনার মধ্যে দিয়ে তিনি এ দেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন।
বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়ে যখন বাংলাকে স্বাধীন বাংলাদেশ রুপান্তরিত করলেন। দেশের যখন উন্নয়নের দিকে নিয়ে যেতে শুরু করলেন। তখন পাকিস্তানি দোসররা তাকে স্বপরিবারে হত্যা করলো। হত্যাকারীরা জানতো বঙ্গবন্ধু পরিবারের কোন রক্তবিন্দুু জীবিত থাকলে সে রক্তে কথা বলবে। তাই তারা শিশু রাসেলকেও নির্মম-নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। এমনিভাবে নৃশংস হত্যাকান্ড কোন ইতিহাসে নেই। রাতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পরই ভোরের সূর্যোদয়ের পূর্র্বেই সেনা প্রধান হলেন জিয়াউর রহমান। এতে বুঝতে বাকি নেই কারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। একমাত্র প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিহিংসার একটা শেষ আছে, মাত্রাও আছে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নি¤œ মধ্য আয়ের দেশে রুপান্তরিত হয়ে মধ্য আয়ের দেশ রুপান্তরের প্রচেষ্টা চলছে। সারা বিশ্ব আজ বাংলাদেশের প্রশাংসায় পঞ্চমুখ। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে ১৯৮৫ সালের মধ্যে এদেশ বিশ্বদরবারে মধ্য আয়ের দেশে রুপান্তরিত হতো। সিঙ্গাপুুরের আগে এ দেশ মডেলে পরিণত হতো। কিন্তু পাকিন্তানিরা সে সুযোগ দেয় নাই। আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আমরা সকলে দোয়া করি আল্লাহ বঙ্গবন্ধুকে জান্নাতবাসী করুন এবং তার সুুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী মমতাময়ী শেখ হাসিনাকে সুুস্থ রাখুক ও তাকে দীর্র্ঘায়ু করুন। কলারোয়া উপজেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগ আয়োজিত হাজারও বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতিয় শোক দিবস উপলক্ষে সরকারি কলেজের হল রুমে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আলোচকের বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। শুক্রবার বিকালে পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগ উপজেলা শাখার আহবায়ক রুবেল মল্লিকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগের আহবায়ক মাহমুদ আলী সুমন, জেলা জর্জ কোটের পিপি ওসমান গনি, কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান সম মোর্শেদ আলী। প্রধান আলোচক সরদার মুজিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সরকারি কলেজে তার ছোট ভাই উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাবেক সভাপতি এবং কলেজের ভিপি সম মোর্শেদ আলী ছাত্র থাকাকালীন সময়ে কলেজে একটি ছাত্র সংসদ পরিচালনা করতো। কলেজের সকল ছাত্রদের সুযোগ সুবিধা আদায়ের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যেতেন। ততকালীন ২০০০ সালের এস,এস,সি পরিক্ষার প্রথমদিন শুরু হওয়ার আগে এক মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় ঝড়ে গেল পরিক্ষার্থীসহ ৪টি তাজা প্রান। এই দূর্ঘটনার সেই দিন সম মোর্শেদ আলী ছিল আমানুল্লাহ ডিগ্রী কলেজে তার নিজের এক পরিক্ষার্র্থীকে আসনে বসানোর জন্য গিয়েছিলেন। সে সময় বিরোধী দল থাকায় দলীয় কিছু স্বার্থলোভী আওয়ামীলীগ নেতাদের কু-মতলবে একটি মিথ্যা হত্যা মামলা দিয়ে কলেজের ভিপি সম মোর্শেদ আলীসহ সকল ছাত্র সংসদের ছাত্রলীগ নেতাদের দীর্ঘদিন হাজত বাস করে রাখা হয়েছে। সেই মামলায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদেরকে তিন তিন বার জামিন করে গত ২০১৩ সালে শেখ হাসিনার নির্দেশেই হাইকোটে মিথ্যা প্রমান হয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের খালাশ করে দেওয়া হয়। এছাড়া কলারোয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন ও তার শ্বশুর মুক্তিযোদ্ধা চলাকালীন কমান্ডার মোসলেম উদ্দিনের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। উপজেলা বঙ্গবন্ধুু সৈনিকলীগের যুগ্ন-আহবায়ক ফিরোজ হোসেন স¤্রাটের পরিচালনা বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সৈনিকলীগের নেতাকর্মীদের বক্তৃতা ও উপস্থিতিতে উপস্থিত ছিলেন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবু সির্র্দ্ধীশর চক্রবর্তী, তাঁতীলীগের সভাপতি প্রিন্সিপাল আবির হোসেন, ইউপি সদস্য নূরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, আনারুল ইসলাম ও সাবেক ছাত্রনেতা শফিউল আলম শফিসহ নেতৃবৃৃন্দ প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগের আহবায়ক মাহমুদ আলী সুমনের ঘোষিত অনুযায়ী অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার সর্ব-সন্মতিক্রমে রুবেল মল্লিককে সভপতি ও ফিরোজ হোসেন স¤্রাটকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষনা করে ৬৫ সদস্য বিশিষ্ট ৩বছর মেয়াদী পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করে কলারোয়া উপজেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য অনুুমতি দেওয়া হয়। এছাড়া আলোচনা সভা শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত করেন।
স/এষ্

