খালিদ হোসেন মিলু,বদলগাছী(নওগাঁ) সংবাদদাতাঃ
উজান থেকে নেমে আশা পানির চাপে নওগাঁর বদলগছী উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ছোট যমুনা নদীর পানি ভয়াবহরুপ ধারন করেছে। যে কোন মহুর্তে বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তির্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকায় উপজেলাবাসী আতংকিত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন স্থানে বেরী বাধ এলাকবাসী দিন রাত পাহারা দিচ্ছে বাঁধ।উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইতি মধ্যে গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে মাঠ ঘাঠ তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার বিঘা রোপা আমন ধাঁন সহ বেগুন, পটল, মরিচ সহ অন্যান্য শাক সব্জির ক্ষেত নষ্ট হয়ে পড়েছে।বর্তমানে ছোট যমুনা নদীর পানি ভয়াবহরুপ ধারন করায় বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ফলে নদীর দুই পার্শে আরজী দাউদপুর, চক আলম, সেনপাড়া , দেউলিয়া, ইদ্রাকপুর, পারসোমবাড়ী কাজল বিবরি মোড়ে তাজপুর, এনায়েতপুর সহ প্রায় ২০/২৫ জায়গাতে মারাতœক ফাটল দেখা দিয়েছে এবং সেন পাড়া মাত্র ১ কিঃমিঃ পাকা রাস্তার মধ্যে ৩ টি স্থানে রাস্তার নিচে দিয়ে বিভিন্ন খাল দিয়ে বেশ জোরে পানি বাহির হচ্ছে। সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বার ও সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী বাঁশের খুঁটি পুতে মাটির বাস্তা ফেলে পানি বন্ধের চেষ্টা করছে কিন্তু তেমন কোন নিশ্চয়তা নেই। যে কোন মহুর্তে সেনপাড়া ৩ টি পয়েন্টে ভেঙ্গে আধাইপুর ইউপি সম্পূর্ন প্লাবিত হওয়ার দারপান্তে লক্ষ্য করা গেছে। অপর দিকে বিলাশবাড়ী ইউপির গত বুধবার বিকালে পারসোমবাড়ী কাজল বিবির মোড়ে মারাতœক ভাঙ্গন দেখা দিলে সেখানে প্রায় ১ হাজার বস্তা দিয়ে স্থানীয় লোকজন বাঁশের খুঁটি পুতে মাটির বস্তা ফেলে ভাঙ্গন রোধ করে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদ এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যর সহযোগীতায় বেরী বাঁধের মারাতœক হুমকির স্থানগুলিতে বস্তা খুটি মেরে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করছে এলাকাবাসী।
এ ছাড়া পুরো বাঁধে হাজার হাজার লোক দিন রাত পাহারা দিচ্ছে। এ রিপোট লেখা পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আতংকিত এলাকাবাসী উচু স্থান গুলিতে মাচা বেঁধে বাড়ি ঘরের মালামাল ও গবাদি পশু গরু,ছাগল,হাঁস ,মুরগী ও ধান,চাল রক্ষার জন্য বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের পশা পাশি নেই স্থানীয় সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দীন তরফদার সেলিম তিনিও সার্বক্ষনিক পরিদর্শন করছেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা অলি আহম্মেদ রুমী চৌধুরী, নওগাঁ জেলা পরিষদ সদস্য জহুরুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান স.ম. ফজলুল হক বাচ্চু, ইউএনও মাসুম আলী বেগ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তয়ন কর্মকর্তা আব্দুল করিম সার্বক্ষনিক বাঁধ পরিদর্শন করে চলেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান সহ এলাকাবাসী অভিযোগ করেন বিভিন্ন স্থানে বাঁধে মারাতœক ফাঁটল ও ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়ে পড়লেও নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতা করা হচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম আলী বেগ জানান পানি বন্দী পরিবারদের মাঝে বিতরনের জন্য ইতি মধ্যে ৫০ মেঃ টন ত্রান বরাদ্দ পাওয়া গেছে শীঘ্রই তা বিতরন করা হবে।
স/মা

