মোঃ খালিদ হোসেন মিলু ,
নওগাঁ সংবাদদাতা ঃ
নওগাঁর বদলগাছীতে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চরম মাত্রায় পৌঁছেছে পল্লী বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিং। তীব্র দাবদাহ ভ্যাপসা গরম ও রোদের প্রখরতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যেন চলছে লোডশেডিং। ফলে একদিকে অতিষ্ঠ জনজীবন অপর দিকে হ্রাস পাচ্ছে কল-কারখানার উৎপাদন। প্রায় দুই মাস ধরে অব্যাহত ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কবলে পরে প্রায় ৩৩ হাজার গ্রাহক ভোগান্তির শীকার হচ্ছে। বিপাকে পড়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। বদলগাছী জোনের অভিযোগ কেন্দ্রের নির্ধারিত নাম্বারে ফোন দিয়ে রিসিভ হয়না হলেও অভিযোগ আছে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন বদলগাছী, মিঠাপুর, কোলা, আধাইপুর, মথুরাপুর, পাহাড়পুর, বিলাশবাড়ী ও বালুভরা সবখানেই একই চিত্র। দিনে রাতে প্রায় ১০/১২ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকেনা বলে অভিযোগ আছে। নওগাঁর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি বদলগাছী জোন অফিস সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলায় ৬টি ফিডার রয়েছে । মোট গ্রাহক সংখ্যা ৩৩ হাজার প্রায় ।
পোল্ট্রি শিল্প বলে খ্যাত এই উপজেলায় গড়ে উঠেছে অনেক হ্যাচারী যা বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারনে হ্যাচারী মালিকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এছাড়াও এই এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক পোল্ট্রি ফিড মিল। লোডশেডিংয়ের কারণে মিলের উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। বিভিন্ন ঔষধের দোকানে ফ্রিজে রাখা ঔষধ ও ভ্যাক্সিনের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে বলেও জানা যায়। সন্ধ্যায় বেপরোয়া লোডশেডিংয়ে ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশুনা ব্যাহত হয়ে পড়েছে ।
উপজেলার দ্বারিশন গ্রামের কলেজ ছাত্র রবিউল হাসান জানায়, সন্ধা হলেই বিদ্যুত থাকে না। এতে পড়া-শুনায় বিঘœ ঘটছে। মিঠাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ ফিরোজ হোসেন জানায় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে এলাকার জনগন নিয়মিত আমাদের কাছে অভিযোগ করছে।
উপজেলার খাদাইলে গড়ে ওঠা মা গোল্ড ফিডমিল ইন্ডাষ্ট্রি এর মালিক সাজেদুল করিম পিন্টু সোনার জানায় ফিডমিলে ফিড উৎপাদনের সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে মেশিন পুনরায় চালু করতে ১ ঘন্টার মতো সময় লাগে যাতে লোকসান গুনহে হয়। ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়াতে বার বার মিল চালু করতে বিরম্বনায় পড়তে হয়।
স¤্রাট পোল্ট্রি হ্যাচারীর মালিক মোঃ ওয়াজেদ ইসলাম প্রতিনিধিকে জানায় বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে নিয়মিত লোকসান গুনতে হচ্ছে। হ্যাচারী বন্ধ করে দিব বলে ভাবছি।
বদলগাছী জোনের সাময়িকভাবে দায়িত্বে থাকা নওগাঁ সদরের এজিএম মিজানুর রহমান লোডশেডিংয়ের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং তিনি বদলগাছী জোনে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জহুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার জন্য পরামর্শ দেন। জহুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চাহিদা বেশী সরবরাহ কম এর কারণেই এই লোডশেডিং চলছে।
স/মা

