আকিব হৃদয়, কিশোরগঞ্জ থেকে
আগামী ১৪ই আগস্ট ২০১৭ তারিখ বিষ্ণুর অবতার শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন শুভ জন্মাষ্ঠমী পালিত হতে যাচ্ছে। শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃক কিশোরগঞ্জ জেলার ২৭ টি মন্দিরে অনুদানের চেক বিতরন করা হয়েছে। চেক বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও উপসচিব তরফদার মোঃ আক্তার জামীল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট্রের ট্রাস্টি রিপন রায় লিপু। চেক বিতরন অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মাখন দেবনাথ, শ্রীশ্রীকালীবাড়ি মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, সদর উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবু পল্লব কর, শ্যাম সুন্দর আখড়ার কার্যকারী পরিষদের সদস্য বাবু রতন বসাক, শ্যাম সুন্দর আখড়ার কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবু অপু পাল প্রমুখ।
হিন্দু পঞ্জিকা মতে, সৌর ভাদ্রমাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে যখন রোহিণী নক্ষত্রের প্রাধান্য হয়, তখন জন্মাষ্টমী পালিত হয়। শাস্ত্রীয় বিবরণ ও জ্যোতিষ গণনার ভিত্তিতে লোকবিশ্বাস অনুযাযী কৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল ৩২২৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ১৮ অথবা ২১ জুলাই। মথুরা নগরীতে অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে। তিনি বসুদেব ও দেবকীর অষ্টম পুত্র। দেবকীর দাদা কংস, তাঁদের পিতা উগ্রসেনকে বন্দী করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। একটি দৈববাণীর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তানের হাতে তাঁর মৃত্যু হবে। এই কথা শুনে তিনি দেবকী ও বসুদেবকে কারারুদ্ধ করেন এবং তাঁদের প্রথম ছয় পুত্রকে হত্যা করেন। দেবকী তাঁর সপ্তম গর্ভ রোহিণীকে প্রদান করলে, বলরামের জন্ম হয়। এরপরই কৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। কৃষ্ণের জীবন বিপন্ন জেনে জন্মরাত্রেই দৈবসহায়তায় কারাগার থেকে বের হয়ে বসুদেব তাঁকে গোকুলে তাঁর পালক মাতাপিতা যশোদা ও নন্দের কাছে রেখে আসেন। কৃষ্ণ ছাড়া বসুদেবের আরও দুই সন্তানের প্রাণরক্ষা হযয়েছিল। প্রথমজন বলরাম (যিনি বসুদেবের প্রথমা স্ত্রী রোহিণীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন) এবং সুভদ্রা (বসুদেব ও রোহিণীর কন্যা, যিনি বলরাম ও কৃষ্ণের অনেক পরে জন্মগ্রহণ করেন)।
স/এষ্

