ঢাকারবিবার , ৬ আগস্ট ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

জামিনে মুক্ত হয়ে পালিয়েছেন মাহফুজুর

admin
আগস্ট ৬, ২০১৭ ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

যৌন নির্যাতনকারী হিসেবে অভিযুক্ত আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহফুজুর রশিদ ফেরদৌস জামিনে মুক্ত হয়ে পালিয়েছেন।ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, গত ১২ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও জাফর আহমদের বেঞ্চ এ আসামির ৬ সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর জামিনের আদেশ বিচারিক আদালত ঢাকার ২ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পৌঁছার পর গত ১৮ এপ্রিল ওই আসামির পক্ষে বিচারক মোহাম্মাদ সফিউল আজম ৫ হাজার টাকা বন্ডে জামিননামা দাখিলের অনুমতি প্রদান করেন। এরপর তিনি জামিনে মুক্ত হন। এরও পর গত ৪ মে ধার্য তারিখে তিনি ট্রাইব্যুনালে হাজিরা প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে আপিল বিভাগ গত ২২ মে তার জামিন বাতিল করে ১ সপ্তাহের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের নিদেশ প্রদান করেন। কিন্তু তিনি আপিল বিভাগের নির্দেশ অমান্য করে ট্রাইব্যুনালে হাজির না হওয়ায় গত ১ জুন ট্রাইব্যুনাল জামিন বাতিল করে তাকে পালাতক ঘোষণা করেন।

এ সম্পর্কে আসামি পক্ষের আইনজীবী মোফাজ্জল হোসেন ফারুফ পলাতক হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আপিল বিভাগ জামিন বাতিল করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলে তিনি (আসামি মাহফুজ) আর আদালতে আসেননি। ফলে ট্রাইব্যুনালও জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।ভিকটিমদের পক্ষে আইন সহায়তাদানকারী মহিলা আইনজীবী সমিতির আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার রিংকি বলেন, আসামি পলাতক থাকলে মামলার ন্যায়বিচারে বিঘœ ঘটতে পারে; সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারে। তাই পুলিশের উচিত যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাকে গ্রেপ্তার করা।এদিকে গত ১৬ জানুয়ারি ও ৯ ফেব্রুয়ারি মামলাটির বাদী আসাদদৌলাহ আল সায়েমের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর গত ৩ জুলাই এ সাক্ষীকে আসামি পক্ষের অবশিষ্ট জেরার দিন ধার্য থাকলেও আসামি পলাতক হওয়ায় সাক্ষ্য সমাপ্ত ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর গত ২৭ জুলাই একজন ভিকটিমের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন ট্রাইব্যুনাল আরও দুই ভিকটিমকে সাক্ষ্য দিতে সমন জারির আদেশ দিয়ে আগামী ১৭ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।২০১৬ সালের ৩০ জুলাই নারী সাহায়তা ও তদন্ত বিভাগে কর্মরত পুলিশের এসআই আফরোজ আইরীন কলি আসামি মাহফুজুর রশিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমর আইনের ৯-এর ৪ (খ) ধারায় শিক্ষার্থীদের ধর্ষণের চেষ্টা এবং ১০ ধারায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এবং ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮ ধারা ও ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইনের ৯ (খ) ধারায় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় ওই চার্জশিট দাখিল করা হয়।এরপর ওই বছর ৩ নভেম্বর এ আসামির অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে চার্জগঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।২০১৬ সালের ৪ মে দিবাগত রাতে আহসানউল্লাহ বিশ^বিদ্যালয়ের তড়িত প্রকৌশল বিভাগের সহকারী ওই অধ্যাপককে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ৫ মে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। রিমান্ড শেষে ৭ মে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন শুরু করে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। আকস্মিক আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়। তৎক্ষণাৎ বৈঠকে বসে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কর্তৃপক্ষের ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে চার দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বেশ কয়েক বছর ধরে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ করে আসছিলেন নিপীড়নের শিকার শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকের দাপটে সব মিলিয়ে যাচ্ছিল। নিপীড়নের শিকার ছাত্রীদের বেদনা অব্যক্তই থেকে যায়। তবে শেষ রক্ষা হলো না দাপুটে শিক্ষক মাহফুজুর রশিদ ফেরদৌসের। ওই বছর গত ৪ মে রাতে আসাদদৌলাহ আল সায়েম এ মামলা দায়ের করেন।