ঢাকারবিবার , ৬ আগস্ট ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

গোয়াইনঘাটে উচ্ছেদ আতঙ্কে রয়েছে কয়েক শতাধিক পরিবার

admin
আগস্ট ৬, ২০১৭ ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

শাহ আলম, গোয়াইনঘাট থেকেঃ সিলেটের গোয়াইনঘাটে বসতভিটা উচ্ছেদ আতঙ্ক বিরাজ করছে কয়েক শতাধিক পরিবারের মাঝে। ওই এলাকায় নিম্ন আয়ের  কয়েক’শ হত দরিদ্র পরিবার বংশপরমপরায় ধরে বসবাস করে আসছেন।
দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করে আসলেও বর্তমান সরকার সিলেট জেলা পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন বিকাশের লক্ষে ওই এলাকায় একটি
দৃষ্টি নন্দন পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করলে নানা রকম দুঃশ্চিন্তা আর উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। আর এই উচ্ছেদ আতঙ্কের ভয়ে গত ৩ আগষ্ট বৃহস্পতিবার বসতভিটা রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশও করেছেন স্থানীয়রা। জানা যায়, ১৯৮৮ ইং সনে ভয়াবহ বন্যায় নদীতে বিলিন হয়ে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা ও হত দরিদ্রদের বসত বাড়ি। অস্থায়ী ভাবে সরকারী যায়গায় আশ্রয় নেয় ভূমি হারা ক্ষতিগ্রস্থ কয়েক শতাধিক পরিবার।
সূত্রে জানাযায়, উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের চৈলাখেল পঞ্চম খন্ড মৌজায় ১নং খতিয়ানের ৯১ নং দাগে প্রায় ১শ’ ১৩.০৯ একর ভূমি রয়েছে। সেই ভূমিতে স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময় থেকে প্রায় পাচঁ শতাধিক ভূমিহীন ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোকজন বসবাস করে আসছেন। সেখান থেকে ১৯৮৯ইং সনে ১৮.২৫ একর ভূমি শ্রেণী পরিবর্তন করে জেলা পরিষদের ডাক বাংলো ও কয়েকটি ভূমিহীন পরিবারের অনুকূলে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। বাকি পতিত ভূমিতে দখল পূর্বক বসবাস করে আসছেন ভূমিহীন এসব পরিবার। ইতিপূর্বে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এ সংস্থা কর্তৃক নিয়োগকৃত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল এন্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) ওই ভূমি থেকে দশ একর ভূমি চিহ্নিত করেছেন। একই সাথে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করে এ সংক্রান্ত একটি চুরান্ত প্রতিবেদনও দাখিল করেছেন প্রতিষ্ঠানটি। সে অনুযায়ী ওই জমি বিনা মূল্যে বরাদ্দের লক্ষে তা সংরক্ষণ ও অনাপত্তি পত্র প্রদানের জন্য বাংলাদেশ পর্যটন করপেররেশন থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
এমতাবস্থায় চরম ক্ষতির আশংকা ও উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে প্রাচীন বসবাসরত ভূমিহারা এসব পরিবারের মাঝে। তারা দাবী করেন, উচ্ছেদ না করে সরকারের পতিত পড়ে থাকা জমিতে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন করা হোক। অন্যথায় জীবন দিয়ে হলেও ভিটে মাটি রক্ষায় বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ারী এসব ভূমি ক্ষতি গ্রস্থদের। বীর মুক্তিযোদ্ধা জহির আলী ও আলীম মিয়া জানান, পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হলে হাজার হাজার নারী-পুরুষ জন্মভূমি ভিটেহাড়া হয়ে পড়বে। পাশা পাশি শিক্ষা বঞ্চিত হাওয়ার আশংঙ্খায় রয়েছেন তাদের পরিবারের থাকা কয়েক হাজার কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী। তাই সর্বাত্বক বিষয় বিবেচনা করে তাদের বসতভিটা রক্ষায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাকির হোসেন জানান, সরকারের ভূমিতে সরকারী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ
করা হবে। এতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। তাছাড়া যে ভূমিতে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে সেখানে যদি প্রকৃতই কোন
ভূমিহীন পরিবার থেকে থাকে তাহলে তাদের পূণর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার
কিছু নেই।

স/এষ্