কেন্দুয়ায় ৪ মাস ধরে বাড়ি ছাড়া আছিয়া খাতুনের পরিবার
কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি- নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় প্রতিবেশী তারা মিয়া গংদের অত্যাচারে সাড়ে ৪ মাস ধরে বাড়ি ছেড়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে দাবী ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা আছিয়া খাতুনের।
তারা মিয়া কর্তৃক নির্যাতন ও প্রাণনাশে হুমকী প্রদানের দাবী করে বুধবার (১৮ মে) বিকালে কেন্দুয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের আশুজিয়া গ্রামের মৃত সমশের আলীর স্ত্রী ভূক্তভোগী আছিয়া খাতুন।
সংবাদ সম্মেলনে আছিয়া খাতুন জানান, তার কোন পুত্র সন্তান নেই। স্বামীও মারা গেছেন বহুদিন আগে। প্রতিবেশী হাসান আলীর ছেলে তারা মিয়া গংরা তাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করে আসছেন।
আছিয়া খাতুন জানান, গত ২০২১ সালে ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় আমার বসতঘরে ঢুকে অর্তকিত হামলা চালিয়ে দুই নাতনীসহ আমাকে বেধড়ক মারপিট করে প্রতিবেশি তারা মিয়া গং। এছাড়া আমার কলেজ পড়–য়া নাতনিকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদে ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দুটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
বিবাদীদের নানামুখী অত্যাচার ও প্রাণনাশের ভয়ে গত ৫ জানুয়ারী থেকে আছিয়া খাতুন তার মেয়ে ও নাতনীদের নিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে চরম কষ্টে দিনযাপন করছেন বলে জানান।
তারা বাড়িতে আশ্রয় নিতে প্রশাসনসহ নানাজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সঠিক বিচার পাচ্ছেন না বলে দাবী করেন।
তিনি আরো বলেন তাঁর কলেজ পড়ুয়া নাতনীকে বিবাদীরা কলেজে আসা-যাওয়া সময় নানাভাবে উত্যক্ত করে থাকে। যেকারণে প্রতিদিন তাকে কলেজে পাঠানো হয়না।
আছিয়া খাতুন আরও জানান, স্বামী সমশের আলীর মৃত্যুর পূর্বে তার নামে ৩০ শতাংশ এবং মেয়ে সবিতা আক্তারের নামে ২৯ শতাংশ ভূমি লিখে দিয়ে যান। ওই ভূমিটুকু গ্রাস করতে প্রতিবেশি হাসান আলী ছেলে তারা মিয়া গং আমার পরিবারকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করে আসছে।
সম্প্রতি মামলা সংক্রান্ত কাজে নেত্রকোনা আদালতে গেলে সেখানেও আমাদের উপর চড়াও হয় তারামিয়া গং। বৃদ্ধার মেয়ে ফারজানা, সবিতা এবং নাতনি কলেজ ছাত্রী মোস্তাকিমা আকন্দ মিম বলেন, আমরা বড় অসহায়। আমাদের পরিবারে কোন পুরুষ সদস্য নেই। আমাদেরকে বসতভিটায় বসবাস করার ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য আপনাদের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনসহ সকলের প্রতি অনুরোধ জানাই। এ ব্যাপারে তারামিয়ার সাথে যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার ছেলে বিজয় মিয়া মুঠোফোনে জানান, আমাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ঝগড়া হয়েছিল সত্য কিন্তু আমরা উচ্ছেদ বা নির্যাতন করিনি।
স/বি

