সিলেটের তারাপুর চা-বাগানের হাজার কোটি টাকার ভূমি দখল ও অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে আত্মসাৎ করার মামলায় রাগীব আলী, তার ছেলে-মেয়েসহ ছয় আসামিদের বিরুদ্ধে রায় আগামী বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) ঘোষণা করা হবে।
সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম মো.সাইফুজ্জামান হিরো রোববার রায়ের এ তারিখ ধার্য করেছেন।
মঙ্গলবার মামলার তারিখ ধার্যের বিষয়টি আদালতের অতিরিক্ত পিপি মাহফুজুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আদালতে রাগীব আলী ছেলে ও মামলার অন্যতম আসামি আবদুল হাইয়ের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিবেদন দাখিল করার পর এ রায়ের তারিখ ধার্য করা হয়।
গত রোববার আদালতে দাখিলকৃত মেডিকেল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবদুল হাইয়ের মানসিক কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া তার অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যাও নেই।
ওসমানী হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আর কে এস রয়েলের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের সাত সদস্যের একটি বোর্ড আবদুল হাইয়ের স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদন তৈরি করেন। ওই বোর্ডে মেডিসিন, হৃদরোগসহ অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসকরাও ছিলেন।
এর আগে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করা হয়েছিল। তবে রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাইকে ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ উল্লেখ করে উচ্চ আদালতে ইউসুফ খান নামের এক ব্যক্তি রায় ঘোষণা স্থগিত রাখার আবেদন জানান। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত দুই সপ্তাহের জন্য রায় ঘোষণা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।
এ সময়ের মধ্যে রাগীব আলীর ছেলে মানসিক অসুস্থতার পরীক্ষা ৩০ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ওসমানী হাসপাতালের আবদুল হাইয়ের মানসিক পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেন সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত।
তবে গত ৩০ মার্চ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। ওই সময় আদালত প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব হওয়ার কারণ লিখিতভাবে পাঁচ দিনের মধ্যে জানাতে নির্দেশ দেন। তবে আদালতের নির্দেশের তিন দিনের মধ্যেই গত রোববার প্রতিবেদন দাখিল করে হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ শিববাড়ি এলাকায় বোমা বিস্ফোরণে আহতদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় প্রতিবেদন দাখিলে দেরি হয়েছে বলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে মাহবুবুল হক লিখিত জবাবে উল্লেখ করেন।
আলোচিত এ আত্মাসাৎ মামলার আসামিরা হচ্ছেন- রাগীব আলী, তার ছেলে আবদুল হাই, মেয়ে রোজিনা কাদির, জামাতা আবদুল কাদির, রাগীব আলীর আত্মীয় মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার দেওয়ান মোস্তাক মজিদ, তারাপুর চা বাগানের সেবায়েত পংকজ কুমার গুপ্ত।
এর মধ্যে রাগীব আলী, আবদুল হাই একটি জালিয়াতি মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে রয়েছেন। রোজিনা কাদির ও আবদুল কাদির পলাতক। এছাড়া পংকজ কুমার গুপ্ত ও দেওয়ান মোস্তাক মজিদ জামিনে রয়েছেন।
৪২২ দশমিক ৯৬ একর জায়গার ওপর তারাপুর চা-বাগান পুরোটাই দেবোত্তর সম্পত্তি। নব্বইয়ের দশকে জালিয়াতির মাধ্যমে এটি দখলে নেন রাগীব আলী। এ নিয়ে চলা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে একটি রিট পিটিশনের ভিত্তিতে গত বছরের ১৯ জানুয়ারি তারাপুরে রাগীব আলীর দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করেন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ।
একইসাথে রাগীব আলীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে করা মামলা দুটিকে সক্রিয় করার নির্দেশনাও দেন। পরে ১০ জুলাই পিবিআই মামলার চার্জশিট দাখিল করে।
তারাপুর চা-বাগান বন্দোবস্ত নিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি মামলায় গত ২ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
এছাড়া পলাতক থাকা অবস্থায় ‘দৈনিক সিলেটের ডাক’ পত্রিকা সম্পাদনা করার অভিযোগে আরেকটি মামলায় ছেলেসহ রাগীব আলীকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।
স/নিপা

