আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর ৩০তম স্থানে জায়গা করতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম বন্দর কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৭১তম স্থান অর্জন করায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বন্দর কর্তৃপক্ষের আয়োজিত ‘জাতীয় অর্থনীতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের অবদান’ শীর্ষক সেমিনারে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বন্দরটি ৪০০ খ্রিস্টপূর্বে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু বন্দর হিসেবে মর্যাদা পায় ১৯৪৭ সালে। তখন এ অঞ্চলে এটিই ছিলো একমাত্র বন্দর। বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় যে অর্থ বরাদ্দ চায় আমরা তা দিতে পারিনি। অর্থনৈতিক সংকট, ব্যবস্থাপনা দুর্বলতা সত্ত্বেও বন্দরটি আজ বিশ্বের ১০০টি বন্দরের মধ্যে ৭১তম স্থান লাভ করেছে। এজন্য আমি সত্যিই আনন্দিত। আমার আশা, আগামী ১৩ বছরে এ বন্দর শীর্ষ ত্রিশে স্থান করে নেবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, রপ্তানি বাণিজ্যে বন্দরের অবদান সবচেয়ে বেশি। তাই বন্দরের কারণে রপ্তানিতে যেন কোনোরকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। কারণ রপ্তানির উপর আমাদের অর্থনীতির অনেক কিছু নির্ভর করে। এজন্য বন্দরের সুবিধা বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, একসময় এ বন্দর দিয়ে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হতো। সেই অবস্থা থেকে এখন তা বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগামীতে আমদানি-রপ্তানি বাড়াতে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
সালমান এফ রহমান বলেন, অর্থনীতির জন্য দু’টি জিনিস খুব দরকার। একটি হলো বিদ্যুৎ-জ্বালানি, অন্যটি অবকাঠামো। আর অবকাঠামোর মধ্যে বন্দর অন্যতম। বিদ্যুৎ সুবিধা বাড়ালে হয়তো নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। কিন্তু শিল্পকারখানাকে এগিয়ে নিতে হলে বন্দরের সুবিধা দিতে হবে। এজন্য বন্দর সুবিধা ও জ্বালানি সুবিধা একসঙ্গে দিতে না পারলে সরকারের মধ্যম আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুস সামাদ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন লন্ডনভিত্তিক জাহাজশিল্প বিষয়ক প্রাচীন সংবাদমাধ্যম লয়েড’স লিস্ট এর সম্পাদক লিন্টন নাইটিঙ্গেল।
স/এষ্

