ঢাকাবুধবার , ২০ ডিসেম্বর ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

হার্ট অ্যাটাকের আগের লক্ষণ ও প্রতিকার

admin
ডিসেম্বর ২০, ২০১৭ ৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

হার্ট অ্যাটাক এক নীরব ঘাতক। যে কেউ যেকোনো সময় এতে আক্রান্ত হতে পারে। বুকের বাঁদিকে হালকা ব্যথা, কাঁধ, ঘাড়, সারা শরীরে ব্যথা এমন উপসর্গ হতে হতেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে।

এতদিন পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাকের এই সমস্ত লক্ষণগুলোই জানা ছিল আমাদের। কিন্তু সম্প্রতি গবেষণায় জানা গেছে, হার্ট অ্যাটাক হওয়ার বেশ কিছুক্ষণ আগে থেকেই বিভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়।

সেই গবেষণা জানাচ্ছে, কোনরকম শারীরিক কসরৎ ছাড়াই হঠাৎ করে ঘেমে যাওয়াও হার্ট অ্যাটাকেরই লক্ষণ। যে লক্ষণটা আমরা সবথেকে বেশি এড়িয়ে যাই, তা হলো, মহিলাদের ক্ষেত্রে মেনোপজের কারণেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

যাদের ধূমপানের অভ্যাস রয়েছে, ডায়াবিটিসের সমস্যা রয়েছে, উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এবং অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা রয়েছে, তাদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

সাধারণত দু’ভাবে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। কোনো কোনো লোকের হয়তো আগে থেকে কিছু কিছু লক্ষণ থাকে। যেমন—অনেকের হয়তো পরিশ্রম করতে গিয়ে বুকে ব্যথা হতো, বিশ্রাম করলে তিনি ভালো থাকতেন। এভাবে কয়েক মাস বা কয়েক বছরও চলে যেতে পারে। আবার কোনো কোনো লোকের ক্ষেত্রে হঠাৎ করেই হার্টের শিরা বন্ধ হয়ে যায়।

আসলে আগে থেকে রোগ থাকুক বা না থাকুক যদি কোনো কারণে হঠাৎ হার্টের রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, হার্টের রোগ হয়, একে সাধারণত হার্ট অ্যাটাক বলা হয়ে থাকে।

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ :

১. হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে কমন একটি লক্ষণ হল বাম বুকের মাঝবরাবর তীব্র ব্যথা অনুভব হওয়া। এ ব্যথা শরীরের পুরো বাম পাশকেই অবশ করে ফেলতে পারে।

২. ক্লান্তি-অবসাদও হার্ট অ্যাটাকের বড় লক্ষণ।

৩. বুকে ব্যথা হওয়ার সাথে কিংবা ব্যথা ছাড়াই যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয় তাহলে অবশ্যই সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যান।

৪. হার্ট অ্যাটাকের পরপরই শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হতে থাকবে। সংবেদনশীল স্নায়ুতন্ত্র অতিরিক্ত ক্রিয়াশীল হয়ে পড়ায় এ সময় শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে ঘাম ঝরে।

৫. আর ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে বুকে তীব্র ব্যথা অনুভুত হওয়ার চেয়েও শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে ঘাম ঝরা, মাথা ঘোরা ও ক্ষণিকের জন্য চেতনাহীন হয়ে পড়াটাই হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে কমন পূর্বলক্ষণ।

৬. শ্বাসকষ্ট, মাথা ঝিমানো ও জ্ঞান হারানো হার্ট অ্যাটাকের আরো কয়েকটি পূর্বলক্ষণ। করোনারি শিরা-উপশিরায় ব্লক পড়ার ফলে হৃদপিণ্ডের মাংসপেশীতে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ লক্ষণগুলো দেখা দেয়।

৭. তলপেটের উপরিভাগে অস্বস্তি এবং হৃদপিণ্ডে জালাপোড়াও হৃদরোগের পূর্বলক্ষণ। এ লক্ষণগুলোকে অনেক সময় এসিডিটি ও হৃদপিণ্ডের সাধারণ প্রদাহ গণ্য করে ভুল করা হয়।

৮. তীব্র বমির অনুভুতিও হার্ট অ্যাটাকের একটি ছদ্মবেশী পূর্বলক্ষণ। তবে এটাকেও অনেকসময় ভুলবশত গ্যাস্ট্রিক ও বদহজমের কারণে সৃষ্ট সমস্যা হিসেবে গণ্য করা হয়।

৮. হার্ট অ্যাটাকের আরো কয়েকটি পূর্ব লক্ষণ হল- অকারণ অবসাদগ্রস্ততা, বিবর্ণতা, ধড়ফড়ানি ও উদ্বিগ্নতা।

প্রতিকারের উপায় :

১. স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মেনে চলা। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। প্রচুর পরিমাণে ফল এবং সবজি খেতে হবে।

২. রক্তচাপ ঠিক রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা করা প্রয়োজন। এর ফলে একদিকে যেমন রক্তচাপ সঠিক থাকে, তেমনই ওজনও সঠিক থাকে।

৩. তামাক জাতীয় দ্রব্য বর্জন করতেই হবে।

৪. তামাকের মতো অ্যালকোহলে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি থাকে। অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। তাই হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করতে মদ্যপান ত্যাগ করতে হবে।

৫. কারো হার্ট অ্যাটাক হলে প্রথমেই জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তার ডেকে আনতে হবে। কারণ অভিজ্ঞ ডাক্তার ছাড়াই কোনো চিকিৎসা করতে গেলে অনেক সময় রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হয়ে পড়তে পারে।

৬. হার্ট অ্যাটাকের পরপরই রোগীকে শক্ত জায়গায় হাত-পা ছড়িয়ে শুইয়ে দিন এবং গায়ের জামা-কাপড় ঢিলেঢালা করে দিন। আর সম্ভব হলে জামা-কাপড় খুলে ফেলুন।

৭. বাতাস চলাচলের রাস্তাগুলো সব উম্মুক্ত করে দিন। এরপর রোগীকে গভীরভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে সহায়তা করুন।

৮. হার্ট অ্যাটাকের পর হাতের কব্জিতে পালস টেস্ট না করে বরং ঘাড়ের কোনো একপাশে পালস টেস্ট করুন। কারণ নিম্ন রক্তচাপের কারণে হার্ট অ্যাটাকের পর হাতের কব্জিতে পালস নাও ধরা পড়তে পারে।

৯. হার্ট অ্যাটাকের পর যদি রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তাকে কৃত্রিম উপায়ে অক্সিজেন সরবরাহের চেষ্টা করুন।

১০. হার্ট অ্যাটাকের পর রোগীর যদি বমি আসে তাহলে তাকে একদিকে কাত করে দিন। যাতে সে সহজেই বমি করতে পারে। এতে ফুসফুসের মতো অঙ্গে বমি ঢুকে পড়া থেকে রক্ষা পাবেন রোগী।

১১. হৃদপিণ্ডে রক্তের সরবরাহ বাড়াতে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তির দুটো পা-ই উপরের দিকে তুলে ধরুন।

১২. হার্ট অ্যাটাকের পর হৃদপিণ্ডে রক্তের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য বাজারে প্রচলিত ওষুধও রোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে খাইয়ে দিতে পারেন।

১৩. হার্ট অ্যাটাকে রোগী যদি অচেতন হয়ে পড়েন তাহলে সিপিআর থেরাপি প্রয়োগ করুন। সম্প্রতি আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন হ্যান্ডস অনলি সিপিআর নামে এ থেরাপির একটি সরলীকৃত ভার্সন ভিডিও আকারে বাজারে ছেড়েছে।

স/এষ্