এন.আই.মিলন, দিনাজপুর প্রতিনিধি- দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবিতে) ২ ছাত্রলীগ নেতার হত্যাকারীরা ২ বছরেও গ্রেফতার না হওয়ায় জনমনে বিরুপ পতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া ৪ টি মামলা ২ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। এজাহারভুক্ত প্রধান আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার না করে তদন্তের নামে কালক্ষেপন করছে। হত্যা মামলাগুলি ধামাচাপা দিতে পুলিশ এই গড়িমসি করছে বলে দিনাজপুরের সচেতন মহলের ধারনা।
উল্লেক্ষ্য, দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে বিবিএ ২য় বর্ষের ছাত্র দিনাজপুর শহরের বড় গুড়গোলা এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফার পুত্র জাকারিয়াকে মাথায় গুলি করে ও ভেটেরিনারী এন্ড এ্যানিমেল সাইন্স বিভাগের ছাত্র নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার ভেরভেরী মাঝাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাহামুদুল হাসান মিল্টনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত মিল্টনের চাচা মকসুদার রহমান ২৯/০৪/২০১৫ ইং তারিখে বাদী হয়ে বিচারক সিনিয়র চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ নাজমুল হোসেনের আদালতে হাবিপ্রবির সাবেক ভিসি মোঃ রুহুল আমিন, জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবু ইবনে রজ্জব ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞন সহ ৩৭ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যার নং- ১৬৯/১৫ ইং।
অপর দিকে নিহত জাকারিয়ার পিতা গোলাম মোস্তফা ২৮/০৪/২০১৫ ইং তারিখে বাদী হয়ে দিনাজপুর জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবু ইবনে রজ্জব ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞনসহ ৩৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যার নং- ১৮৪ সি/১৫ ইং। তবে এই মামলায় সাবেক ভিসি রুহুল আমিনের নাম ছিলনা।
মামলা গুলোতে হাবিপ্রবির সাবেক ভিসি প্রফেসর রুহুল আমিন, জেলা স্বেচ্ছা সেবক লীগের সভাপতি আবু ইবনে রজব, কোতয়ালী আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত ঘোষ কাঞ্চন ছাড়াও হাবিপ্রবি’র প্রক্টর এটিএম শফিকুল ইসলাম, সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান ফজলুল হক, কৃষি বনায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান হাফিজ আল আমিন পলাশ, ছাত্র উপদেষ্টা শাহাদৎ হোসেন খান লিখন ও ভিসির ড্রাইভার জাহাঙ্গীর আলম সহ ৩৭ জন আসামী ছিল।
আদালতে দায়ের করা মামলা দুটি বিচারক গ্রহণ করে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। শুনানী শেষে বিচারক মামলা দুটি তদন্ত করে রিপোর্ট দেয়ার জন্য ওসি কোতয়ালীকে নির্দেশ দেন। কিন্তু ঘটনার সাড়ে ৮ মাস অতিহাবীত হলেও মামলা গুলির কোন তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা হয়নি। দীর্ঘ সাড়ে ৮ মাসেও মামলা গুলোর কোন অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ নিহত দুই ছাত্রের পরিবার কোন উপায় না পেয়ে গত ২ ডিসেম্বর ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে এক প্রেস কনফারেন্স করেন।
এ ব্যাপারে নিহত জাকারিয়ার পিতা গোলাম মোস্তফা মুঠো ফোনে বলেন, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে আজ আমি অসহায় গত ২ বছরেও তার সন্তানের খুনিদের পুলিশ গ্রেফতার না করায়। আসামীরা দিনাজপুর শহরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন এবং ছেলেকে হত্যার পরেও তার মেয়েকে স্কুলে যেতে রাস্তায় সন্ত্রাসীদের হুমকি প্রদান অব্যাহত রেখেছে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। আজ আমার এক মাত্র ছেলে জাকারিয়ার ২য় মৃত্যু বার্ষিকী। সে বেচে থাকলে চাকুরি করে আমাদের পরিবারকে দেখভাল করতো। তাকে যারা হত্যা করেছে আল্লাহ তাদের মাফ করবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতে এসে জাকারিয়ার মত অন্য কোন ছাত্রকে যেনো সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারাতে না হয় সে জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার অকুল আবেদন রইল।
দিনাজপুর কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ রেদওয়ানুর রহিম বলেন, আমরা অভিযুক্ত ৪ আসামীকে গ্রেফতার করে কোর্টে চালান দিয়েছি। বর্তমানে তদন্ত চলছে। অনেক অগ্রগতি রয়েছে, যা এখনও বলার সময় আসেনি।
স/ এষ্

