মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের সোলারচর গ্রামের ইয়াবা ব্যবসায়ী আমজাদ কাজী (২২) নামের মাদক বিক্রেতা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করে আসছে। সোলারচর গ্রামের নসু কাজির ছেলে আমজাদ কাজী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করলেও কেউ কোন প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। স্থানীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে চালিয়ে যাচ্ছে রমরমা ইয়াবা ব্যবসা। আমজাদ পার্শবর্তী মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের ছোট আমঘাটা (নয়াকান্দি) গ্রামের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শিপন ও স্বপনের কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট এনে বিক্রি করে। । এই আমজাদকে নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা এবং অনলাইন মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে সংবাদ প্রচারিত হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও ছোট আমঘাটা (নয়াকান্দি গ্রামের)শীর্ষ এক নেতার দাপটে অনেকটা ধাপটের সাথে ইয়াবা বিক্রি করে যুবসমাজকে ধবংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, ২০ জুলাই মাদক বিক্রিতে বাঁধা দেওয়ার কারনে আমজাদ ও তার সহযোগিরা পিটিয়ে পিতা – পুত্রকে গুরুত্বর আহত করে। আহতরা হলেন, মীর হোসেন (৪০)ও তার ছেলে পারভেজ(১৮)। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী আমজাদ মীর হোসেনের চোখে ও মাথায় আঘাত করে । এতে তার চোখের মারাত্নক ক্ষতি হয়। এখনও মীর হোসেন অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে। এ ঘটনায় মীর হোসেনের বড় ভাই বাদী হয়ে মামলা করে । মামলায় আসামী করা হয় নসুকাজির ছেলে আমজাদ (২০) , নসুকাজি (৫০), হৃদয় (২২), শাওন (২১), সোহেল (২৪),রমজান কাজি(২৮) । মামলায় একজন আসামী আটক হয় । একদিন পরই সে জামিনে মুক্ত হয়ে যায়। ইতিধ্যে নান্নু সরকারের ছেলে (২৩) দেশের বাইরে চলে গেছে বলে জানাগেছে। বাকী আসামীরা আমাকে হুমকি দিচ্ছে ।
আহত মীর হোসেন হোসেন অভিযোগ করে বলেন, নসু কাজীর ছেলে আমজাদ হোসেন (২০), মৃত করিম সরকারের ছেলে সাকান (৫৫), রফিক বেপারীর ছেলে হেফাজ উদ্দিন (৩৮)। এই তিন মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি সোলারচর গ্রামে। এই গ্রামে মাদক ব্যবসার দুইটি সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে জানা গেছে। মৃত আব্বাস আলী বেপারীর ছেলে সুরুজ মিয়া নামের সাবেক মেম্বারের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে আহত মীর হোসেন। সোলার চরের কাজী বাড়ির পশ্চিম পার্শ্বে, নুর মোহাম্মদের বাড়ীর পার্শ্বে, সোলার চর গ্রামের উত্তর প্রান্তে, কালা চান্দের বাড়ির ভিটাসহ মোল্লাকান্দি ও আধারা ইউনিয়নে সুরুজ মিয়ার সেল্টারে তিন মাদক ব্যবসায়ী দেদারছে মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছে। এই তিন মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। বাকী আসামীদের মধ্যে নান্নু সরদারের ছেলে কবির (২৩) ইতিমধ্যে ইরাক চলে গিয়েছেন। রিয়াজ (২০), হৃদয় (২২), শাওন (২১), সোহেল (২৪), নছু কাজী (৫০), রমজান কাজী (২৮) এরা জামিনে রয়েছে। কবির কিভাবে মামলার আসামী হয়েও ইরাকে চলে গেলেন। অপর দিকে মাদক ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন (২০), সাকান (৫৫), হেফাজ উদ্দিন হেবা (৩৮) মুন্সীগঞ্জ শহরে অবস্থান করে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি ।
এ বিষয়ে সোলার চরের সাবেক মেম্বার সুরুজ মিয়া তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যাদেরকে মাদক ব্যবসায়ী বলা হচ্ছে আসলে তারা মাদক ব্যবসায়ী না তারা খেটে খাওয়া মানুষ। এলাকার বিভিন্ন স্পটে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এলাকায় মাদক বিক্রি চলে। পুলিশ সিভিলে আসে তাদের সাথে দেখা করে চলে যায়। যারা মাদক বিক্রি করে তাদের নাম আমি ১৬ আগস্ট এসপি অফিসের মিটিংয়ে বলেছি। মারামারির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, টলি চালানোকে কেন্দ্র করে এই মারামারির ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী অফিসার এস.আই আইয়ুব আলী জানান, কবির বিদেশে গেছে আমার জানা নেই। বাদী পক্ষ আমাকে কোন সহযোগিতা করছে না। একজন আসামী গ্রেফতার করেছিলাম। সে সহ কয়েকজন এখন জামীনে আছে। বাদী পক্ষ সহযোগিতা করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দ্রুত এই মাদক ব্যবসায়ীদের পুলিশ গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনবে এমনটাই আশা করছে সোলার চর গ্রামের নিরীহ সাধারণ মানুষ । স/রহ

