পুলিশের ভুমিকা রহস্যজনক দাবি নিহতের পরিবারের
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বাসাইলে চাঞ্চল্যকর মজিবর হত্যা মামলায় মুল আসামীকে বাদ দিয়ে চার্জশিট দাখিল করার অভিযোগ তুলে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবাররের সদস্যরা। নিহতের পরিবারের দাবি, মামলা করার পর পর পুলিশের তৎপরতা থাকলেও এখন পুলিশের তৎপরতা দূরের কথা বাদি পক্ষের কাউকে কথা বলার সুযোগই দেওয়া হয়না, এমনকি সাক্ষী নিতে আট মাসে একবারও বাড়িতে আসেনি তদন্তকারী কর্মকর্তা।
গতবছরের ৪জুন উপজেলার বাসাইল এলাকায় বেকারী ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান নিজ বাড়ী হতে কর্মস্থল ইমামগঞ্জ বাজারে যাওয়ার পথে মধ্যবর্তী রাস্তায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয় । এ ঘটনায় নিহত মজিবুরের ছেলে আরিফ হোসেন বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামী করে সিরাজদিখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ৭(৬) ২০১৭। মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, মজিবুরের সঙ্গে একই গ্রামের নুর মোহাম্মদ খাঁন, পাকিজ খাঁন উরফে পাখি, আয়ুব খাঁন গংদের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এদের মধ্যে নুর মোহাম্মদ খানঁ, পাকিঁজ খান উড়ফে পাখি, আইয়ুব খান এজহার ভূক্ত আসামী। এদিকে মামলার শুরু থেকে এজহার ভূক্ত আসামী নুর মোহাম্মদ খাঁন পলাতক। পাকিজ খাঁন বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন। এই মামলার হকুমের আসামী আয়ুব খাঁন হাই কোর্ট থেকে জামিনে এসে নি¤œ আদালতে হাজিরার সময় চলে যাওয়ার পরও হাজির না হয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
নিহত মজিবুর রহমানের পরিবার সূত্রে জানাযায়, নিহত মজিবুর উপজেলার ইমামগঞ্জ বাজারে ছোট একটা বেকারীতে রুটি এবং বেকারী পণ্য প্রস্তুত করে বিক্রি করত। স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে খুব ভালোভাবে চলছিল মজিবুরের সংসার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে অভিবাক হারিয়ে অনেকটা নি:স্ব হয়ে গেছে পরিবারটি। মজিবুরের স্ত্রী শোকে কাতর, মেয়ে স্কুল যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। ছেলেরা ন্যায় বিচার পেতে প্রশানের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভয় আর আতংকে দিন কাটছে তাদের প্রতিটা দিন।
নিহত মুজিবরের ছেলে মামলার বাদী আরিফ অভিযোগ করে বলেন, মামলা করার পর পর পুলিশের বেশ তৎপরতা ছিল। এখন পুলিশের তৎপরতা নেই। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দীর্ঘ ৮ মাসে একবারও বাড়ীতে আসেনি। আমাদের লোকদের কাছ থেকে কোন স্বাক্ষী নেয়নি। গত কদিন ধরে তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাদের নিয়মিত খবর দিয়ে থানায় নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রাখে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, চার্জশীটে এজহার ভূক্ত আসামীদের মধ্য থেকে পাকিঁজ খান উড়ফে পাখি ও আইয়ুব খানের নাম চার্জশীট থেকে বাদ দেওয়ার পায়তারা করা হচ্ছে ।
বিষয়টি অস্বীকার করে মামলার তদন্তকারী কমৃকর্তা এস আই সুমন মিয়া বলেন, মামলাটি তদন্ত চলছে । আপনি ওসি সাহেবের সাথে কথা বলুন ।
পরে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম এর কাছে মজিবুর হত্যা মামলার বিষয়ে জানতে গেলে তিনি বলেন আপনারা তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে কথা বলুন । আমি এ বিষয়ে সঠিক কিছু বলতে পারবো না।
স/এষ্

